মধ্যপ্রাচ্যে কি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হল?
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২৬ জানুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ইসির অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: ইসি মাহবুব-দৈনিক ইত্তেফাক
- মধ্যপ্রাচ্যে কি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হল?-দৈনিক যুগান্তর
- উহানে আতঙ্কে বাংলাদেশিরা, দেশে ফেরার আকুতি-দৈনিক প্রথম আলো
- ভারত থেকে অধিক হারে অবৈধ অভিবাসীরা বাংলাদেশে ফিরছেন-দৈনিক মানবজমিন
- আরও যেসব দেশে ছড়ালো ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- করোনাভাইরাসে চীনে মৃত বেড়ে ৫৬-দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে পরপর বিস্ফোরণ, অসমজুড়ে আতঙ্ক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ কি আজ বিপন্ন-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- নিজের শক্তি দেখাল ভারত, প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে রুদ্র, বজ্র, ভীষ্ম-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা ! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
ইসির অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: ইসি মাহবুব-দৈনিক ইত্তেফাক
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, আমার ধারণা কমিশন সভায় আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। আমাদের কর্মকাণ্ডে তা দৃশ্যমান হওয়া বাঞ্ছনীয়। রবিবার দুপুরে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি মাহবুব বলেন, নির্বাচন কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমাকে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে না দেখে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মেরিটকে বিবেচনায় নেয়া সমীচীন বলে মনে করি। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে আমার কিছু বক্তব্য রয়েছে।
বিএনপি চোরাপথে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চক্রান্তের মাধ্যমে চোরাপথ দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। রবিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে মোটর চালক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারা ষড়যন্ত্র করছে। দলটি চক্রান্তের চোরাপথ দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে কি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হল?-দৈনিক যুগান্তর
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্ব কি শেষ পর্যন্ত সেখানে একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে? এ ধরনের একটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ গেল সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বলেছেন, তার দেশ এনপিটি থেকে বের হয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনোই পারমাণবিক কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না (ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, ২০ জানুয়ারি ২০২০)।
এনপিটি বা Treaty on the Non-Proliferation of Nuclear Weapons স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। ১৯৭০ সালের মার্চ থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে- পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। ১৯৯৫ সালের ১১ মে স্বাক্ষরিত অপর একটি চুক্তির ফলস্বরূপ এ চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রয়েছে।
ইরান ১৯৬৮ সালেই এনপিটিতে স্বাক্ষর করে এবং ইতিমধ্যে তা অনুমোদনও করেছে। চুক্তির ধারা X.1 বলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ এ চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারবে, যদি ‘সেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কিছু ঘটে’ থাকে (Jeopardized the supreme interests of its country) উত্তর কোরিয়া ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে এনপিটি থেকে বেরিয়ে গেছে। এখন ইরান উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করতে পারে।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর (যারা ওই সমঝোতা চুক্তির অংশ) পক্ষ থেকে ‘ট্রাম্প ডিল’ নামে নতুন একটি চুক্তির কথা বলা হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে কোনো আলোচনাও শুরু হয়নি। ইরানের মনোভাব এ ব্যাপারে ইতিবাচক নয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান এ অঞ্চলের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো ইরানকে কতটুকু বিশ্বাস করতে পারবে? কিংবা ইরান যদি কোনো প্রস্তাবও উত্থাপন করে, তাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো সন্তুষ্ট হবে কি না? মূল সমস্যা প্রভাব বলয় বিস্তারের রাজনীতি- একদিকে সৌদি আরব, অন্যদিকে ইরান। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে।
সৌদি আরবের পৃথক একটি Air Defense Force (RSADF) রয়েছে। RSADF-এর কাছে যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত THAAD ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। কিন্তু সেটা কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কেননা ২০১৯ সালে ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানীকে আঘাত করলে THAAD ওই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেনি।
ইরানের কাছে তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সাহাব-১ (ব্যাপ্তি ১৮৬ মাইল), সাহাব-২ (ব্যাপ্তি ৩১১ মাইল) ও সাহাব-৩ (ব্যাপ্তি ১২৪৩ মাইল)। সাহাব-৩-এর আওতাভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে : তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, কাতার, আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও ওমান। ইরাকে মার্কিনঘাঁটিতে ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান জানান দিল তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। এ পরিস্থিতি সৌদি আরবকে যে উদ্বিগ্ন করবে, তা বলাই বাহুল্য।
ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে এখন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল অস্ত্রের বড় বাজারে পরিণত হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্রের বড় ক্রেতা ছিল সৌদি আরব। ওই সময় ৩০৭০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে কম, মাত্র ৪০০ মিলিয়ন ডলারের। ইরাকে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪০০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র।
ভারত থেকে অধিক হারে অবৈধ অভিবাসীরা বাংলাদেশে ফিরছেন-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গ শাখার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত এক মাসে এসব অভিবাসীর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএসএফ’র ইন্সপেক্টর জেনারেল (দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার) ওয়াই বি খুরানিয়া বলেছেন, জানুয়ারিতে কমপক্ষে ২৬৮ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। তার ভাষায়, তা সত্ত্বেও দলে দলে (অভিবাসীর বাংলাদেশে) ফিরে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি না আমরা। কিন্তু এ ঘটনার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধ উপায়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছে তারা এবং বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। খুরানিয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একথা বলেছেন। তিনি বলেন, অবৈধদের শতকরা ৯০ ভাগই ভারত ছাড়ার চেষ্টা করছেন এবং তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
করোনাভাইরাসে চীনে মৃত বেড়ে ৫৬-দৈনিক সমকাল
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। এছাড়া চীনজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।
রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ১৩ জনই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুধু হুবেই প্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। বাকি চারজনের মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে দুইজন, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশে একজন ও উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও যেসব দেশে ছড়ালো ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ইতোমধ্যে আরও ১৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সিএনএন’র। চীনে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৬১০ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। আক্রান্তদের প্রায় সবাই উহান বা এর কাছাকাছি স্থানে ছিলেন। তবে উহান থেকে দূরে চীনের অন্য চার অঞ্চলে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রথমজন হেবেই প্রদেশের, দ্বিতীয়জন হেইলংজিয়াং প্রদেশের, তৃতীয়জন হেনান প্রদেশের এবং চতুর্থজন সাংহাই শহরের বাসিন্দা।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
৭১ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে নারী বাহিনীর দুর্দমনীয় প্রদর্শন- এ শিরোনামটি দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের। আজকালের খবরে লেখা হয়েছে,নিজের শক্তি দেখাল ভারত, প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে রুদ্র, বজ্র, ভীষ্ম। সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে পরপর বিস্ফোরণ, অসমজুড়ে আতঙ্ক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল অসম। রবিবার সকালে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ হয় ডিব্রুগড় ও চরাইদিউ এবং ধুলিয়াযান জেলায়। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে এই বিস্ফোরণগুলি ঘটে। যা নিয়ে রীতিমতো অতাঙ্কিত অসমবাসী। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই অসমজুড়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছেন এর বিরোধীরা। পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে বিক্ষোভ সাময়িকভাবে স্তব্ধ করা গেলেও ক্ষোভের উপশম হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অসমজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, সেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ টপকেও পরপর বিস্ফোরণ ঘটাল দুষ্কৃতীরা। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে রাজ্যবাসী।
সংখ্যাগুরু তন্ত্রই ধ্বংস করছে ‘প্রজাতন্ত্র’-কে-দৈনিক আজকাল
‘রিপাবলিক’। প্রজাতন্ত্র। সাধারণ মানুষ ‘রাষ্ট্র’ তৈরি করে। অর্থাৎ ভোট দিয়ে সরকার তৈরি করে। এ তো গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবেই জানা কথা। তার উপর আবার প্রজাতন্ত্র কেন? রাজার বিপরীতে প্রজা। মানে, যে সব দেশ রাজ-শাসিত নয়, সেগুলোই প্রজাতন্ত্র! ‘রিপাবলিকান’ দেশ। শব্দটার মধ্যে আসলে রাজা-প্রজা বাদ দিয়েও একটা আলাদা কথা আছে। কেবল ভোট দিয়ে সরকার তৈরি-র ব্যাপার নয়। সব রকম সরকারের উপরে ‘রাষ্ট্র’। সেটাই আসলে জনসাধারণের। সব সাধারণের সম্পত্তি। সেখানেই এ দেশের সব মানুষের সমতা ও দায়িত্বের নির্দেশ। ব্যক্তি-স্বাধীনতা। ব্যক্তি-অধিকারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। এই সব চেনাশোনা কথাগুলো ভাবতে গিয়ে মনে হয়, ২০২০ সালের প্রজাতান্ত্রিক দিবসটা যেন বিগত কয়েক বছরের মতো খানিক তির্যকতায় আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দিল্লির রাজপথে উদযাপনের তুঙ্গ সমারোহে তুষ্টি হচ্ছে দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের। কিন্তু তাঁদের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকার পিছনকার বিপুল আঁধারের দেশ থেকে ভেসে আসছে একটা ভর্ত্সনা।সব নাগরিক রাষ্ট্রকে সমান করে কাছে পাবে। প্রজাতন্ত্র গণতন্ত্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আর সেই গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।
ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ কি আজ বিপন্ন-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
ভারতীয় সংবিধানে ভারতীয় রাজ্য সংসদকে একটি সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে পূর্ণ স্বরাজের সংকল্প গৃহীত ও ঘোষিত হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণে রেখে ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি দিনটি সংবিধান কার্যকর করা হয়।‘সমাজতান্ত্রিক’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘সংহতি’ এবং সকল নাগরিকের মধ্যে ‘ভাতৃভাব’—এই শব্দগুলি ১৯৭৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়।এ জন্য সংবিধান চালু হওয়ার প্রথম দশ বছর তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত মানুষদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হোক। তবে দশ বছর কেন, প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা লাভের ৭২ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৬