নভেম্বর ০৬, ২০১৮ ১৫:৪৩ Asia/Dhaka

আজকের আসরে আমরা একটু ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো। সেটা হলো প্রযুক্তি এবং কারিগরি সেবার ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান। তেল সম্পদের বাইরে ইরানের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হলো এই কারিগরি ও প্রযুক্তি খাত। গত দুই দশকে ইরান নিজেদের মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। একইসাথে কারিগরি ও প্রযুক্তি খাতেও রপ্তানি বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।

প্রযুক্তি ও কারিগরি সেবা ইরানের তেল বহির্ভূত গুরুত্বপূর্ণ একটি রপ্তানি খাত। এই খাতের মধ্যে পড়ে ম্যানেজমেন্ট, জ্ঞান ও শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কারিগরি খাতসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতা ও মেধাবি নৈপুণ্য ইত্যাদি। কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা প্রদানের কাজ কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট সীমা বা কাঠামোর মধ্যেই সীমিত থাকতে পারে। আবার সীমান্ত অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিস্তৃতি পেতে পারে। কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা রপ্তানি বলতে জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ জনশক্তি রপ্তানি বোঝায়। যে-কোনো প্রযুক্তির কারিগরি দিকসহ তার ব্যবহার বিদ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে তাই তার আবিষ্কারক কিংবা তার প্রতিনিধি এবং ওই প্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করেছে, সেইসব অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনী, সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার, বিশেষজ্ঞসহ সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রপ্তানি করতে হয়।

তেল, গ্যাস এবং প্যাট্রো-কেমিক্যাল পণ্য সামগ্রি,খনিজ পণ্য কিংবা শিল্প ও কৃষিজ সামগ্রি উৎপাদন করার পর সেগুলো যখন রপ্তানি করা হয় তখন তার ওপর থেকে উৎপাদনকারীর মালিকানা সত্ত্ব চলে যায়। কিন্তু কারিগরি ও প্রযুক্তি বিষয়ক পণ্য সামগ্রি রপ্তানি করার মধ্য দিয়ে উল্টো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় পরবর্তী দায়িত্ব বেড়ে যায়। এটাকে বলা হয় বিক্রয়োত্তর সেবা। এই সেবার মাধ্যমে এ ধরনের পণ্য সামগ্রির রপ্তানি আরও বেড়ে যায়। এভাবে বিশ্বব্যাপী সেবা রপ্তানি করা হয়। বর্তমান বিশ্বে বেশিরভাগ সেবাই রপ্তানিযোগ্য। জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি সেবা এভাবেই এখন বিশ্বের একটি মূল্যবান পণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই সেবাকে কাস্টমার সার্ভিস বলে অভিহিত করা হয়। এই সার্ভিসের পরিধি ব্যাপক বিস্তৃত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী এই সেবাকে বারোটি পর্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

বলছিলাম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী সেবাকে বারোটি পর্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সেবা, আর্থিক বিভাগ, সামাজিক সেবা, পরিবহণ সেবা, যোগাযোগ, সরবরাহ, পরিবেশ বিভাগ, বিনোদন ও পর্যটন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিভাগ, বাণিজ্যিক বিভাগ, কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা বিভাগসহ আরও বহুরকম সেবা এর অন্তর্ভুক্ত। বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের সেঙ্গ সঙ্গে সেবার ক্ষেত্রেও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকৌশল ও কারিগরি সেবার মান অসম্ভব রকম বেড়েছে। তৃতীয় সহস্রাব্দে বৈশ্বিক লেনদেনে তাই কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা রপ্তানির মাত্রা ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা চলতি সহস্রাব্দের গোড়ার দিকেই বিশ্বে এই সেবার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলার ছেড়ে গেছে।

প্রযুক্তি ও কারিগরি খাতে ইরানের কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতা অনেক। বলা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি প্রায় বিশ বছর আগে থেকেই চলে এসেছে। সেই ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের বেশ কয়েকটি নামকরা ও প্রসিদ্ধ প্রকৌশল ও নির্মাণ কোম্পানি পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছিল। তারপর থেকে বিশ্বের আরও অনেক দেশেই একই রকমের সেবা দিয়ে এসেছে ইরান। প্রতিযোগিতামূলক এই সেবায় ইরানের অর্জন চোখে পড়ার মতো। উন্নত সেবা প্রদানের কারণেই ইরানি কোম্পানিগুলো এই সাফল্য পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি প্রকৌশল কোম্পানিগুলো অন্তত ৭০০ প্রকল্পে কাজ করেছে। ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার পরিসংখ্যানে যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করবো একটু মিউজিক বিরতির পর।

ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী যেসব দেশে ইরানি প্রকৌশল কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, ইরাক, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকোয়াটোরিয়াল গিনি, শ্রীলংকা, কেনিয়া, সুদান এবং কাজাখিস্তান, কিরঘিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও তাজিকিস্তানের মতো বহু দেশ। এইসব দেশে যে ধরনের প্রকৌশল সেবা দিয়েছে ইরানের কোম্পানিগুলো সেসবের মধ্যে রয়েছে শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, ভবন নির্মাণ ইত্যাদি। বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রেও ইরানের রয়েছে চমৎকার ও সুনিপুণ অভিজ্ঞতা। বাঁধ নির্মাণ শিল্প নির্মাণ শিল্পেরই একটি শাখা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিগণিত।

বাঁধ নির্মাণ শিল্পকে ইরানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্মাণ শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানে এই বাঁধ নির্মাণ শিল্পের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে ইরান একটা শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক অঞ্চলে পড়েছে। অনতিদূর অতীতে এই ইরান ভূখণ্ড ছিল পানি স্বল্পতা সম্পন্ন একটি এলাকা। ইরানের বিশেষজ্ঞরা শহর, নগর, গ্রামের উন্নয়ন ঘটিয়ে আল্লাহর দেয়া নিয়ামত বৃষ্টি ও বরফের পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এই সংরক্ষণ ব্যবস্থার একটি হলো বাঁধ নির্মাণ। এ নিয়ে সুযোগ পেলে আমরা পরবর্তী আসরে আরেকটু কথা বলার চেষ্টা করবো। আজ আর হাতে একদম সময় নেই।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/  ৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন