জানুয়ারি ২১, ২০২০ ১৪:২৬ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২১ জানুয়ারি কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • ২ দফা হামলায় তাবিথসহ বেশ কয়েকজন আহত-দৈনিক ইত্তেফাক
  • তাবিথের ওপর হামলা প্রসঙ্গে আতিক-তারা নিজেরা সংঘর্ষ বাধাতে পারে-দৈনিক মানবজমিন
  •  ‘চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে মৃত, বন্দি ও প্রবাসীরা ভোট দিয়েছে’-দৈনিক যুগান্তর
  • ভোট যেমন–তেমন, পরিবেশের বারোটা-দৈনিক প্রথম আলো
  • আয়কর কি গরিব মারার ব্যবস্থা-ইব্রাহিম খালিদ-দৈনিক সমকাল
  • দুই সিটিতে ব্যালটে ভোট চায় বিএনপি-মির্জা ফখরুল-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:

  • যতই প্রতিবাদ হোক, সিএএ থাকবেই, মমতা-মায়াবতীকে বিতর্কে আহ্বান জানিয়ে হুঙ্কার অমিতের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • বিশ্বের উন্নয়নকে নিম্নমুখী করছে ভারতের আর্থিক ঝিমুনি, মত আইএমএফের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • টুকরে টুকরে গ্যাং নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে কোনও তথ্য নেই, আরটিআইয়ের প্রেক্ষিতে জবাব কেন্দ্রের-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

‘চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে মৃত, বন্দি ও প্রবাসীরা ভোট দিয়েছে’-দৈনিক যুগান্তর

বিএনপি নেতা আমির খসরু

চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন বাতিল করে সেখানে ব্যালেটের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, এই উপনির্বাচনে মৃত ব্যক্তি, বন্দি এমনকি প্রবাসীরাও ভোট দিয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাকক্ষে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তিনি এসব কথা বলেন। ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট ডাকাতি হয় এমন অভিযোগ করে আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনের ভোটে মৃত ব্যক্তি, প্রবাসীরা এমনকি জেলে থাকা বন্দিরাও ভোট দিয়েছে। ইভিএমে ভোট ডাকাতি হয় চট্টগ্রামের ভোটে তা প্রমাণিত হয়েছে।

২ দফা হামলায় তাবিথসহ বেশ কয়েকজন আহত-দৈনিক ইত্তেফাক

Image Caption

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০/১২ জন আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষে থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে মানবমিন শিরোনাম করেছে এরকম যে,জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা, তাবিথসহ আহত ২৫।

আজ রাজধানীর গাবতলী এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় তাবিথ আউয়ালের উপর হামলা হয়। এতে তিনি আহত হন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর কাপুরুষের মতো হামলা চালানো হয়েছে। যতই হামলা হোক, আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাব।’ তাবিথ অভিযোগ করেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সারোয়ারের নেতৃত্বে এই হামলা হয়। দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, তাবিথের ওপর হামলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন তারা নিজেরা সংঘর্ষ বাধাতে পারে।

ভোট যেমন–তেমন, পরিবেশের বারোটা-দৈনিক প্রথম আলো

এ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারপত্র, উন্মুক্ত চিঠি, কাগজ ও প্লাস্টিকের পোস্টার, ব্যানার ইত্যাদিতে ঢেকে গেছে ঢাকা। মাইকের উচ্চ শব্দে চারিদিক প্রকম্পিত! কানের পর্দা ফাটানো নির্বাচনী প্রচারণার শব্দ এখন ঢাকা শহরের যেকোনো এলাকাতেই শোনা যাচ্ছে। বিধি লঙ্ঘন করে রাত আটটার পর মিছিলের উচ্চ শব্দে একসঙ্গে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে, মাইকে জোরে চিৎকার করে স্লোগান ও গান বাজিয়ে প্রচারণা চলছে বিভিন্ন পাড়ায়। প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো পোস্টারে ছেয়ে রয়েছে ঢাকা। এই পোস্টার যেখানে সেখানে ঝরে গিয়ে পরিবেশও দূষণ করছে। প্রচারণার সময় কর্মীরাও রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন।

উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বলা হলেও নির্বাচনী প্রচারণার কাণ্ডজ্ঞানহীন পদ্ধতিতে ভয়াবহ পরিবেশদূষণের বহু উপকরণ রয়েছে। পরিবেশদূষণের ন্যূনতম কোনো উপলব্ধি আমাদের নির্বাচন কমিশন ও রাজনীতিবিদদের আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহের অবকাশ আছে।

আয়কর কি গরিব মারার ব্যবস্থা-ইব্রাহিম খালিদ-দৈনিক সমকাল

অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালিদ

বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র হয়ে উঠল শোষক, আর জনগণ হতে লাগল শোষিত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'বিশ্ব দু'ভাগে বিভক্ত- শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।' তাই বুঝি দেশ-বিদেশের শোষকরা এক জোট হয়ে শোষিতের কাণ্ডারীকে হত্যা করল; রাষ্ট্রকে শোষণযন্ত্র বানানোর জন্য। শোষিত স্বল্পবিত্ত নাগরিকদের 'দাবিয়ে রাখার জন্য' তাদের ওপর শাসন-শোষণ চালানোর জন্য। কিন্তু অবাক হই, ব্যথিত হই যখন দেখি বঙ্গবন্ধু-কন্যার দশককালের অধিক সময়ে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও স্বল্পবিত্তের ওপর শোষণ প্রক্রিয়া শুধু অব্যাহতই থাকেনি, আরও শক্তিশালী হয়েছে। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক সরকারের ওপর অতি-ধনীদের প্রভাব বেড়েই চলেছে। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে লিখে গিয়েছিলেন 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ [৭(১)]'।

নাগরিকের মালিকানা এখন ছিনিয়ে নিয়েছে স্বল্পসংখ্যক নব্যধনিক গোষ্ঠী। রাষ্ট্র এখন তাদের। তারা এখন রাজা। নাগরিকরা হয়েছে প্রজা। বাংলাদেশে কোনো নাগরিকের বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা হলেই তাকে আয়কর দিতে হয়। ধনী দেশের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। বাংলাদেশের মতোই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কোনো নাগরিকের বার্ষিক আয় ৫ লাখ রুপি (বাংলাদেশের ৬ লাখ টাকা) হলে আয়কর প্রদান করতে হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি ৬ লাখ টাকার বেশি আয় না হলে একজন ভারতীয় নাগরিককে আয়কর দিতে হয় না। এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, ভারত স্বল্প আয়ের মানুষদের একটু ভালো রাখতে চায়। বছরে ৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ আয়ের অর্থ হলো গড়ে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও মূল্যস্টম্ফীতি বিবেচনা করলে মাসিক ৫০ হাজার টাকা আয়ে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা স্বচ্ছন্দে চলে যায়। এর বিপরীতে বাংলাদেশে মাসিক মাত্র ২০ হাজার ৮০০ টাকা আয়ে মধ্যবিত্ত দূরের কথা, নিম্ন ও স্বল্পবিত্তেরও সংসার চলে না। এই স্বল্প আয় থেকে ট্যাক্স কেটে নিলে গভীর সংকটে থাকে পরিবার। মাসিক ২০-২১ হাজার টাকার মধ্যে ৪/৫ জনের খাওয়া খরচ, কাপড়চোপড়, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচ কীভাবে চলতে পারে, তা হিসাবকেই বিপর্যস্ত করে ফেলে। কীভাবে চলছে, তাও একটু দেখা যাক। খাবারের তালিকায় মাছ-মাংস প্রায় অনুপস্থিত। কখনও সবজি আবার কখনও ভর্তা-ভাজি। ডালও নিয়মিত থাকে না। ছেলেমেয়েদের খাইয়ে কখনও বাবা-মা আধাপেট খান, কখনও উপোস থাকতে হয়।

বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় কমবেশি ১৯শ' ডলার ছিল। এখন ২০০০ ডলার হবে। অর্থাৎ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই গড় আয় কিন্তু কারও প্রকৃত আয় নয়। দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ১০ শতাংশ এবং দরিদ্রের সংখ্যা ২০ শতাংশ। এরা আজকের টার্গেট গ্রুপের অনেক নিচে। দেশের অর্ধেকের বেশি সম্পদ মাত্র ১০ শতাংশ অতি-ধনী মানুষের কাছে। অনেকের প্রশ্ন- অতি-ধনীরা কত টাকা আয়কর দেন? এ পরিসংখ্যান জনগণের কাছে পরিবেশিত হয় না।

জাতীয় আয়ের কত অংশ টাকা কর হিসেবে সরকার আয় করে থাকে, তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। ট্যাক্স :জিডিপি অনুপাত বাংলাদেশে মাত্র ১০ শতাংশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই অনুপাত ২০ শতাংশ, নেপালে ২৫ শতাংশ। এর সাদামাটা অর্থ হলো, ভারত ও নেপালে অতি-ধনী এবং ধনীরা ট্যাক্স দেয়। সে জন্য তাদের ট্যাক্স আদায়ের অনুপাত বেশি। বাংলাদেশে অতি-ধনী ও ধনীরা হয় ট্যাক্স দেয় না অথবা ফকিরকে ভিক্ষা প্রদানের মতো যৎসামান্য দেয়। বাংলাদেশে স্বল্পবিত্তের কাছ থেকে নিংড়ে ট্যাক্স আদায় করা হয় ধনীদের রেহাই দেওয়ার জন্য।

আয়কর কি গরিব মারার ব্যবস্থা? নাকি অতি-ধনীর কাছ থেকে কর আদায় করে স্বল্পবিত্তের মানুষের জন্য ব্যয় করার ব্যবস্থা? রাজস্ব বোর্ডের উচিত এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা। তবে মানুষের ধারণা এ রকম, শক্তিশালী ধনীচক্রের কাছ থেকে সঠিক পরিমাণ আয়কর আদায় দূরের কথা, তাদের ধারে-কাছে ঘেঁষার সাধ্য আয়কর বিভাগের নেই। আরেক শ্রেণির ধনী রয়েছেন, যারা স্বল্প পরিমাণ কর পরিশোধ করেন এবং নথি ঠিক রাখার জন্য কিছু উপহার প্রদান করেন কর্মকর্তাদের। এর বিপরীতে সুদাসলে কর আদায় করা হয় স্বল্প ও মধ্যবিত্তের কাছ থেকে, যারা ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল। স্বল্প-মধ্যবিত্তের কাছ থেকে আদায়কৃত আয়করই জিডিপির ১০ শতাংশ।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে কিছু নেই! আরটিআইয়ের উত্তরে জানাল খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

Image Caption

আয়কর কি গরিব মারার ব্যবস্থা? নাকি অতি-ধনীর কাছ থেকে কর আদায় করে স্বল্পবিত্তের মানুষের জন্য ব্যয় করার ব্যবস্থা? রাজস্ব বোর্ডের উচিত এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা। তবে মানুষের ধারণা এ রকম, শক্তিশালী ধনীচক্রের কাছ থেকে সঠিক পরিমাণ আয়কর আদায় দূরের কথা, তাদের ধারে-কাছে ঘেঁষার সাধ্য আয়কর বিভাগের নেই। আরেক শ্রেণির ধনী রয়েছেন, যারা স্বল্প পরিমাণ কর পরিশোধ করেন এবং নথি ঠিক রাখার জন্য কিছু উপহার প্রদান করেন কর্মকর্তাদের। এর বিপরীতে সুদাসলে কর আদায় করা হয় স্বল্প ও মধ্যবিত্তের কাছ থেকে, যারা ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল। স্বল্প-মধ্যবিত্তের কাছ থেকে আদায়কৃত আয়করই জিডিপির ১০ শতাংশ।ধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বস্তরের নেতামন্ত্রীদের মুখেই শোনা যায় এই শব্দগুলি। দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদের বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী করা হয় তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-কে। কিন্তু, কী এই টুকরে টুকরে গ্যাং? আদৌ এর অস্তিত্ব আছে তো? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে, ‘না’। এই ধরনের কোনও গ্যাংয়ের কথা মন্ত্রকের জানা নেই। এমনকী, গোয়েন্দা রিপোর্টেও এমন কোনও গ্যাংয়ের উল্লেখ কখনও পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সকলেই ভোটের প্রচারে এই টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের উল্লেখ করেছেন। কদিন আগেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের জন্য এই টুকরে টুকরে গ্যাং এবং কংগ্রেসকে দায়ী করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

বিশ্বের উন্নয়নকে নিম্নমুখী করছে ভারতের আর্থিক ঝিমুনি, মত আইএমএফের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

আইএমএফের মুখ্য অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ

ভারতে অর্থনৈতিক ঝিমুনির প্রভাবে ধাক্কা খাবে বিশ্বের উন্নয়নও। এমনটাই মনে করে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ)। সোমবার এ কথা জানিয়েছেন আইএমএফের মুখ্য অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ। তাঁর মতে, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হওয়ায় তা বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেনে নামাবে আরও ‘০.১’ শতাংশ নীচে। পূর্বাভাসে গত তিন মাসের মধ্যেই যা নেমে গিয়েছে ১.৩ শতাংশ নীচে। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ছাড়াও এ দেশের সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও পর্যবেক্ষণ রয়েছে আইএমএফের। নাগরিকত্ব নিয়ে নয়া আইন (সিএএ)-র বিরুদ্ধে দেশজোড়া বিক্ষোভের দিকে নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে তারা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-হিংসায় উত্তাল হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত। দেশজোড়া ওই বিক্ষোভে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ-পড়ুয়া-বিশিষ্টরা। বিরোধিতা করেছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু রাজ্য সরকারও। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি গীতা।

যতই প্রতিবাদ হোক, সিএএ থাকবেই, মমতা-মায়াবতীকে বিতর্কে আহ্বান জানিয়ে হুঙ্কার অমিতের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত। কেরল, পঞ্জাব বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করে এই আইন প্রত্যাহারের দাবি করা হয়েছে। এ রাজ্যেও বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সে সব তোয়াক্কা না করে অমিত শাহ স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘‘যত প্রতিবাদই হোক, সিএএ প্রত্যাহার করা হবে না, থাকবেই।’’ মমতা, মায়াবতী, অখিলেশদের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারের অভিযোগ তুলে বিতর্কে আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সদ্য প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

নয়া নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি অগ্নিগর্ভ প্রতিবাদ হয়েছিল লখনউয়ে। ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের রাজধানী শহর। পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছিল। আবার ওই বিক্ষোভ-আন্দোলন পর্বে উত্তরপ্রদেশেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির শাহিনবাগের ধাঁচে সেখানকার ঘণ্টাঘর-এর কাছে এখনও অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল মহিলা ও শিশুরা।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১