আর্জেন্টিনার আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলা
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- দুটি সংকেত অমান্য করেন তূর্ণা নিশীথার চালক-দৈনিক প্রথম আলো
- প্রতিটি পরিবারকে আমরা দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- ‘৬৪৫ দিন ধরে বন্দি খালেদা জিয়াকে চিরপঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে- দৈনিক যুগান্তর
- ২০০ টাকা ছাড়ালো পেঁয়াজের কেজি: দৈনিক ইত্তেফাক
- সাগর-রুনি হত্যা; ৬৯ বারের মতো পেছালো প্রতিবেদন দাখিলের সময়-দৈনিক মানবজমিন
- আর্জেন্টিনার আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলা–দৈনিক সমকাল–
ভারতের খবর:
- কাশ্মীরি যুবকদের সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ পাকিস্তানেই, মানলেন মুশারফ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- স্বস্তি পেল মোদি সরকার! রাফাল মামলায় পুনর্বিবেচনার সমস্ত আর্জি খারিজ করল শীর্ষ আদালত-দৈনিক আজকাল
- অভিনব উদ্যোগ মমতার, বুলবুল বিধ্বস্তদের নিত্যপ্রয়োজনে ‘ডিগনিটি কিট’ দিচ্ছে রাজ্য-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
দুটি সংকেত অমান্য করেন তূর্ণা নিশীথার চালক-দৈনিক প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার আগে তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার (চালক) একটি নয়, দুটি সংকেত অমান্য করেন। দুর্ঘটনার আগে চারটি সংকেতই তূর্ণার জন্য বিপজ্জনক ছিল। ট্রেন দুর্ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ছাড়া ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত আরেকটি তদন্ত কমিটি গতকাল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের সিআরবিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেয়।
জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একটি রেলস্টেশনে মোট চারটি সংকেত থাকে। আউটার, হোম, স্টার্টার, এডভান্স স্টার্টার। তূর্ণার চালক আউটার ও হোম দুটি সংকেত অমান্য করেছেন। এ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ হাতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার রাত পৌনে তিনটার দিকে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে (বহিঃ অংশে) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ হয়। উদয়নের মাঝামাঝি তিনটি বগিতে সজোরে ঢুকে যায় তূর্ণা নিশীথা। এতে ১৬ জন যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় রেল মন্ত্রণালয়, রেল ভবন ও বিভাগীয় রেলওয়ে কার্যালয় চারটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের একটিসহ মোট পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের চালক ও গার্ড এবং মন্দবাগ ও কসবা স্টেশনমাস্টারসহ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান কার্যালয়ে সাক্ষ্য দেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার জন্য বেশির ভাগ সাক্ষী তূর্ণার লোকোমাস্টার (চালক) ও সহকারী লোকোমাস্টারকে দায়ী করেছেন। তবে চালক তাসের উদ্দিন, সহকারী চালক অপু দে ও গার্ড আবদুর রহমান ঘন কুয়াশায় সংকেত দেখেননি বলে দাবি করেছেন তদন্ত কমিটির কাছে। মন্দবাগ স্টেশনের সামনে ও পেছনে সংকেত না দেখার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তদন্ত দল। এ ছাড়া চালক যদি ভুল করেন, তাহলে গার্ড কেন ভ্যাকুয়াম চাপ দেননি। ভ্যাকুয়াম চেপে (প্রেস করা) ট্রেন থামাতে পারতেন গার্ড।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ স্টেশনের সামনে ও পেছনের সংকেত না দেখার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তদন্ত দল
তদন্ত সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশা পড়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে তদন্ত কমিটির কাছে দাবি করেছেন মন্দবাগ স্টেশনমাস্টার জাকির হোসেন। তিনি তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, তূর্ণার চালক সংকেত অমান্য করে ট্রেন চালানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে আছেন পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত কর্মকর্তা।
তদন্ত কমিটির প্রধান নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চালক, গার্ডসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনরেল মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন ও ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম এই কমিটির প্রধান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) রাশেদা সুলতানা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। যাঁদের গাফিলতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সিগন্যাল প্যানেল বোর্ড, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলাট্রেন দুর্ঘটনায় মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করতে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, তূর্ণা নিশীথা ট্রেন ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন মন্দবাগ স্টেশনে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এখানে উদয়ন এক্সপ্রেসকে এক নম্বর লাইনে নেওয়া হয়। তূর্ণা নিশীথাকে পাস দেওয়া হয়। তূর্ণা নিশীথা ট্রেন অনলাইন এবং সিগন্যালবিহীন অতিক্রম করে। এতে প্রধান লাইন ব্লক হয়। লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিছু লোক মারা যায়।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার সকাল থেকে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।
তূর্ণার চালককে রক্ষার চেষ্টাতূর্ণার লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টারকে রক্ষা করতে নেমেছেন রেলওয়ে লোকো রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তূর্ণার লোকোমাস্টারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি রেলের বিভিন্ন জায়গায় বলে আসছেন।
জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, মন্দবাগ স্টেশন এলাকায় মাটির স্তূপ রয়েছে। মাটির কারণে রাতে সিগন্যাল বাতি (সংকেত) দেখা যায় না। ওই সময় ঘন কুয়াশা ছিল।
গত ৩১ জুলাই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন আহমেদের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিকার না নিয়ে লোকোমাস্টারের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল রেললাইনের কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন লাইন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় মাটি, বালু ও পাথর স্তূপ করে রেখেছে। তবে মাটির স্তূপের জন্য সংকেত দেখা যায় না বলে যে অভিযোগ ওঠে, তা সঠিক নয় বলে রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
প্রতিটি পরিবারকে আমরা দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করেছি। এবার লক্ষ্য দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। দেশের প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা- ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘আমার বাড়ি আমার খামার’সহ বেশকিছু কর্মসূচির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের গৃহীত এসব কর্মসূচির ফলে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আগামীতে এটাকে ১৬ ভাগে নামিয়ে আনতে চাই।’
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহদ রচিত ‘এসো সাম্যের গান গাই’ জাগরণের গান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভূমিহীনদের ভূমি দিয়েছি। যারা গৃহহারা তাদেরকে ঘর করে দিয়েছি এবং এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’-এর মাধ্যমে যেসব সদস্য ১০০ টাকা জমা করবে সরকার তাদেরকে আরও ১০০ টাকা দিচ্ছে। এইভাবে একটা মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পায় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।
তিনি বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। ইতোমধ্যে বেশকিছু জেলা ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা শহরের বস্তিতে বসবাস করে তাদের জন্য ঘরে ফেরা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন দেশে গেলে আমাকে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে কি ম্যাজিক রয়েছে? আমি তাদের বলি, আসলে কোনো ম্যাজিক নেই। দেশকে ভালোবাসা, দেশকে জানা এবং দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা- এটাই হলো মূল ম্যাজিক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখে না। বাংলাদেশ এখন অনেকের কাছেই বিস্ময়। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। ২০০৮ সালের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা তুলনা করলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমরা আমাদের বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সুফল এখন গ্রামের মানুষ পাচ্ছে।
পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনী ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
‘৬৪৫ দিন ধরে বন্দি খালেদা জিয়াকে চিরপঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে- দৈনিক যুগান্তর
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, কারাগারে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপকৌশল প্রয়োগ করছে সরকার। বিনা চিকিৎসায় তাকে কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে। গত ৬৪৫ দিন যাবত বিনা অপরাধে কারাবন্দি খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ এটি দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন। অথচ সবকিছু জেনেও শুধু রুদ্ধকপাট মুক্তিহীন দেশনেত্রীকে রোগে-শোকে কষ্ট দেয়ার জন্যই তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে।
সুচিকৎসার অভাবে ৭৫ বছর বয়স্ক চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি ঘটছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস আওয়ামী লীগের।

সরকার খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ।
বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন না অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোনো চিকিৎসক খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিল তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। নার্সরা তার হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা ফোড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়েছে। অথচ সরকারি চিকৎসকরা দেশনেত্রীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন না।
খালেদা জিয়ার জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। দেশবাসী তার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনলেও স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না সরকার।

রিজভী বলেন, বেগম জিয়ার রিউমেটোয়েড আর্থাইটিসের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান এখনও কোনো মতামত দিচ্ছেন না। অথচ ইতিমধ্যে রিউমেটোয়েড আর্থাইটিসের তিন চিকিৎসক সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট সেটিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান তার বোর্ডের অপর তিন সদস্যকে নিয়ে অদ্যাবধি কোনো বোর্ড মিটিংও করেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্য সদস্যদের জানাচ্ছেন না।
বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুধবার দেশনেত্রীর সঙ্গে তার ভাইবোনরা সাক্ষাৎ করে তার গুরুতর অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। দেশনেত্রী হাইলি অ্যাকটিভ ডিফরমিং, রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। রোগের প্রয়োজনীয় যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হওয়ার কারণে উনার হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। ওঠতে-বসতে পারছেন না। জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা অচিরেই স্থায়ী রুপ ধারণ করতে পারে। হাত, পায়ের আঙুল বেঁকে যাচ্ছে। নিজ হাতে কিছু খেতেও পারছেন না।
সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার এসব জটিল ও গুরুতর রোগ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা উপহাস করছেন। জনগণের সেন্টিমেন্ট তোয়াক্কা করে না বলেই সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়ার সব আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। একদলীয় পলিটিক্যাল মনোপলি বজায় রাখার জন্যই বেগম জিয়ার জীবন বিপন্নের আয়োজনে সরকারের আগ্রাসী অসহিষ্ণুতা প্রবল হয়ে উঠেছে। সে জন্য তার চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে।
জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা হয় না এটি সবাই জানেন। সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় যেকোনো জটিল রোগ ক্রমাগত সুচিকিৎসার অভাবে প্রাণহানির পর্যায়ে উপনীত হয়।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের টালবাহানার পরিণতি ভালো হবে না হুশিয়ার করে বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক, সাহস ও প্রেরণার প্রতীক। সরকারের এই টালবাহানায় খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এখনও সময় আছে, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। দেশটাকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবেন না। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, চারবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন প্রতিহিংসার মিথ্যা মামলায় বন্দি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগহীন একজন মানুষ।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন, এই বিনা ভোটের ভুয়া সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তাকে নিয়ে যা করছে তা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও বলব- এই ষড়যন্ত্র তো অনেক হলো, এবার থামুন। দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আবারও জোর আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০০ টাকা ছাড়ালো পেঁয়াজের কেজি: দৈনিক ইত্তেফাক
ঈশ্বরদীর খুচরা বাজারে আজ বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা। বুধবার পাইকারি আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে।
খুচরা বাজারে বুধবার পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৬০ টাকা। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হলেও বেলা ১২টার দিকে দাম কেজিতে ১০ বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। অর্থাত্ ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মণ প্রতি ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে।
ঈশ্বরদীর বাজারে বিদেশ হতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আড়তদার শহীদ জানান, যেসব পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে সেগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আসছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় শেষ। ঘূর্ণিঝড়ে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর এক লাফে দাম বেড়ে যাওয়াটা ব্যবসায়ীদের নতুন আরেকটি অজুহাত মাত্র। যথাযথ নজরদারির অভাবে প্রশ্রয় পেয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ প্রচুর থাকলেও মোকামে ঘাটতি কথা বলে এই চক্র সকল ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এ মৌসুমে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না পেঁয়াজের দাম।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান বলেন, পেঁয়াজের দাম সারা দেশেই উর্দ্ধমূখি। এ বিষয়ে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সাগর-রুনি হত্যা; ৬৯ বারের মতো পেছালো প্রতিবেদন দাখিলের সময়-দৈনিক মানবজমিন
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ৩০শে ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে প্রতিবেদনটি দাখিলের তারিখ ৬৯ বারের মতো পেছানো হলো।গত ১১ই নভেম্বর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার শফিকুল আলম সেদিন আদালতকে জানান, তদন্তে কোনো ক্লু (সূত্র) পাওয়া যায়নি।
চারটি ডিএনএ প্রতিবেদনের মধ্যে দু’টি মিলেছে। এ দু’টিতে আসামিদের স¤পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে সেগুলো ফের যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই’র ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ওই বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। ১৬ই ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। সেই থেকে সাত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনার আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলা–দৈনিক সমকাল
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার আদালতে মামলা করা হয়েছে। এই প্রথম সু চির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলো। রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকার মানবাধিকার গোষ্ঠী বুধবার এই মামলা করে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
আর্জেন্টিনায় ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশনের’ নীতিতে মামলাটি করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো ঘটনায় এ মামলা করা যায়।মামলায় দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করা হয়েছে।
সু চিসহ দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বে হুমকি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনজীবী টমাস ওজি বলেন, মামলার অভিযোগে মিয়ানমারের গণহত্যায় জড়িতদের নিশাস্তি দাবি করা হয়েছে। তাদের অন্য কোথাও মামলা করার সুযোগ না থাকায় আর্জেন্টিনার আদালতে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে আরেকটি মামলা করেছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ওই মামলা করেছে গাম্বিয়া। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতটি ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত। নেদারল্যান্ডসের শহর দ্য হেগে এই আদালত অবস্থিত।আইনজীবী ওজি বলেন, আশা করছি, এই মামলার ফলে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ।
কাশ্মীরি যুবকদের সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ পাকিস্তানেই, মানলেন মুশারফ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে এমনিতেই কোণঠাসা পাকিস্তান। এ বার তাদের অস্বস্তি বাড়াল দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফের একটি ভিডিয়ো ক্লিপ। তাতে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে কাশ্মীরি যুবকদের পাকিস্তানের মাটিতেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল বলে মেনেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ওসামা বিন লাদেন, জালালউদ্দিন হাক্কানি এবং আয়মান আল-জওয়াহিরির মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের পাকিস্তানের ‘বীর’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সওয়া দু’মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিয়োটি বুধবার টুইটারে পোস্ট করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ফারহাতুল্লা বাবর। তাতে একটি সাক্ষাৎকার চলাকালীন মুশারফ বলেন, ‘‘১৯৭৯ সালে আমাদের হাত ধরেই আফগানিস্তানে ধর্মীয় সন্ত্রাসের উত্থান, যাতে সোভিয়েতদের তাড়ানো যায়, এবং সব দিক থেকে লাভবান হয় পাকিস্তান। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুজাহিদদের এনে জড়ো করি আমরা। ওদের প্রশিক্ষণ দিই, অস্ত্র সরবরাহ করি। আমাদের কাছে ওরা ছিল বীর। হাক্কানি আমাদের কাছে বীর ছিল। ওসামা বিন লাদেনও। সেইসময় পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল, আজকের থেকে একেবারে আলাদা। আগে যারা বীর ছিল, এখন তারা খলনায়কে পরিণত হয়েছে।’’
স্বস্তি পেল মোদি সরকার! রাফাল মামলায় পুনর্বিবেচনার সমস্ত আর্জি খারিজ করল শীর্ষ আদালত-দৈনিক আজকাল
রাফাল মামলায় বড় স্বস্তি পেল কেন্দ্রীয় সরকার। আজকের রাফাল রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধীরা। রাফাল পুনর্বিবেচনা মামলার রায় দিলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচারপতি সঞ্জয় কিসান কউল এবং বিচারপতি কে এম জোসেফের বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাফেল মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট পরিস্কার জানিয়ে দেয়, এই মামলা পুনরায় বিবেচনা করার কোনও প্রয়োজন নেই। বিরোধীদের পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, ‘রাফেল মামলায় রায় পুনর্বিবেচনা নিষ্প্রয়োজন।’

পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টকে জড়িয়ে নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর সেই মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে শীর্ষ আদালত। এছাড়াও রাহুল গান্ধীকে এই ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। আদালত তা খারিজ করার পর পুনর্বিবেচনার মামলা গ্রহণ করেছিল। সেইসঙ্গে রাহুল গান্ধী রাফাল নিয়ে আদালতের নাম জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘খারাপ’ মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছিল। দুটি মামলা একইসঙ্গে শুনেছিল আদালত। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাফাল মামলায় মোদি সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তারপর রাফাল রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশোবন্ত সিনহা এবং অরুণ শৌরিরা। আদালতের রায়দানের পর সংবাদমাধ্যমে রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত কিছু নথি ফাঁস হয়েছিল। ওই নথিকে হাতিয়ার করেই ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। ফাঁস হওয়া নথিও প্রামাণ্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানায় সর্বোচ্চ আদালত
অভিনব উদ্যোগ মমতার, বুলবুল বিধ্বস্তদের নিত্যপ্রয়োজনে ‘ডিগনিটি কিট’ দিচ্ছে রাজ্য-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করে সোমবারই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে দেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি জায়গায় গিয়ে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এবার দুর্গতদের কথা ভেবে অভিনব উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা সর্বস্ব খুইয়ে এখন সর্বহারা, নতুন করে আবারা তাঁদের সংসার সাজানোর কথা ভেবে ‘ডিগনিটি কিট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুর্যোগের কবলে পড়া অভাবী মানুষগুলিকে যাতে নতুন করে শুরু করতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, সেকথা ভেবেই এই বিশেষ কিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে বুধবারই শোনা গিয়েছে, বুলবুলে বিধ্বস্ত এলাকাগুলির ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে গেল বার্ষিক পরীক্ষা। ডিসেম্বরেই বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পরীক্ষার মুখোমুখি এমন ঘূর্ণীঝড়ে সব তছনছ হয়ে যাওয়াতেই পরীক্ষা পিছনোর সিন্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার, জানা গিয়েছে সূত্রের খবরে।
পার্সটুডে/এমবিএ/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।