১৬ ডিসেম্বর থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হওয়া উচিত: হাইকোর্ট
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১০ অক্টোবর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- ১৬ ডিসেম্বর থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হওয়া উচিত: হাইকোর্ট-দৈনিক প্রথম আলো
- বটি দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটা সেই আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে-দৈনিক ইত্তেফাক
- অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
- গণহত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে সুচির প্রতি ৭ নোবেলজয়ীর আহ্বান-দৈনিক মানবজমিন
- ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা-বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- সিএবি-র বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস, গণতন্ত্রের উপর হামলা, বললেন রাহুল, লড়াইয়ের বার্তা প্রিয়ঙ্কার-দৈনিক আনন্দবাজার
- বুধবার রাজ্যসভায় পেশ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল! আটকে দিতে মরিয়া বিরোধীরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- কাশ্মীরের রাজনীতিকদের মুক্তিতে কেন্দ্র নাক গলাবে না: অমিত শাহ-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অপরাধী যেই হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আমরা মানবাধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধেও লড়াই করছি। আজ রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট একটি পরিবারের এতগুলো মানুষকে হত্যা করা হলো অথচ তার বিচার হলো না! ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একসময় যারা দম্ভ করে বলেছিল– এই হত্যার বিচার কেউ করতে পারবে না, তাদের রক্ষা করেছিল জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জিয়া ছিলেন বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী।
১৬ ডিসেম্বর থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হওয়া উচিত: হাইকোর্ট-দৈনিক প্রথম আলো/ইত্তেফাক
আসছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি এ এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এক রুলের শুনানিতে এই অভিমত দেন। জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে দুই বছর আগে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ। রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান কেন ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চান হাইকোর্ট। ওই রুলের ওপর শুনানিতে আজ হাইকোর্ট অভিমত দেন যে, আসছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
সংঘাতে যেতে চাই না, তাই র্যালি করিনি: ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র্যালি করতে না দেওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, এই মুহূর্তে বিএনপি কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। এ কারণে ঢাকায় পূর্বনির্ধারিত র্যালি করেনি দলটি। তাঁর দাবি, বিএনপির আমলে সংখ্যালঘুদের কোনো নির্যাতন করা হয়নি। আজ সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনির্ধারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পূর্বঘোষিত বিএনপির র্যালি পুলিশ করতে না দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল।
অমিত শাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ মির্জা ফখরুলের-দৈনিক যুগান্তর
‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশে ব্যাপক সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে’- ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ভারতের সংসদে বলা হয়েছে- বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা জোর গলায় বলতে পারি– বিএনপির আমলে এখানে সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে। সংখ্যালঘুর ওপর আওয়ামী লীগের আমলে যতটা নির্যাতন হয়েছে, তা আর কখনও হয়নি।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
রোহিঙ্গা গণহত্যা-আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু-দৈনিক যুগান্তর
রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর সেনাবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলাটির শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এ শুনানি শুরু হয়। তবে এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের একটি খবরে লেখা হয়েছে, গণহত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে সুচির প্রতি ৭ নোবেলজয়ী আহ্বান জানিয়েছেন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
সিএবি-র বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস, গণতন্ত্রের উপর হামলা, বললেন রাহুল, লড়াইয়ের বার্তা প্রিয়ঙ্কার-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে এবার সংসদের বাইরেও সুর চড়াল কংগ্রেস। রাহুল গাঁন্ধী এক টুইটারে বলেছেন, ‘‘এটা গণতন্ত্রের উপর হামলা।’’ দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী টুইট করে বলেছেন, ‘‘পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করব।’’ লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও যে এবিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস তীব্র প্রতিবাদ করবে, দলের তরফে তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সোমবার মধ্যরাতে লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল অসমসহ উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য। এরইমধ্যে একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষোভের খবর এসেছে। অসমের মালিগাঁও-তে একটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। আনন্দবাজারে আরেকটি খবরে লেখা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তাল উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ১১ ঘণ্টার বনধ পালিত হয়েছে।
বুধবার রাজ্যসভায় পেশ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল! আটকে দিতে মরিয়া বিরোধীরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
লোকসভায় পাস হওয়ার পর এবার আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় পেশ করতে যাচ্ছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। রাজ্যসভায় বিল নিয়ে আলোচনার জন্য ৬ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারনা, নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি সময় ধরেই চলতে পারে বিতর্ক। লোকসভায় আটকাতে না পারলেও রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিলটি আটকে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করবে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে বিলটি আটকানোর চেষ্টা করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসও। রাজ্যসভায় লোকসভার তুলনায় শক্তি অনেকটাই বেশি বিরোধীদের।
কাশ্মীরের রাজনীতিকদের মুক্তিতে কেন্দ্র নাক গলাবে না: অমিত শাহ-দৈনিক আজকাল
যেদিনই জম্মু–কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন চাইবে, সেদিনই মুক্তি পাবেন জেলবন্দি রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা। এব্যাপারে কেন্দ্র কোনও নাক গলাবে না। আজ লোকসভায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের আক্রমণের জবাবে একথাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন জম্মু–কাশ্মীর ইস্যুতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। অধীর অমিতকে আক্রমণ করে বলেন যে উপত্যকায় এখনও স্থিতাবস্থা ফেরেনি। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা এখনও কেন জেলবন্দি সেনিয়েও প্রশ্ন তোলেন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১০