ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ১৩:০৭ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ‘প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ’ -দৈনিক ইত্তেফাক
  • শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার প্রত্যয় তাবিথের -দৈনিক যুগান্তর
  • জেএসসি ও জেডিসিতে পাসের হার ৮৭.৯০ শতাংশ -দৈনিক প্রথম আলো
  • ২০১৯ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৮৮ জন, ধর্ষিত ১৪১৩ নারী -দৈনিক মানবজমিন
  • গ্রেফতারের জন্যই তড়িঘড়ি করে রিলিজ দেওয়া হয়েছে: নুর -দৈনিক সমকাল
  • বই উৎসবের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:    

  • ‘কী কী করব, দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাবব’, বললেন জেনারেল রাওয়ত-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • ‘যাদবপুরের পড়ুয়ারা বিধর্মী’, বিজেপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদ করে নিগৃহীতা অধ্যাপিকা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • গেরুয়া’ ইস্যুতে প্রিয়াঙ্কাকে হুমকি, ‘শাস্তি দেব’, টুইটে বললেন যোগী আদিত্যনাথ -দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

জেএসসি ও জেডিসিতে পাসের হার ৮৭.৯০ শতাংশ-দৈনিক প্রথম আলো

পিইসি-জেএসসি ও জেডি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার বেড়েছে। বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। এ বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৯ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ তথ্য জানান। গত বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৮ হাজার ৯৫ জন।

বই উৎসবের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

Image Caption

২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে সারাদেশে বই উৎসব উদযাপন করা হবে ১ জানুয়ারি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

নিরাপদে আ.লীগ, সংকটে বিরোধীরা-দৈনিক প্রথম আলো

বিএনপি-আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাঁর মিত্রদের একচেটিয়া জয় দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল। আর ২০১৯ শুরু হয় বড় মন্ত্রিসভা দিয়ে, যেখানে ছিল নতুন মুখের ছড়াছড়ি। এরপর থেকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটাই চুপসে যায়। এই সময়ে বাধাবিপত্তিহীন সরকারি দল দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালনেই সীমাবদ্ধ ছিল। বছরের তৃতীয় ভাগে ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযান এবং শেষ ভাগে জাতীয় সম্মেলন সরকারি দলের ভেতর-বাইরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৯ সালে বছরজুড়েই ভোট ও গণতন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এর বিপরীতে সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এসব প্রশ্ন চাপা দিতে চেয়েছে। একদিকে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, নতুন করে নেওয়া হচ্ছে আরও মেগা প্রকল্প। উন্নয়নের এই স্রোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, পরিবেশ ও সুশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনেকটাই চাপা পড়ে ছিল। গত এক বছরের রাজনীতি পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, দল হচ্ছে দলের, কিন্তু সরকার হচ্ছে সবার। দল ও সরকার যদি একই সত্তায় মিশে যায়, তাহলে সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যকর ও অর্থবহ থাকে না।

গত বছরের রাজনৈতিক আলোচনায় ঘুরেফিরে এসেছে বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে কি না। নব্বই-পরবর্তী সময়ে দুবার ক্ষমতায় থাকা বিএনপির পরিণতি মুসলিম লীগের মতো হবে কি না, এমন আলোচনাও ছিল। তবে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য কার্যকর বিরোধী দল থাকা উচিত বলে মত দিয়েছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকেরা।

বিদায়ী বছরের রাজনীতি ও আগামীর প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতিতে যেসব আলোচনা, সম্মেলন, কর্মসূচি, বক্তৃতা-বিবৃতি দেখলাম, এগুলো নতুন কিছু নয়। এর মধ্যে উত্তরণ বা পতন নেই। তবে যেটি দেখা যায়, তা হলো দেশে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বাড়ছে। তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক, দেশে একটি বড় রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বার্থে এই শূন্যতা পূরণ করতে চাই সংবিধানের চার মূল নীতির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী বিরোধী দল।”

‘প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ’-আকম মোজাম্মেল হক-দৈনিক ইত্তেফাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি করে ঘর নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার তিন’শ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।’ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আগে যারা বিসিএস পরীক্ষা দিতো, এখন সেই নিয়ম আর থাকবে না। বর্তমানে পরীক্ষায় ১৯৪৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ইতিহাসের ওপর ৫০ নম্বর এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লিখিত পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে।’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন,‘ রাজাকারদের তালিকায় ভুল হয়েছে। আর যেন ভুল না হয়, সেজন্য পুনরায় রাজাকারদের তালিকা করা হবে।’

শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার প্রত্যয় তাবিথের-দৈনিক যুগান্তর

বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেমের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

এ সময় এবার শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তাবিথ। তিনি বলেন, গতবার ভোটের পরিবেশ ছিল না বলে বর্জন করেছিলাম। এবার যত প্রতিকূলতাই আসুক নির্বাচন ছাড়ব না, নির্বাচনের শেষটা দেখে ছাড়ব।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সেই মোতাবেক আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা আমাদের সন্দেহ আছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা অত্যন্ত সিরিয়াস। আশঙ্কা থাকলেও চেষ্টা করছি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার।

আতিকুল ও তাপস মনোনয়নপত্র জমা দিলেন-দৈনিক প্রথম আলো

ফজলে নূর তাপস মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ফজলে নূর তাপস মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টায় তাপস এবং সাড়ে ১২টায় আতিকুল মনোনয়ন জমা দেন।

২০১৯ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৮৮ জন, ধর্ষিত ১৪১৩ নারী-দৈনিক মানবজমিন

২০১৯ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৮৮ জন, ধর্ষিত ১৪১৩ নারী

২০১৯ সালে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে ৩৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪১৩ জন নারী ধর্ষণ ও গণধর্ষণ, উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৫৮ নারী। এদের মধ্যে উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৮ নারী। এছাড়া নির্যাতনে ৪৮৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের এক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ-২০১৯’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। আসকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নিনা গোস্বামী প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৯ই মার্চ মাদকবিরোধী এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্রসফায়ার নয়, আত্মরক্ষার খাতিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছোড়ে।

যা প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের  হেফাজতে ১৪ জন মারা যান। গ্রেপ্তারের আগে নির্যাতনে মারা যান ৬ জন এবং গুলিতে নিহত হয়েছেন আরো ১২ জন। এ বছর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৩৭ জন এবং তাদের শারীরিক নির্যাতনের কারণে ৬ জনসহ মোট ৪৩ জন মারা গেছে। এ বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ১৩ জন অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ৫ জনের সন্ধান পাওয়া  গেলেও বাকি ৮ জন এখনও নিখোঁজ বলে জানায় আসক।

ঋণখেলাপি ও ব্যাংকগুলোকেই ছাড়-দৈনিক প্রথম আলো

বিদায়ী ২০১৯ সালে দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ঋণের সুদহার কমিয়ে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দিয়েও তার লাগাম টানতে না পারা, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ প্রদান, ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ছাড়, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন এবং খেলাপিদের ঋণ পুনঃ তফসিলকরণের সুযোগ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্বাভাবিক তৎপরতা দফায় দফায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে একদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া, অন্যদিকে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে উদ্বেগ বেড়েছে।

গ্রেফতারের জন্যই তড়িঘড়ি করে রিলিজ দেওয়া হয়েছে: নুর-দৈনিক সমকাল

ডাকসু ভিপি নুর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতারের জন্যই তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।ঢামেক হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। হাসপাতাল ছাড়ার সময় নুর সংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করার জন্য তড়িঘড়ি করে রিলিজ দেওয়া হচ্ছে। আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে আমাদের নামে। ডাকসুর নির্বাচনের তিন মাস মেয়াদ আছে। এ মামলায় গ্রেফতার হলে দুই মাসের আগে জামিন হয় না। তাই তড়িঘড়ি করে আমাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

গেরুয়া’ ইস্যুতে প্রিয়াঙ্কাকে হুমকি, ‘শাস্তি দেব’, টুইটে বললেন যোগী আদিত্যনাথ-দৈনিক আজকাল

যোগি আদিত্য নাথ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

উত্তর প্রদেশে সিএএ বিক্ষোভকারীদের প্রতি কড়া দমননীতি নেওয়ায় সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তর প্রদেশ পূ্র্বের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক যোগীকে বিঁধে বলেছিলেন, ‘গেরুয়া ত্যাগ এবং অহিংসার প্রতীক। গেরুয়া পরলেই কেউ যোগী হয়ে যায় না।’ কংগ্রেসনেত্রীকে প্রায় তৎক্ষণাৎ পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। শুধু আক্রমণই নয়, মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে প্রিয়াঙ্কাকে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

দৈনিক আজকালের অন্য একটি খবরের শিরোনাম এরকম,কেরল বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে পাস সিএএ প্রত্যাহার প্রস্তাব

খবরটিতে লেখা হয়েছে, সিএএ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাস করল কেরল বিধানসভা। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে রাজ্য সরকারকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআইএম। কংগ্রেসনেতা ভিডি সতীসান বলেন, ‘এনআরসি এবং সিএএ একই মুদ্রার দুই পিঠ। সংবিধানের ১৩, ১৪ এবং ১৫  নম্বর ধারাকে পুরোপুরিভাবে লঙ্ঘন করছে সিএএ।

‘কী কী করব, দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাবব’, বললেন জেনারেল রাওয়ত-দৈনিক আনন্দবাজার

কী কী করবেন, কোন কোন কৌশল নেবেন, তা দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেবে দেখবেন। দেশের প্রথম ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’ হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রাক-মুহূর্তে মঙ্গলবার এ কথা বলেন প্রমোশন পাওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়ত। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই দেশের নতুন সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেন জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসাবে জেনারেল রাওয়ত দেশের যাবতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে। আর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা নিয়মিত ভাবে রিপোর্ট দেবেন দেশের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল রাওয়তকে।

‘যাদবপুরের পড়ুয়ারা বিধর্মী’, বিজেপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদ করে নিগৃহীতা অধ্যাপিকা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি’র সমর্থনে বিজেপির সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাকে হেনস্তার অভিযোগ। সোমবার সন্ধেবেলা সেই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গেল যাদবপুপর এইট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কার্যত ধুন্ধুমার বেঁধে গেল বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের। যা সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে। পরে যাদবপুর থানায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন যাদবপুরের নিগৃহীতা অধ্যাপিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা।

বিজেপি নেতা তার বক্তব্যে বলেন,”উলটোদিকের যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা সবাই বিধর্মী, বেইমানের দল।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি বিভাগের অধ্যাপিকা দয়িতা মজুমদার। তিনি এলাকারই স্থানীয় বাসিন্দা। বিজেপি নেতার এই মন্তব্য শুনে তিনি মঞ্চের সামনে এগিয়ে যান এবং জোর গলায় এর প্রতিবাদ করে বলেন – ‘মিথ্যে কথা’। অভিযোগ, এই প্রতিবাদ শুনে সভাস্থলে উপস্থিত বিজেপির মহিলা বাহিনী ওনাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে শুরু করেন। বাকিরাও তাঁদের সঙ্গে দেন।

আধঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঞ্চ ভেঙে, সভাস্থল ছত্রাখান হয়ে যায়। এই সুযোগে চম্পট দেয় হামলাকারীরা। এরপর যাদবপুর থানা ঘিরে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখান, নিগৃহীতা অধ্যাপিকা দয়িতা মজুমদার এফআইআর দায়ের করেন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ আশ্বাস দেয় যে দ্রুতই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারির কোনও খবর নেই।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩১