সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ ১০:৩৩ Asia/Dhaka

ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা থেকে ব্যাপকভিত্তিক সম্পদ আহরণ করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারি। তবে সেটি কিছুটা সময়ের ব্যাপার এবং প্রয়োজন বিদেশি সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ

রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ব্লু ইকোনমি নিয়ে গবেষণারত উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. দিলরুবা চৌধুরী। 

রেডিও তেহরান: ড. দিলরুবা চৌধুরী। বর্তমানে  ব্লু ইকোনমি বা সুনীল সমুদ্রের অর্থনীতি বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বেশ আলোচনা হচ্ছে। তো  ব্লু-ইকোনমি বলতে আসলে কি বোঝায়? 

ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনা

ড. দিলরুবা চৌধুরী: দেখুন, সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি বলতে যা বোঝায় সেটি হচ্ছে, সমুদ্রের রং নীল। আর সেকারণেই সমুদ্রকেন্দ্রীক যে অর্থনীতি তাকে সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি বলা হয়। তবে বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লু ইকোনমির আধুনিক সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সমুদ্রে যে পানি আছে এবং এর তলদেশে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে সেই সবধরনের সম্পদকে যদি আমরা টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করি তবে তাকে ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি বলে। 

রেডিও তেহরান: ড. দিলরুবা চৌধুরী- আপনি ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির বিষয়টি বললেন। তো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনার ক্ষেত্রটা আসলে কতটুকু?

ড. দিলরুবা চৌধুরী: দেখুন, হয়তো আপনারা সবাই জেনে থাকবেন আমরা সমুদ্র জয় করেছি। আমাদের পূর্বের সমুদ্রের যে সীমানা ছিল তার চেয়ে বর্তমান সমুদ্রসীমা অনেক বেড়েছে। ২০১৪ সালে মিয়ানমারের কাছ থেকে আমরা সমুদ্র জয় করেছি। এতে আমাদের সমুদ্রসীমা বেড়েছে পুরো বাংলাদেশের সমান প্রায় আরেকটি অংশ।

যেহেতু আমাদের সমুদ্রসীমা অনেক বেড়েছে ফলে এই বিশাল পরিমাণ সমুদ্রকে আমরা কীভাবে কাজাতে লাগাতে পারি সেটা অন্যতম বিষয় বা এই সমুদ্র থেকে আমরা কী কী সম্পদ পেতে পারি সেটা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

আর সমুদ্র সম্পদের মধ্যে বলব যখন থেকে  সমুদ্র আছে তখন থেকেই সমুদ্র বাণিজ্য চলছে। আমাদের চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দেশ বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে এবং এরমাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছি।

রেডিও তেহরান: আপনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্র বন্দরের কথা বললেন এর বাইরে ব্লু- ইকোনোমিতে বাংলাদেশের আর কি কি সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন।

বাংলাদেশের সমুদ্রের বিশাল মৎস সম্পদ

ড. দিলরুবা চৌধুরী: সমুদ্র সম্পদের মধ্যে বন্দরের কথা তো বললাম। এছাড়া মৎস সম্পদ রয়েছে। তবে যে বিশাল সমুদ্রসীমা পেয়েছি সেটাকে এখনও আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি নি। কারণ আমাদের প্রযুক্তিগত অক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার দিকে যেতে পারতাম তাহলে আরও অনেক বেশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারতাম।

সামুদ্রিক মাছ নিয়ে আমি কিছু কথা এখানে বলতে চাই।  আমরা জানি সমুদ্রের মাছ আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। তবে আমাদের কি পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ আছে সেটা আমরা এখনও জানি না। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে একটি বিষয় জানা গেছে। সেটি হচ্ছে আমাদের সমুদ্রের মধ্যে একটি গিরিখাদের মতো জায়গা রয়েছে। যার পরিমাণ ১ হাজার ৭ শ ৩৮ বর্গকিলোমিটার। এর গভীরতা ৯ শ মিটার। এটি থাকার কারণে এখানে যেকোনো প্রজাতির মাছের প্রজননের জন্য খুবই ভালো একটি অঞ্চল। এর কারণে আমাদের জীববৈচিত্র ধরে রাখার বিষয়টি খুবই সহায়ক হচ্ছে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্প

সমুদ্রের অফুরন্ত সম্ভাবনার মধ্যে মাছের বাইরে রয়েছে, জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি, তেল-গ্যাস, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজভাঙা শিল্প, সামুদ্রিক জলজ প্রাণীর চাষাবাদ, লবণ উৎপাদন, সমুদ্র পর্যটন। শিপিং শিল্পের কথা না বললেই নয়। জাহাজ নির্মাণ আমরা শুরু করেছি। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কারণে জাহাজভাঙা শিল্পটি আপাতত বন্ধ আছে। আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজ আসত আমাদের এখানে। সেগুলো ভাঙার কাজ করা হতো। কিন্তু আমাদের পরিবেশবিদরা বলছেন এই পুরনো জাহাজভাঙার ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রের পানি নষ্ট হচ্ছে। যে কারণে জাহজ ভাঙার পরিবর্তে এখন নতুন নতুন জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি খুব লাভজনক একটি শিল্প।

রেডিও তেহরান: আপনি বন্দর ও মৎস সম্পদের কথা বললেন। তো সমুদ্র জয়ের পর বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে সমুদ্র তলদেশে তেল গ্যাসসহ খানিজ সম্পদ অনুসন্ধানে কি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে? আপনি তো এ বিষয়ে গবেষণা করছেন-কি বলবেন এ সম্পর্কে?

গ্যাস ব্লক

ড. দিলরুবা চৌধুরী: বঙ্গোপসাগরে ভারতের হাতে থাকা ১০ টি গ্যাস ব্লকের মধ্যে ৮ টি এবং মিয়ানমারের ১৮টির মধ্যে ১৩ টির মালিকানা পেয়েছে বাংলাদেশ। এসব ব্লক থেকে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট(টিসিএফ) গ্যাস পাওয়া সম্ভব। তেল-গ্যাস ছাড়াও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে আছে রুটাইল, ইলমেনাইট, গার্নেট, মোনাজাইট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট, লিউকক্সিন ও জিরকনসহ মূল্যবান খনিজ পদার্থ রয়েছে।

বাংলাদেশ মালেয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সাথে একত্রে সমুদ্র তলদেশের সম্পদ উত্তোলনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এখনো বলার মতো উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারে নি। সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে এগোচ্ছে। ভালো একটা পর্যায়ে যেতে অন্তত ৪/৫ বছর সময় এখনও লাগবে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা এবং ঢেউ থেকে শক্তি আহরণের জন্য মহেশখালিতে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমুদ্রে ৭ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ের প্রয়োজন হয়। সেটি আমাদের বঙ্গোপসাগরে রয়েছে এবং পতেঙ্গা ও সেন্টমার্টিনসহ কয়েকটি জায়গায় এ ধরনের প্রকল্প হয়েছে। তবে আবারও বলছি বড় ধরনের উদ্যোগের কথা এখনও পর্যন্ত সেভাবে শোনা যায় নি।

রেডিও তেহরান: সমুদ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো সম্ভাবনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা?

অধ্যাপক ড. দিলরুবা চৌধুরী

ড. দিলরুবা চৌধুরী: মহেশখালিতে off shore wind Energy প্রকল্প রয়েছে। বায়ু শক্তি উৎপাদনের জন্য এ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব কাজে সফলতার জন্য আমাদের বিদেশি সাহায্য, প্রুযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু আমি যতটুকু জেনেছি আমাদের সরকার বিদেশি সাহায্যের ওপর খুব একটি নির্ভর করতে চাচ্ছে না। স্বনির্ভরতার মাধ্যমে এগোতে চাচ্ছে আমাদের সরকার। সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন ও তা বিকাশে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে আমাদের দেশে  Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Maritime University Bangladesh নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে Oceanography বিভাগ চালু করা হয়েছে। এভাবে একসময় আমাদের দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে বলে আশা করছি। 

রেডিও তেহরান: ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখছে যদি কোনো পরিসংখ্যান থাকে আপনার কাছে।

ড. দিলরুবা চৌধুরী: দেখুন, সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা অনেক বেশি হলেও এখন পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে বড় রকমের তেমন কোনো অবদান রাখতে পারে নি। তবে আমরা সবাইকে একত্রিত করে যদি সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি নিয়ে চিন্তা করি তাহলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের অভিমত অনুযায়ী সর্বোচ্চ শতকরা ১০ ভাগ জিডিপি অর্জন করা সম্ভব।

রেডিও তেহরান: ব্লু-ইকোনমির জন্য বা সমুদ্রতলের গবেষণাসহ সম্পদ আহরণে বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি কেমন; এ ব্যাপারে বাইরের উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কেমন, তারা কি আগ্রহী বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদেরকে আহ্বান জানানো হচ্ছে কী না?

ড. দিলরুবা চৌধুরী: দেখুন, ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ওপর কাজ করতে গিয়ে আমাদের বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকা। আমি নিজ উদ্যোগে এ সম্পর্কে দুটো বই লিখেছি। বিনিয়োগকারীরা এখাতে আকৃষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাচ্ছে না। ফলে তাদের প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কিসের ভিত্তিতে ব্ল-ইকোনমিতে আকৃষ্ট হব? এইখাতটা যে সম্ভাবনাময় সেটা তো তাদের বোঝাতে হবে কিন্তু সেরকম কোনো কিছু না থাকায় আমি নিজ উদ্যোগেই বইদুটো লিখেছি। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ব্ল ইকোনমি নিয়ে সভা-সেমিনার হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে অনেক আলোচনা সভা হচ্ছে ব্লু-ইকোনমিতে আকৃষ্ট করার জন্য। 

তবে আমার একটি বিশেষ আহ্বান থাকবে মিডিয়ার প্রতি। কিভাবে ব্লু ইকোনমিতে আকৃষ্ট করা যায় সেজন্য বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া যদি আরও বেশি সচেষ্ট হয় তাহলে এক্ষেত্রটি অনেক বেশি এগিয়ে যাবে। এজন্য যদি মিডিয়াকর্মীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে তাঁরাও এগিয়ে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস। এরফলে মিডিয়ায় যদি বেশি বেশি করে ব্লু-ইকোনমি নিয়ে লেখালেখি ও খবর প্রচার করা হয় তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এর প্রতি সহজে আকৃষ্ট হবেন। তারাও বুঝতে পারবেন এই খাতে বিনিয়োগ করা যাবে কি না? এতে দেশি বিদেশি সবরকমের বিনিয়োগকারীরা তথ্য-উপাত্ত পেলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে এবং উপকৃত হবে।

রেডিও তেহরান: ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। তো এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন কি না

ড. দিলরুবা চৌধুরী: ২০১৪ সালের পর বাংলাদেশ একটি ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করেছে। আর এই সেলটি আপাতত কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এটি অ্যানার্জি মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে। আর এই সেলের সাথে আমার সবসময় যোগাযোগ আছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সমস্ত মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছিল ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি লিখিত আকারে জানাতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা অনেকগুলো মিটিং করেছে। এজন্য এই মুহূর্তে করণীয় কি এবং দীর্ঘমেয়াদে কি করণীয় সে সম্পর্কে একটা খসড়া পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। 

রেডিও তেহরান: ড.দিলরুবা চৌধুরী সম্প্রতি বাংলাদেশে তৃতীয় আইওরা সম্মেলন হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একীভূত টেকসই সুনীল অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তে আইওরা সম্মেলন নিয়ে যদি কিছু বলেন।

ঢাকায় তৃতীয় আইওরা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ড. দিলরুবা চৌধুরী: দেখুন, আমি ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করছি সেকারণে তৃতীয় আইওরা সম্মেলনে আমি আমন্ত্রিত ছিলাম না। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে আমি যে বিষয়টি জানতে পেরেছি সেটি হচ্ছে, সুনীল অর্থনীতি যে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আর আইওরা সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর উদ্বোধনের পর  আপনি প্রশ্নের মধ্যেই যেকথাটি বললেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একীভূত টেকসই সুনীল অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি শুনেছি যে সেখানে কয়েক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে আমরা তো আসলে সুনীল অর্থনীতির একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। আমাদের এই মুহূর্তে দরকার এ বিষয়ে একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা। কিভাবে আমরা ব্লু-ইকোনমিকে এগিয়ে নিতে পারব সে ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণা করা। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশ যারা ব্লু-ইকোনমিতে এগিয়ে আছে তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেয়া। আমরা কিভাবে এগোতে পারি সে ব্যাপারে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা ও সর্বোচ্চ সহযোগিতা নেয়া উচিত। আর সেদিক থেকে আমি মনে করি  ব্লু ইকোনমি নিয়ে 'আইওরা' যে সম্মেলনটি হয়েছে ঢাকায় সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৯