ডাকসুতে হামলা-জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৩ ডিসেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন-দৈনিক ইত্তেফাক
- ভিপি নুরের ওপর ‘হামলাকারী’ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই শীর্ষ নেতা আটক-দৈনিক যুগান্তর
- প্রতি পাঁচ তরুণের চারজনই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন-দৈনিক প্রথম আলো
- ডাকসুতে হামলা-জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক মানবজমিন
- নুরকে দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ঢাবি উপাচার্য-প্রক্টর-দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- যাদবপুরে রাজ্যপালকে ঘিরে কালো পতাকা, বিক্ষোভ পড়ুয়াদের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- CAA নিয়ে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা, দিল্লির রিফিউজি ক্যাম্পে ছড়িয়েছে উদ্বেগ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- কলকাতায় সিএএ বিরোধী মিছিলে মানুষের ঢল-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মামুনসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কী বলবেন আপনি?
২. আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা-আসক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্ব কী সাড়া দেবে এই আহ্বানে?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
প্রতি পাঁচ তরুণের চারজনই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন-দৈনিক প্রথম আলো
জীবনের লক্ষ্য কী? ছোটবেলায় এ নিয়ে রচনা মুখস্থ করতে হয়েছে প্রায় সবারই। বড় হয়ে জীবনের সেই লক্ষ্য নিয়েই সবচেয়ে চিন্তিত দেশের তরুণেরা। অর্থনীতি এগোচ্ছে, রাজনীতি নিয়ে সন্তুষ্টি আছে, কিন্তু গভীর উদ্বেগ জীবনের লক্ষ্য নিয়ে।
৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের চারজনই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকেন। অথচ দুই বছর আগেও এ ধরনের তরুণের হার ছিল ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ। এই উদ্বেগের পেছনের বড় কারণ হচ্ছে, শিক্ষার দুর্বল মান ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা। প্রতিবেদনে এসেছে, উদ্বেগ বেশি কর্মসংস্থান নিয়ে।
ভিপি নুরের ওপর ‘হামলাকারী’ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই শীর্ষ নেতা আটক-দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত তূর্যকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিপি নুরকে তার ডাকসু কক্ষে বাতি নিভিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলায় রক্তাক্ত করার ঘটনায় মামুন ও তূর্যকে দায়ী করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি বুলবুলসহ বাকি হামলাকারীদের খুঁজছে পুলিশ।
কাদের সাহেব পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার পর দিনই ভিপি নুর রক্তাক্ত: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছুই বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার পর দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সমহিমায় আবির্ভূত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বাতি নিভিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে। ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে ক্যাম্পাস, রক্তাক্ত হয়েছেন ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) ভিপি নুরুল হক নুর। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জাতিকে এই মিডনাইট সরকার যে গভীর সংকটে পতিত করেছে, সেই সংকট উত্তরণের ইতিবাচক কিছু আসেনি এই কাউন্সিলে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
যাদবপুরে রাজ্যপালকে ঘিরে কালো পতাকা, বিক্ষোভ পড়ুয়াদের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
যাদবপুরের পড়ুয়াদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট বৈঠকে যোগ দিতে এসে আটকে পড়েন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলেও কোর্ট বৈঠকের জন্য অরবিন্দ ভবন পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেননি রাজ্যপাল। মূলত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশের পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা। পাশাপাশি তাঁদের একাংশের আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ভঙ্গ করেছেন রাজ্যপাল। ফলে কোনও ভাবেই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট বৈঠকের জন্য অরবিন্দ ভবনে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এই বিক্ষোভে সামিল তৃণমূলের শিক্ষক ও অশিক্ষক সমিতির সংগঠনও। তাদের দাবি, কোনও ভাবেই রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পরই প্রবল বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বিশ্ববিদ্য়ালয়ের অববিন্দ ভবনে ঢোকার মুখেই তাঁকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান পড়ুয়ারা। প্রতিবাদীদের বিক্ষোভের জেরে রাজ্যপালের কনভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢুকলেও তা অরবিন্দ ভবনের আগেই আটকে পড়ে।
এনআরসি: কে সত্যি মোদী না অমিত? ধন্দ ছড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা/ দৈনিক আজকাল-এনআরসি নিয়ে কোনো কথা হয় নি-মোদি
তা হলে কে সত্যি বলছেন? নরেন্দ্র মোদী না অমিত শাহ?
রবিবার রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার পরে এই প্রশ্নটাই ছড়িয়ে পড়ল গোটা দেশে।
এ বছর লোকসভা ভোট বা সদ্যসমাপ্ত ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভোটের ইস্তাহারে এনআরসি নিয়ে প্রতিশ্রুতি তো ছিলই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বা বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি জে পি নড্ডা বারবার বলেছেন। ক’দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও সংসদে জানিয়েছিলেন, দেশের সব রাজ্যে অসমের ধাঁচে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হবেই, এবং তা হবে ২০২৪ সালের ভোটের আগেই। এমনকি এ বছর জুনে সংসদের সেন্ট্রাল হলে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জানিয়েছিলেন, সারা দেশে এনআরসি চালু করাকে তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দেবে। অথচ আজ রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানালেন, এনআরসি নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনও কথাই হয়নি! ২০১৪ সাল থেকে এনআরসি নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর দাবি, বিরোধীরা মিথ্যা বলছে। কেবল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমের জন্য এনআরসি করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দু’ঘণ্টার বক্তৃতা শেষে তাই কার্যত স্তম্ভিত বিরোধীরা। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— কে তা হলে সত্যি কথা বলছেন?’’
CAA নিয়ে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা, দিল্লির রিফিউজি ক্যাম্পে ছড়িয়েছে উদ্বেগ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। অনেকেরই আশঙ্কা এবার হয়তো তাদের মায়ানমার পাঠিয়ে দেবে ভারত সরকার। এই মুহূর্তে রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছে।
দেশের প্রথম সারির দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি-সহ অন্যান্য রিফিউজি ক্যাম্পগুলিতে থাকা রোহিঙ্গাদের কাছে ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর রিফিউজিস’-এর (UNHCR) দেওয়া শরণার্থী পরিচয়পত্র রয়েছে। এমনই এক পরিচয়পত্র নিয়ে দিল্লির একটি শিবিরে রয়েছে ১৮ বছরের তরুণী রহিমা। মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে এসেছে সে। সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথোপকথনে ওই তরুণী জানায়, ছ’বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে ভারতে পালিয়ে আশ্রয়গ্রহণ করে সে। তারপর থেকে এদেশেই পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বার্মিজ সেনার অত্যাচারের কথা স্মরণ করে এখনও কেঁপে ওঠে রহিমা। সে জানায়, কয়েকদিন আগে পাড়ার এক মুদিখানার রেডিওতে নগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA’র বিষয়ে জানতে পারে সে। তারপর থেকেই তাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩