ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ ১৫:০৮ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৮ ডিসেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রাজাকারের তালিকা স্থগিত -দৈনিক ইত্তেফাক
  • প্রকাশিত তালিকাটি রাজাকারদের নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
  • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়-দৈনিক প্রথম আলো
  • ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে লড়াই করতে হবে'ডাকসু ভিপি নুরুল হক-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের শিরোনাম:    

  • নির্ভয়াকাণ্ডে ফাঁসির সাজাই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরে স্থগিতাদেশ নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • চূড়ান্ত অসত্য-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব রাজাকার পাকিস্তানি সেনাদেরকে সহযোগিতা করেছিল তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে তালিকায় রয়েছে প্রচুর ভুল এবং এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

২. মালয়েশিয়ায় যে ইসলামি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাতে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। কেন তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়:

রাজাকারের তালিকা স্থগিত-দৈনিক ইত্তেফাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

বিজয় দিবসের আগে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ওই তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চলে আসে। এতে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। তিনি এই তালিকা সংশোধন করে নতুন করে প্রকাশের নির্দেশনা দেন।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই তালিকাটি ১৯৭১ সালে করা। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করেছি মাত্র। এর কোনো কিছু পরিবর্তন করা হয়নি।’

প্রকাশিত তালিকাটি রাজাকারদের নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকাটি রাজাকারদের নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, এটি দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা। বুধবার সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি কোনো রাজাকারের তালিকা নয়। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে রাজাকার, আলবদর, আল শামসের তালিকা দেয়া হয়নি; দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে। নোট দেয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সবার নাম প্রকাশ করেছে। সুতরাং এর পুরো দায় ওই মন্ত্রণালয়ের।’ এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়-দৈনিক প্রথম আলো

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে রাজাকারের কোনো তালিকা দেয়নি। তাদের কাছে রাজাকারের কোনো তালিকা নেই। ১৯৭২ সালে দালাল আইনে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই তালিকাই মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়ার পর ‘পেনড্রাইভে’ করে পাঠানো হয়েছে। গোপন এ তালিকা প্রকাশ করার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। এমনকি প্রকাশিত এ তালিকার পাতায় পাতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কোনো সইও নেই। সংবাদ সম্মেলনে ডাকা হয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে। এমন একটি তালিকা প্রকাশ করার পুরো দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রকাশের দায় নিলেও তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পেয়েছে বলে দাবি করছে। তারা বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজাকারের তালিকা চাওয়ার পর তাদের এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকায় কার নাম যুক্ত করেছে বা বাদ দিয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

নির্ভয়াকাণ্ডে ফাঁসির সাজাই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা/সংবাদ প্রতিদিন

নির্ভয়া ধর্ষণ কাণ্ড

নির্ভয়া ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত অক্ষয় সিং ঠাকুরের ফাঁসির সাজা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৭ সালে শীর্ষ আদালতের রায় পুর্নবিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল ওই অভিযুক্ত। কিন্তু তার সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি জে বানুমথি। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের রায়ে কোনও ভুল ছিল না। তাই এই রায় পুনর্বিবেচনার মধ্যে কোনও সারবত্তা নেই। বুধবার অভিযুক্ত অক্ষয় সিং ঠাকুরের আইনজীবী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষার আবেদন জানাতে ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সাতদিনের মধ্যে সেই আবেদন জানাতে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।

দীর্ঘ সাত বছর লড়াইয়ের পর আজকের রায়ে কিছুটা স্বস্তিতে নির্ভয়ার পরিবার। আদালত থেকে বেরিয়ে তাঁর মা আশাদেবী বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে খুশি হয়েছি আমি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পথে আরও একধাপ এগোলাম।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরে স্থগিতাদেশ নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরে আপাতত স্থগিতাদেশ নয়। বুধবার, এমনটাই জানাল প্রধান বিচারপতির তিন সদস্যের বেঞ্চ। তবে বিতর্কিত আইনটির বিরুদ্ধে পিটিশন নিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের আনা বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) বিরুদ্ধে প্রায় ৬০টি পিটিশন জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেই মর্মে আজ শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের বেঞ্চে। তিন সদস্যের এই বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি বোবদে-সহ রয়েছেন বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি বি আর গাভাই। এদিন, শুনানি শেষে আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, আপাতত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরী করা নিয়ে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। তবে আগামী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে জবাব দিতে হবে। তারপর ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন ৬০ টি পিটিশনের একযোগে শুনানি হবে বলেও জানিয়েছে আদালত। 

চূড়ান্ত অসত্য-দৈনিক আজকাল

ডাহা মিথ্যা। আমরা ‘সংসদীয়’ ভাষা ‘অসত্য’ ব্যবহার করছি। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভায় ও রাজ্যসভায় যে–ভাষণ দিয়েছেন, তাকে সংবিধান–বিরোধী বলার অনেক কারণ আছে। সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা হয়েছে, রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেশের নানা প্রান্তে। কোথাও বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল, কোথাও তীব্রতর আন্দোলন। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অসমে মৃত্যু কয়েকজনের। উত্তর–পূর্ব ভারত ক্ষিপ্ত। প্রথমে বলেছিলেন বাংলায় মমতা ব্যানার্জি, তার পর আরও ৫ রাজ্যের (‌কেরল, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব)‌ মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে সংশোধনী চালু করতে দেবেন না। সংসদে অমিত শাহ প্ররোচনামূলক কথা বলেছেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ ছড়িয়েছেন। ছড়ানোরই কথা, তাঁদের রাজনীতি। কিন্তু, এত মিথ্যাচার কেন?#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮