'পরাজয়ের পর বিএনপির নালিশ ছাড়া কোনো অবলম্বন নেই: কাদের
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৫ জানুয়ারি শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- সুবর্ণচরের সেই নারীকে সান্ত্বনা দিয়ে কাঁদলেন ফখরুল-প্রথম আলো
- 'পরাজয়ের পর বিএনপির নালিশ ছাড়া কোনো অবলম্বন নেই: কাদের-দৈনিক কালের কণ্ঠ
- সুবর্ণচরের সেই রুহুল আমিনকে আ লীগ থেকে বহিষ্কার-দৈনিক যুগান্তর
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের অভিনন্দন-ইত্তেফাক
- ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের-মানবজমিন
- সবাইকে সমান সুযোগ দিতে সহ-রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ সিইসির-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম
- বিজেপিকে চাপে ফেলে উত্তরপ্রদেশে জোট বাঁধছেন মায়া-অখিলেশ, তবে ব্রাত্য কংগ্রেস-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- কঠোর মমতা, টানা ৪ দিন রাজ্য কর্মীদের ছুটি বাতিল-দৈনিক বর্তমান
- দাম বিতর্ক বাদ দিয়েই শুনানি রাফাল মামলার: সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক এই সময়
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
কথাবার্তার প্রশ্ন
১. একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারে থাকবে না বিরোধী দলে এ নিয়ে এখনো নানা আলোচনা চলছে। আসলে কী হতে যাচ্ছে?
২. সৌগি আরবে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিচার যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। বিচার তো করছেই তারপরও জাতিসংঘ কেন বলছে ‘যথেষ্ট নয়’?
সুবর্ণচরের সেই নারীকে সান্ত্বনা দিয়ে কাঁদলেন ফখরুল-প্রথম আলো
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার নারীকে সান্ত্বনা ও অভয় দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বোন, আমরা তোমার পাশে আছি। তোমার কোনো ভয় নেই। এ সময় আবেগাপ্লুত বিএনপির মহাসচিব ওই নারীর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে দেখতে যান। ঢাকা থেকে সকাল সাতটার দিকে তাঁরা নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন। ওই নারীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই নির্মমতার অবশ্যই একদিন বিচার হবে। আল্লাহ বিচার করবেন।’
মাথায় হাত বোলানোর সময় কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাদের অনেকের চোখ ভিজে যায়। ওই নারীর স্বামীও বিএনপি মহাসচিবকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। এরপর জেএসডির আ স ম আবদুর রব ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মাথায় হাত বুলিয়ে ওই নারীকে সান্ত্বনা দেন। পরে বিএনপির মহাসচিব, আ স ম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী ওই নারীকে আর্থিক সহায়তা দেন। তাঁরা ওই নারীর স্বামী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনের দিন নারীকে গণধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে সহিংসতার সৃষ্টি যারা করেছে, তাতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। এমনকি আমার বোন, নোয়াখালীতে তিনি ধর্ষণের শিকার পর্যন্ত হয়েছেন, তিনি চার সন্তানের মা। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিচার দিচ্ছি জনগণের কাছে।’
নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে জনগণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সে জন্য এখন তারা গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতালে মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে আরও ছিলেন বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও বরকত উল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রমুখ।
'পরাজয়ের পর বিএনপির নালিশ ছাড়া কোনো অবলম্বন নেই: কাদের-দৈনিক কালের কণ্ঠ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপির নালিশ ছাড়া আর কোনো অবলম্বন নেই।
আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদক মন্ডলীর সাথে সহযোগী সংগঠনের যৌথসভার পূর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির বিদেশিদের কাছে নালিশ করা ছাড়া এখন আর অবলম্বন কি? ১০ বছর ধরে একটা আন্দোলন করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ, এখন তাদের নালিশ ছাড়া আর কোনো অবলম্বন নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা দেশের লোকের কাছে তো অনেক বলেছে, এখন বিদেশিদের কাছে তারা নালিশ করে যাচ্ছে। সেটা তাদের পুরানো অভ্যাস, পুরানো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এখানে আমাদের কি বলার আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেসব কথা বার্তা বলছেন, এটা আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ একজন রাজনীতিকের অসংলগ্ন সংলাপ।’
সুবর্ণচরের সেই রুহুল আমিনকে আ' লীগ থেকে বহিষ্কার-দৈনিক যুগান্তর
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এসময় বৈঠকে ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. হানিফ, সহ-সভাপতি ছানা উল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল বাসার প্রমুখ। গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনগত রাতে ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এক গৃহবধূ ধর্ষণ করা হয়। এর পর ঘটনাটি কাউকে না বলতে এবং মামলা না করতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী নয় জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূলহোতা রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ধানের শীষে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে।
ধর্ষকরা হল- একই গ্রামের মো. তোফায়েলের ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী ও সন্ত্রাসী মোশাররফ হোসেন, ইসমাইলের ছেলে সোহেল, আবুল কাশেমের ছেলে বেছু, আবুল কালামের ছেলে সোহেল, আবদুল মন্নানের ছেলে স্বপন, ইউসুফের ছেলে আনোয়ার, নুরুল হকের ছেলে আমীর হোসেন, বাগন আলী ওরফে ইসমাইলের ছেলে মো. হানিফ, টোকাইর ছেলে সালাউদ্দিন, খোরশেদের ছেলে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুহুল আমিন, আহমদ উল্লাহর ছেলে বাদশা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের অভিনন্দন-ইত্তেফাক
একাদশ জাতীয় সংসদের নেতা নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ায় শনিবার এক অভিনন্দন বার্তায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার এ কৃতিত্ব শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, গণতান্ত্রিক বিশ্বেও বিরল। এটা গণতন্ত্রের জন্যেও সম্মানের বিষয়।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের ধারা আরো বেগবান হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে বিরোধী দল সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করবে।
‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের-মানবজমিন
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। গতকাল জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মানবাধিকার কমিশনারের মুখপাত্র রাবিনা শ্যামদাসানি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে তদন্ত করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ তদন্ত হতে হবে দায়ী ব্যক্তিদের দল-মত নির্বিশেষে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে নতুন করে এ ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা রোধ করার জন্য জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আইন অনুযায়ী বৈধতা ও সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ ছাড়া, বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বনির্ভর ও স্বনিয়ন্ত্রিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। শুধু নির্বাচনের দিনেই নিহত ও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে।
উদ্বেগজনক ইঙ্গিত রয়েছে যে, বিরোধীদলের ওপর প্রতিশোধমূলক শারীরিক আক্রমণ, অসদাচরণ, হয়রানি, ঢালাও গ্রেপ্তার, গুম ও মামলা দেয়া অব্যাহত থাকবে। খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা একতরফাভাবে এই ভীতিপ্রদর্শন ও সহিংস আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকি অনেক সময় এতে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সহায়তা বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, আহত করা হচ্ছে বা তাদের জিনিসপত্র (ক্যামেরা) ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে মুক্তভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে সংবাদ প্রকাশের কারণে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১০ই ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪টি সংবাদ ও অন্যান্য ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ভোটগ্রহণের পুরো দিন ইন্টারনেট সীমিত করে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠনসহ মুক্ত মত প্রকাশে বিশ্বাসী মানুষদের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি পুনঃনির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভও পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো আইনের আওতায় মামলা দেয়া হয়েছে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে গণআন্দোলন: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও আদালত- কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গত ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে যাদের নির্বাচিত বলে ঘোষণা করেছে তারা কেউই নির্বাচিত নয়। এবং যাদের গেজেট প্রকাশ করেছে তারা কেউই জনপ্রতিনিধি নয়। শনিবার বিকালে সেগুন বাগিচায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে (২য় তলায়) গণফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা ইতোপূর্বে এই নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। অবিলম্বে নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাই।
তিনি আরো বলেন, তা না হলে ঐক্যবদ্ধ জনগনকে সাথে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের হারানো গণতন্ত্র পুনরোদ্ধার করবো। জনগন ঐক্যবদ্ধ থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন, কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে গণফোরামের যে দুই নেতা নির্বাচিত হয়েছে তাদের শপথ গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরি, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর আহম্মদ, মোকাব্বের খান প্রমুখ।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
বিজেপিকে চাপে ফেলে উত্তরপ্রদেশে জোট বাঁধছেন মায়া-অখিলেশ, তবে ব্রাত্য কংগ্রেস-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে জোট বাঁধতে চলেছেন অখিলেশ-মায়াবতী। তবে সেই জোটে কংগ্রেসকে সামিল করতে চাইছেন না তাঁরা। জোট নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবারই সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। সেই আলোচনায় এমনটাই উঠে এসেছে বলে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) সূত্রে খবর।
ওই বৈঠকে জোট নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগামী ১৫ জানুয়ারির পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসপিএবং মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) নিজেদের মধ্যে আসন সমান ভাবে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে। অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) –কে তিনটে আসন দেওয়া হতে পারে। তবে অমেঠী ও রায়বরেলী-এই দুটো আসন কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ওই সূত্রটির দাবি।

কংগ্রেসের সঙ্গে যে জোটে যাবেন না অখিলেশ, ইঙ্গিতটা মিলেছিল মধ্যপ্রদেশে সরকার গঠনের পর। অখিলেশ চেয়েছিলেন, মধ্যপ্রদেশে তাঁর দলের বিধায়ককে কোনও মন্ত্রিত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু তা করেনি কংগ্রেস। আর তাতেই নাকি ক্ষুব্ধ হন অখিলেশ। তিনি উষ্মা প্রকাশ করে জানান, মধ্যপ্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছতে তাঁর দল যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে কংগ্রেসকে। কিন্তু তার পরেও কথা রাখেনি তারা। সপা-র বিধায়ককে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে যে কংগ্রেস নিজের ক্ষতিই করল সেই ইঙ্গিতও দেন অখিলেশ। সেই সময় তিনি বলেন, “আমাদের বিধায়ককে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে উত্তরপ্রদেশে নিজেদের পথটা পরিষ্কার করে দিল কংগ্রেস।”
কঠোর মমতা, টানা ৪ দিন রাজ্য কর্মীদের ছুটি বাতিল-দৈনিক আজকাল
আগামী ৮ ও ৯ জানুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে সমর্থন চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। সমর্থন তো দূর অস্ত, উল্টে ধর্মঘটের মোকাবিলায় আরও কঠোর অবস্থান নিলেন মমতা। ওই দু’দিন রাজ্যে সব কিছু সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালানো হবে অতিরিক্ত বাস। অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারীরা ৭ থেকে ১০ জানুয়ারি ছুটি নিতে পারবেন না বলে শুক্রবার অর্থদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিজেপির বিরোধিতায় সবরকম আন্দোলনে তিনি আছেন। কিন্তু বন্ধ বা ধর্মঘট করে নয়। তিনি বন্ধ ও ধর্মঘটকে কখনও সমর্থন করেন না। বিরোধী দলের নেত্রী থাকার সময় থেকেই তিনি বন্ধের রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন। ক্ষমতায় আসার পর একদিনও বন্ধ ডাকেননি তিনি।
বাম-অবাম ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে ১২ দফা দাবিতে ৮ ও ৯ জানুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এ রাজ্যে বাম ট্রেড ইউনিয়ন, কো-অর্ডিনেশন কমিটি সহ অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে এই ধর্মঘটে আরও তিনটি দাবি যুক্ত করেছে। সেগুলি হল, বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করতে হবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। এই সব দাবিতে ধর্মঘট ডাকার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই দু’দিন রাজ্যের সব স্কুল, কলেজ, অফিস, কারখানা খোলা রাখা হবে। সরকারি কর্মচারীদের অফিসে আসাটাও বাধ্যতামূলক। যাতে কর্মচারীদের আসা-যাওয়ায় কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ ব্যবস্থা থাকবে। চালানো হবে বাড়তি বাস। এ জন্য কসবার পরিবহণ ভবনে বেসরকারি বাস, ট্যাক্সি, অটো মালিকদের ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অফিসাররা। বাস পরিষেবা চালু রাখতে মালিকদেরও বলা হয়েছে।
ফের বিজেপির বিরোধিতা, মানবাধিকার নিয়ে বড় মঞ্চে নাসিরুদ্দিন-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
নবাধিকার সংগঠনের মঞ্চ থেকে ফের সরকারের সমালোচনায় নাসিরুদ্দিন শাহ। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভারত সরকারের কাছে অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে হিংসা থামানোর আবেদন রাখেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর দাবি, ধর্মের নামে সবার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হিংসা, হানাহানি, ঘৃণার আবহ তৈরি করা হচ্ছে। নিরীহদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় সংবিধান সব ধর্মকে নিয়ে বাঁচার কথাই বলে এসেছে চিরকাল। নতুন বছরে দেশের পরিবেশ পালটানোর আবেদন করলেন নাসিরুদ্দিন।
কয়েকদিন আগে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামত রাখেন নাসিরুদ্দিন। তা নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয় শোরগোল। একটি সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দিন জানান দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁর ভয় হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের ধর্ম নিয়ে কোনও শিক্ষা দেননি। কিন্তু যেভাবে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হচ্ছে, তার নিন্দা করেন নাসিরুদ্দিন। বুলন্দশহরের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সঙ্গে জানান, এখন দেশের কোনও বিষয় নিয়ে কথা বলা মানেই দেশদ্রোহীর তকমা পাওয়া। এবার অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। মানবাধিকার সংগঠনের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে নাসিরুদ্দিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এই ভিডিওতে অভিনেতা বলেন, “১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধান আনা হয়েছিল। তখন থেকে সংবিধানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকভাবে বিভেদ থাকা সত্ত্বেও এখানে সবার গুরুত্ব সমান। মানুষ নিজের ভাবনা, অভিব্যক্তি, বিশ্বাস স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ সমান চোখে দেখা হয়। প্রত্যেকের জীবনবোধকে সম্মান জানানো হয়। কিছু মানুষ দেশকে রক্ষা করছেন। অনেকে আবার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। অনেকে অধিকারের জন্য লড়াই করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন কেউ কেউ। সংবিধানে এদের সবার জন্য জায়গা আছে।” দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে যে তিনি একেবারেই খুশি নন, আরও একবার জানিয়ে দিলেন নাসিরুদ্দিন। আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বলেন, “এখন সবার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শিল্পী, অভিনেতা, স্কলার, কবি সবাইকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকরাও নীরব । ধর্মের নামে দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরীহদের হত্যালীলা চলছে। দেশে মারাত্মকভাবে হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তাদের অফিসে তল্লাশি চলছে। লাইসেন্স ক্যানসেল করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। যে কোনও ভাবে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটা উদ্দেশ্য, যাতে সত্যি কথা কখনও সামনে না আসে। সংবিধানে কি এসবকে কখনও সমর্থন করা হয়েছে? ভিন্নমত পোষণ করার স্বপ্নও দেখা যাতে বন্ধ হয়ে যায়। এখন ধনী ও শক্তিশালীর কথা শোনা হয়, আর গরীব ও অনগ্রসরদের দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একসময় এদেশে আইন ছিল। এখন সবই অন্ধকার।”#
তো শ্রোতাবন্ধুরা কথাবার্তার আজকের আসর এখানেই গুটিয়ে নিচ্ছি। কথা হবে আবারো আগামী আসরে। ততক্ষণ ভালো ও সুস্থ্য থাকুন।
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৫
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন