আগস্ট ০৯, ২০১৯ ১৬:২২ Asia/Dhaka

শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস। ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন, দু’ব্যক্তির মধ্যে মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি হলে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আগে অপরজনের কাছে ক্ষমা চাইবে সে অপরজনের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

খ. মূল্যবান সময়োপযোগী হাদিস শুনলাম। এবারে চিঠিপত্রের দিকে নজর দেই।  আজকের আসরের প্রথমেই যে ইমেইল হাতে তুলে নিলাম তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। রাজধানী ঢাকার সতিশ গেণ্ডারিয়া থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো বিদগ্ধ শ্রোতা ভাই মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। পবিত্র রজমান মাসে প্রচারিত রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। জিল্লুর রহমান লিখেছেন  আমি লক্ষ্য করেছি,আপনারা রমযান মাসে শ্রোতাদের চিঠিপত্রের অনুষ্ঠান প্রিয়জনের আসরের পরিবর্তে রমযানঃ রহমতের বসন্ত শীর্ষক একটি ধারাবাহিক আলোচনা শ্রোতাদের জন্য পেশ করেছেন।

ক. এরপর তিনি আরো লিখেছেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ যা অন্যান্য গণমাধ্যমে সচরাচর চোখে পড়ে না। এমনিতেই রমযান সকল মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারণ এ মাসে মহাগ্রন্থ আল-কোরান নাযিল হয়েছে এবং এ মাসের যেকোন ইবাদতের প্রতিফল, আল্লাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাছাড়া, রমযানের পুরষ্কার আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ধন্যবাদ রেডিও তেহরানকে এ রকম একটি জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শ্রোতাদের উপহার প্রদানের জন্য।

বহলুল: জ্বি ভাই জিল্লুর রহমান আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। ইমেইল পাঠানো অব্যাহত রাখবেন এবং অন্যদেরকে চিঠি লিখতে উৎসাহিত করবেন।

খ. এদিকে রেডিও তেহরানের লাইভ অনুষ্ঠানে ভাই শফিকুল ইসলামের মন্তব্য আমাদের নজরে পড়েছে। তিনি লিখেছেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলার একমাত্র দেশ হচ্ছে ইরান। ইসরায়েলের দাদাগিরি রক্ষা করার জন্য আমেরিকা সাপোর্ট করে তাকে।  তাছাড়াও ওদের জাতভাই বলা যেতে পারে ইহুদিবাদীদেরকে। যেদিন ইহুদিবাদীদের দাদাগিরি বন্ধ হবে সেইদিন থেকে প্যালেস্টাইন শান্তি পাবে।

বহলুল: একেবারে হক কথা। আচ্ছা এই ইরান আমেরিকা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে...

ক. বহলুল ভাই, থামুন। আপনি কি বলবেন তা আমরা জানি। আর জানি বলেই আজ স্টুডিওতে উপস্থিত হয়েছে ড. সোহেল আহমেদ। তিনি ইরান-আমেরিকা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আজ আলোচনা করবেন।

বহলুল: দারুণ বলেছেন ড. সোহেল।

খ. এতোক্ষণ ইরান-আমেরিকা চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছিলেন ড. সোহেল আহমেদ। ধন্যবাদ সোহেল ভাই ভবিষ্যতে আপনার কাছ থেকে আরও বিশ্লেষণ শোনার ইচ্ছা রইল।

বহলুল: আজ হাতে সময় একেবারেই কম।

ক. সেজন্যেই তো একদমে শুরু করছি। হ্যাঁ রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটে ৩ জুন প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল- আমেরিকার সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য যুদ্ধ ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। খবরটিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরে হস্তক্ষেপ করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বেইজিং বলেছে, আমেরিকার সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য যুদ্ধ ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংগে রোববার সিঙ্গাপুরে এক সম্মেলননে দেয়া বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেইজিং যেকোনো মূল্যেদক্ষিণ চীন সাগর ও স্বায়ত্বশাসিত তাইওয়ানের ওপর নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

খ. সিল্ক রোড ছদ্মনামের পাঠক ভাই এ খবরে মন্তব্য করেছেন, হুমকি ও রক্তচক্ষু দেখানো জাতি, বিশ্বময় অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রাখা জাতী এবং আধুনিক কালের আবু লাহাব বা আগুনের পিতাদের জন্মদাতা আমেরিকার ধ্বংস অনিবার্য।

বহলুল: কঠোর মন্তব্য কিন্তু দ্বিমত হওয়ার অবকাশ কম। তা যাগকে। এরপরের খবরটি কি?

ক. হ্যা ট্রাম্পকে বার্তা দেবো না,তিনি বার্তা পাওয়ার যোগ্য নন শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে জুন মাসের ১৩ তারিখে। এ খবরে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমি ব্যক্তি ট্রাম্পকে কোনো বার্তা পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করি না। তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোনো বার্তা নেই। তাকে আমি কোনো বার্তা দেবো না। তেহরানে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

খ. রেডিও তেহরানে ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে মন্তব্যের ঝড় বয়ে গেছে। ভাই নুরে আলম মাসুদ লিখেছেন, অসাধারণ! মুসলিম উম্মাহর রাহবার বা নেতার এমনই হওয়া উচিত। এমন হওয়া উচিত নয় যে, ট্রাম্প নির্বাচিত হবার পর অভিনন্দন জানাবে, কিংবা মোদি নির্বাচিত হবার পর অভিনন্দন জানাবে।

ক. এদিকে আজকের আসর আর বড় করা সম্ভব হবে না। মানে এ নিয়ে বেশি কথা বলা যাবে না সময়ের অভাবে...।

বহলুল: এখানেই আসর গুটাতে হবে। তাই না?

ক. হ্যা বহলুল ভাই তাই। শ্রোতাবন্ধুরা দেখতে দেখতে আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে। এবার বিদায়ের পালা। যারা চিঠি দিয়েছেন, খবরে মন্তব্য করেছেন এবং এতোক্ষণ ধরে অনুষ্ঠান শুনেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে

খ. আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#