অক্টোবর ১৫, ২০১৯ ১৩:৩৪ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনার প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই দেখে নেব ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • আবরার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ- ইত্তেফাক।
  • বুয়েটে কমিটি ভাঙতে নারাজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল- প্রথম আলো।
  • হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজের তালিকায় সেই হুইপ শামশুল- দৈনিক যুগান্তর
  • ৪৩ জনের তালিকা শ’ শ’ কোটি টাকা পাচারের তথ্য- মানবজমিন
  • বহিরাগতদের খুঁজে দল থেকে বের করে দিতে হবে: নানক- নয়াদিগন্ত
  • খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মশাল মিছিল- দৈনিক সমকাল
  • পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি হবে- ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • বিনায়কের সিদ্ধিলাভ, নোবেলে ফের সেরা বাঙালিই- আনন্দবাজার
  • গাঢ় ধূসর তালিকাভুক্তের পথে ইমরানের দেশ, এফএটিএফ বৈঠকে একঘরে পাকিস্তান- আজকাল
  • পুজোয় দলের ৮ কর্মী খুনের বিচার চাইতে আজ রাষ্ট্রপতি-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরবারে বিজেপি নেতৃত্ব-বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

আবরার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ- ইত্তেফাক

বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর হাতে নিহত আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে ইতিমধ্যে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার বিকেলে গণভবনে আবরার ফাহাদের বাবা বরকতউল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সাব্বিরসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাদের এই কথা বলেন।

ওই সময় রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

গণভবনে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এর শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জড়িয়ে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক। আপরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ আটকানোর চেষ্টা করেছে। সেটা তারা কেন করেছে তা এখনো আমার বোধগম্য নয়। তা না হলে হয়তো সব অপরাধী আরও আগেই গ্রেফতার হতো।

তিনি আবরারের মায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাকে স্বান্তনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু বলব আমাকে দেখেন। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম। আমি তখন বিচারও পাইনি।  এই সময় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকতউল্লাহ প্রশাসন ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বুয়েটে কমিটি ভাঙতে নারাজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল- দৈনিক প্রথম আলো

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আর বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দা-কুমড়া সম্পর্ক। পারস্পরিক সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় এ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একই বিন্দুতে অবস্থান নিয়েছে তারা। উভয়েরই আশঙ্কা, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে বুয়েটে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে ‘অন্ধকারের শক্তিরাশি’।

ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের বাইরে বুয়েট ক্যাম্পাসে অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের শাখা কমিটি নেই। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বুয়েটে শুধু ছাত্রলীগের কার্যক্রম দৃশ্যমান। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত তাঁরা মানেন না। তাই নিজেদের বুয়েট শাখা কমিটিও তাঁরা ভাঙবেন না। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে সেখানে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠনগুলো সুযোগ নেবে। এর ফলে প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা সেখানে হুমকির মুখে পড়বে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান বলছেন, বুয়েটে যে সংকট তৈরি হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার মধ্যে তার কোনো সমাধান নেই। ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলোকে বিদায় করার দাবি উঠতে পারে, কিন্তু ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। প্রথম আলোকে নাহিয়ান বলেন, ‘সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শিগগিরই বুয়েট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হবে। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে সেখানে অন্ধকারের শক্তি, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর গোপন তৎপরতার শক্তিবৃদ্ধি হবে, যা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজের তালিকায় সেই হুইপ শামশুল- দৈনিক যুগান্তর

এবার ক্ষমতাসীন দলের হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে নামছে দুদক। এ লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি এবং দলের পদ-পদবি ভাঙিয়ে যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে।  গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট, ইসিতে দেয়া জনপ্রতিনিধিদের হলফনামা ও বিভিন্ন দায়িত্বশীল মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক ওই তালিকা করছে। তবে এর আগে ৪৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা হয়েছে।

সোমবার পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের এমপি শামশুল হক চৌধুরীর নাম আছে, যিনি ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযান শুরু হওয়ার কয়েদিন পর চট্টগ্রামে অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়া ভোলার একটি আসনের সরকার দলীয় এমপির নামও রয়েছে, যিনি একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সূত্র জানায়, র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার এবং দেশ-বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। তবে প্রথম তালিকাভুক্ত ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একাধিক মামলার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সেলের এক পরিচালককে ডেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

৪৩ জনের তালিকা শ’ শ’ কোটি টাকা পাচারের তথ্য- মানবজমিন

ক্যাসিনোর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে একেকজন অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশে-বিদেশে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে শ’ শ’ কোটি   টাকা পাচারের অভিযোগও। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে সম্পদশালীদের এসব তথ্য। একই সঙ্গে তাদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে সংস্থাটির কাছে। এ পর্যন্ত ৪৩ ব্যক্তির নাম হাতে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর নাম আসতে থাকে যুবলীগসহ সরকারদলীয় অনেক নেতার। গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ বেশ কয়েকজনকে। অভিযানকালে ক্যাসিনোয় জড়িতদের বাসায় পাওয়া যায় বড় অংকের টাকাও।

এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পদ থাকার তথ্যও উঠে আসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে।

বহিরাগতদের খুঁজে দল থেকে বের করে দিতে হবে: নানক- নয়াদিগন্ত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদেকে সকল পর্যায়ে খুঁজে তাদেরকে দল থেকে বের করে দিতে হবে। তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থে দল ভারী করার জন্য যারা বিএনপি-জামায়াত থেকে এসব বহিরাগতদের দলে ঢুকিয়ে গ্রুপিং আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদেরকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সব স্থান থেকে খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি সোমবার বিকেলে রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা-২০১৯ তে সভাপতিত্বকালে একথা বলেন।  রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি।

বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় রংপুর বিভাগের ছয়টি সাংগঠনিক জেলা, রংপুর মহানগর, সকল উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন কমিটির সকল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক প্রধান বক্তা হিসেবে সভায় বক্তৃতাকালে সবাইকে দলের আগামী দিনের করণীয় সম্পর্কে মতামত রাখার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মশাল মিছিল- দৈনিক সমকাল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল বের করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ মিছিলটি শুরু হয়। কাকরাইল মোড় হয়ে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য কেরানীগঞ্জ সভানেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক ও মহানগর যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিনসহ কেরানীগঞ্জ বিএনপি ও ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা।

মিছিল শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাদের এ মশাল মিছিল হচ্ছে দ্রোহের আগুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগুন। তারা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিবাদ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।'খালেদা জিয়াকে হয়ত সারা জীবনই জেলে কাটাতে হবে'- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, 'সরকারের নির্দেশে খালেদা জিয়া জেলে গেছেন-এটা তার কথায় প্রমাণিত হলো। তারা দেশ বিক্রি করবে, মাটি করবে, পানি বিক্রি করবে, দেশের উপকূলে অন্যদের পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেবে- এর বিরুদ্ধে যার কণ্ঠ আপোষহীন, দেশের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করার জন্য যিনি সোচ্চার থাকবেন তাকেই তো আপনারা জেলে রাখবেন।'

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি হবে- ইনকিলাব

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীন একটি কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক জাতীয় নীতি, ২০১৯-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৯ এবং বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কিভাবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে সেটা নিয়ে নীতিমালায় অনেকগুলো কথা আছে। বর্জ্য উৎপাদনকারী কারা কারা আছেন, তাদের উৎপাদিত তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি অর্থাৎ যে দূষণ করবে সে টাকা দেবে। এটা আন্তর্জাতিক নীতি। যে দূষণ করবে তাকে টাকা দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এটা হলো মূলনীতি। তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ যুক্তিসঙ্গতভাবে সীমিত রাখতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি অ্যাসেমবিø সিল করা বাক্সে সংরক্ষণসহ পরমাণু চুল্লির রিঅ্যাক্টর কোরের পরিচালন সময়কালে যে কোনো সময় আনলোড করতে হবে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায়। এটা যারা করবে তাদের জন্য বাইন্ডিং।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

বিনায়কের সিদ্ধিলাভ, নোবেলে ফের সেরা বাঙালিই- আনন্দবাজার

বাঙালি ফের বিশ্বজয়ী। একুশ বছর পর আরও এক বার অর্থনীতির নোবেল এল কলকাতায়। ১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেনের পর ২০১৯-এ সম্মানিত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুনিয়াব্যাপী দারিদ্র দূর করার জন্য পরীক্ষামূলক পথের স্বীকৃতি হিসেবেই এল পুরস্কার। তাঁর সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নিলেন তাঁর স্ত্রী এবং একদা ছাত্রী এস্থার দুফলো, এবং হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার। অভিজিৎ ও এস্থার হলেন ‘আবদুল লতিফ জামিলা পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ (জে-প্যাল) নামক গবেষণাকেন্দ্রের যুগ্ম-প্রতিষ্ঠাতা। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে অভিজিৎ আর এস্থার ষষ্ঠ দম্পতি। নোবেলজয়ী অ-শ্বেতাঙ্গ অর্থনীতিবিদ হিসেবে অভিজিৎ তৃতীয়। সেই তিন জনের মধ্যে দু’জনই বাঙালি— বঙ্গবাসীর তা নিয়ে গর্ব হওয়াই তো স্বাভাবিক।

পুরস্কারের সংবাদে বিনয়ী অভিজিৎবাবু বললেন, ‘‘পুরস্কার প্রত্যাশা করিনি। আমার চেয়ে আরও যোগ্য অনেকে আছেন; আমার চেয়ে অভিজ্ঞ, অনেক বেশি দিন অর্থনীতির দুনিয়ায় থাকা মানুষও আছেন।’’ নবজাগরণের বাঙালি সত্তা তো এই উত্তরই দেয়, কারণ বিদ্যা বিনয় দান করে, এই বিশ্বাস বাঙালির মজ্জায়। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক সেই অর্থে বাঙালি। বৃহৎ বাঙালি।

গাঢ় ধূসর তালিকাভুক্তের পথে ইমরানের দেশ, এফএটিএফ বৈঠকে একঘরে পাকিস্তান- আজকাল

চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের ওপর। সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এবার‌ শেষবারের মতো জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে বলা হল পাকিস্তানকে। এটাই ওই দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করার আগে শেষ সতর্কবার্তা। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) প্লেনারি সেশনে ইতিমধ্যে যা ইঙ্গিত মিলেছে তাতে বোঝা যায়, সদস্য দেশগুলি মনে করছে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। ফলে তাকে পাঠানো হতে পারে ডার্ক গ্রে অর্থাৎ গাঢ় ধুসর তালিকায়। কারণ ২৭টি পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র ৬টি করেছে তাঁরা। আগামী ১৮ অক্টোবর পাকিস্তানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে খবর।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুন মাসে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করা হয়। এর পরের পর্যায়টি হল তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা। কিন্তু ধূসর ও কালোর মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী পর্যায় আছে। তা হল গাঢ় ধুসর তালিকা। কোনও দেশকে ওই তালিকায় ফেলা মানে তাকে শেষবারের মতো সতর্ক করা হচ্ছে। প্যারিসের এই নজরদারি সংস্থাটি পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় রাখে এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্যে ওই দেশকে সময় দেয়। এই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয় যে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করতে পারলে তারাও ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

পরিস্থিতি যদি সেদিকে গড়ায় তাহলে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে পাকিস্তানের বর্তমান আর্থিক অবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এখন অত্যন্ত খারাপ আর্থিক অবস্থায় রয়েছে ইমরান খানের দেশ।

পুজোয় দলের ৮ কর্মী খুনের বিচার চাইতে আজ রাষ্ট্রপতি-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরবারে বিজেপি নেতৃত্ব- বর্তমান

পুজোর সময় বাংলার বিভিন্ন জেলায় আটজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতির অভিযোগ নিয়ে আজ, মঙ্গলবার দিল্লির দরবারে যাচ্ছে রাজ্য বিজেপি। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার কথা বঙ্গ বিজেপির এই প্রতিনিধি দলের। দলে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্যসভার এমপি স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ।

জানা গিয়েছে, দেশের সাংবিধানিক প্রধানের কাছে বাংলায় গণতন্ত্র ফেরানোর দাবি তুলবেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানাবেন কৈলাসরা। উল্লেখ্য, পুজোর সময় দলের এই আট কর্মী খুনের ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার কলকাতায় মেয়ো রোডের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। সেখানে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব হাজির ছিলেন। সেখানেই রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর কথা ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঠিক ছিল রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব দিল্লিতে এই ঘটনার সুবিচার চাইতে যাবেন। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার কলকাতায় মহারাষ্ট্র নিবাস হলে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পড়ে যাওয়ায় দিলীপবাবুরা শহরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই মুহূর্তে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন চলছে। বুথ এবং মণ্ডলের মতো নিচু স্তরে নিরাপদে এই ভোট প্রক্রিয়া সারার প্রয়োজনীয় টোটকা দেওয়া হবে আজকের বৈঠকে। দলের সর্বভারতীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ এই বৈঠক পরিচালনা করবেন।

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন