জানুয়ারি ২৮, ২০২০ ১৩:২৩ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • এইচআইভি'র ওষুধে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা!-দৈনিক ইত্তেফাক
  • অভিশংসন: বোল্টন বোমায় টালমাটাল ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা-দৈনিক মানবজমিন
  • আতিকের ভোট চাওয়ার জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল -দৈনিক যুগান্তর
  • করোনাভাইরাস: সাবধানতার বিকল্প নেই-দৈনিক প্রথম আলো
  • চীন-কোরিয়া থেকে আগতদের পর্যবেক্ষণে রাখবে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক সমকাল
  • এই মুহূর্তে চীন থেকে কাউকে দেশে না আনলে ভালো হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা ধর্ষক, খুনি’, কুকথা আরেক বিজেপি সাংসদের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • নিজের সন্তানকে এ ভাবে কেন খুন করলেন মা? কী বলছেন বিশেষজ্ঞেরা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • সংখ্যালঘুদের কথাও শুনতে হবে, বললেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ -দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ-ট্রাম্পের অভিশংসন বিষয়ে বোল্টন বোমায় টালমাটাল ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা এবং বাংলাদেশের সতর্কতা এবং ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সমারিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়া প্রসঙ্গে দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম- কীভাবে বিধ্বস্ত হল মার্কিন সামরিক বিমান?

এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন বলছে, আফগানিস্তানের তালেবান তাদের বিমান গুলি করে বিধ্বস্ত করেনি। যদিও বিমান বিধ্বস্তের দায় স্বীকার করে নিয়েছে তালেবান। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সব যাত্রীই নিহত হয়েছেন। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ-পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১০ মিনিটে দিহ ইয়াক জেলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।-খবর মেইল অনলাইনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, তাদের কাছে এমন কোনো আভাস নেই যে শত্রুদের তৎপরতায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, ছোট্ট সামরিক বিমানটিতে ১০ জনেরও কম সংখ্যক যাত্রী ছিলেন। অনলাইনে পোস্ট করা ফুটেজে দেখা গেছে, তালেবানসংশ্লিষ্ট এক সাংবাদিক বিমানটির ধ্বংসস্তূপ প্রদর্শন করছেন। বিমানটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর লোগো রয়েছে।

সাংবাদিক তারিক গাজনিওয়াল দেখিয়েছেন, বিমানের দগ্ধ দেহাবশেষ তুষারের ওপর পড়ে আছে। চারপাশে লোকজন দাঁড়িয়ে তা দেখছেন ও ভিডিও করছেন। বিমানটির অধিকাংশই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কিন্তু ইঞ্জিনের ওপর ইউএসএফের লোগে এখনো রয়ে গেছে। বিমানটি বোমবারডিয়ার ই-১১এ হতে পারে। আফগানিস্তানের বৈদ্যুতিক নজরদারি করতে এটি ব্যবহার করতো মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ড্রোনের পাশাপাশি কাজ করতো অতি-বিশেষায়িত এই বিমান। হামলার সময় এই বিমানের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মেজর বেথ রিওর্ডেন বলেন, কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার না। আফগান কর্মকর্তারা শুরুতে বলেছিলেন, এটি বোয়িংয়ের যাত্রীবাহী বিমান। যার মালিক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরিয়ানা ওয়ারলাইনস। পরবর্তীতে তারা এই দাবি অস্বীকার করেছে।

অভিশংসন: বোল্টন বোমায় টালমাটাল ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা-দৈনিক মানবজমিন

ট্রাম্প ও বোল্টন

সবকিছু প্রায় ভালোই গুছিয়ে এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটরা। অভিযোগ ওঠে, ইউক্রেনকে বৈদেশিক সাহায্য দেয়ার বিনিময়ে নিজের প্রতিপক্ষ জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু দীর্ঘদিন স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রতিনিধি পরিষদে তাকে অভিশংসিত করা গেলেও, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে তেমন সম্ভাবনা সুদূরপরাহত ঠেকছিল। কারণ, ফক্স নিউজের মতো সংবাদ মাধ্যম, টুইটার আর মিত্রদের নিয়ে প্রচারণার মাধ্যমে প্রায় সব কিছু নিজের দিকে নিয়ে এসেছিলেন ট্রাম্প। সিনেটে অভিশংসিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচা অবশ্য কঠিন কিছু ছিল না তার জন্য। তার নিজ দল রিপাবলিকানরাই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। নতুন কোনো স্বাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার প্রয়োজন নেই, এমনটা ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি প্রায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিল।

কিন্তু তাদের বাড়া ভাতে রীতিমত ছাই দিলেন জন বোল্টন। অথচ, তিনিই কিনা কয়েকদিন আগেও ছিলেন ট্রাম্প শিবিরের প্রিয় মুখ। ছিলেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কিন্তু বেশ বৈরী পরিস্থিতিতেই হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হয়েছিল বোল্টনকে। হয়তো সেই তিক্ততার শোধ তুলতে দেরি করেননি বোল্টন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, সাবেক এই শীর্ষ হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা একটি বই লিখতে যাচ্ছেন। সেই বইয়ের পাণ্ডুলিপিতে এমন সব তথ্য আছে যা ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেমন, এক জায়গায় দাবি করা হয়েছে, বোল্টনকে ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইউক্রেন যদি বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু না করে, তাহলে তাদেরকে তিনি সরকারি সাহায্য দেবেন না। এমন তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর সিনেটে বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকানরা। কেননা, ডেমোক্রেটরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন, বোল্টন সহ সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে স্বাক্ষ্য দিতে ডাকতে হবে। কিন্তু বিশেষ নির্বাহী এখতিয়ার খাটিয়ে সাবেক হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অপরদিকে সিনেট রিপাবলিকানরা এতদিন ধরে বলে এসেছেন যে, প্রতিনিধি পরিষদের শুনানিতে এমন কোনো তথ্য উঠে আসেনি যে, নতুন স্বাক্ষীদের ডাকার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বোল্টনের এমন দাবির পর নিশ্চিতভাবেই ডেমোক্রেটদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হলো। এতদিন নতুন স্বাক্ষী না ডাকার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও, রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে এ ব্যাপারে এখন মতানৈক্য দেখা দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা ১০৬, আক্রান্ত ৪৫১৫-দৈনিক মানবজমিন

Image Caption

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা আরো বেড়েছে। গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮১ থাকলেও তা আজ মঙ্গলবার বেড়ে হয়েছে ১০৬। অন্যদিকে চীনে কড়াকড়ি আরোপ করলেও সেখানে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। ২৭শে জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮৩৫। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১৫। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং নতুন করে আক্রান্ত হওয়া থামাতে ভ্রমণের ওপর আরো কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন। হুবেই প্রদেশের উহান শহর এই ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল। কার্যত ওই শহর এখন অচল হয়ে আছে।এখানেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশী বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, ভিয়েতনাম, নেপাল, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, জার্মানিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান মিলেছে।

এইচআইভি'র ওষুধে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা!-দৈনিক ইত্তেফাক

চীনে এইচআইভি ভাইরাসের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের।আর এই ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীনা স্বাস্থ্য কমিশন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এইডসের ওষুধ ব্যবহার করে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীনা স্বাস্থ্য কমিশন। গত ২৬ জানুয়ারি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাবভিআই এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনের গোপন জীবাণু গবেষণাগার থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি?-দৈনিক মানবজমিন

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। এর দেখা মিলেছে চীনের উহান শহর থেকে। চীনের বেশ কয়েকটি শহর তো বটেই, বিশ্বের অনেক স্থানেও দেখা মিলেছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগির। মারা গেছে কয়েক ডজন রোগি। তবে প্রাণী-বাহিত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হতে পারে চীনের গোপন জীবাণু অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র। ওই গবেষণাগার অবস্থিত উহান শহরে। এমন অনুমান করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি জৈব অস্ত্র বিশ্লেষক এই সম্ভাবনার কথা নাকচ করেননি।

চীনের উহানে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের দেখা মেলার পর রেডিও ফ্রি এশিয়া গত সপ্তাহে তাদের ২০১৫ সালের একটি প্রতিবেদন পুনঃপ্রচার করে।

চীনের জৈব অস্ত্র প্রকল্প নিয়ে গবেষণা করেছেন ইসরাইলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি শোহাম। তিনি বলেন, উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি চীনের গোপন জৈব অস্ত্র প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ভাষ্য, ‘এই ইন্সটিটিউটের কিছু পরীক্ষাগার গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে চীনের গোপন জৈব অস্ত্র প্রকল্পের সঙ্গে হয়তো সম্পৃক্ত। তবে এগুলো এই প্রকল্পের প্রধান স্থাপনা নয়।’ এক ইমেইল বার্তায় বলেন, বেসামরিক-সামরিক গবেষণার অংশ হিসেবে জৈব মারণাস্ত্র নিয়ে গবেষণার কাজ হয়ে থাকে। এ ধরণের যেকোনো প্রকল্প অবশ্যই গোপন রাখা হয়।

দৈনিক সমকালের খবরে লেখা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, করোনাভাইরাসের ঠেকাতে সতর্কতার অংশ হিসেবে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যারা দেশে আসছেন, তাদের পর্যবেক্ষণে রাখবে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউয়ের বাস্তবায়ন উপলক্ষে এক কর্মশালা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস: সাবধানতার বিকল্প নেই-সৈয়দ আবুল মকসুদ-দৈনিক প্রথম আলো

বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ তার এ লেখায় বলেছেন, প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। তার আক্রোশ পারমাণবিক বোমার ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে বিশেষ কম নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর জুলুম করার ফলে মানুষের সমাজে নতুন নতুন ধরনের বিপদ আসে, যা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ কঠিন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, দাবানলের মতো নতুন রোগের মহামারি বিশ্ববাসীকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। কী কারণে নতুন নতুন ভাইরাসের দ্বারা মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটছে, তা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলতে পারবেন। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর তা মোকাবিলা করা শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাজ নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেকের ভূমিকা রাখতে হয়।দু-তিন সপ্তাহ ধরে যে খবরটি সারা পৃথিবীতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, তা হলো চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ‘রহস্যজনক’ করোনাভাইরাসজনিত মহামারি।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েক সপ্তাহে মারা গেছে ৫৭ জনের বেশি। যোগাযোগমাধ্যমের ওপর চীনের সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ায় তাদের দেওয়া তথ্য অনেকের কাছেই সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে সংবাদমাধ্যম মুক্ত, সেখানে প্রাকৃতিক হোক, মানবসৃষ্ট হোক, কোনো ঘটনা ঘটলে জানা যায়। চীনের সব ঘটনা পুরোপুরি জানা কঠিন। অমর্ত্য সেন তাঁর দুর্ভিক্ষ বিষয়ে বিখ্যাত গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিভিন্ন সময় চীনে দুর্ভিক্ষে কত লোক মারা গেছে, তা বাইরের দুনিয়ার মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে। তবে পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের পরিস্থিতি এখন নেই। তথ্য সম্পূর্ণ চাপা দেওয়া এখন সম্ভব নয়। তবে সঠিক তথ্য দেরিতে জানলে লাভ নেই। ২০০৩ সালে চীনে সার্স বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে আট শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। প্রথম দিকে চীন সরকার তা জানতে দেয়নি।

সপ্তাহখানেক ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং আমাদের প্রচারমাধ্যম করোনা মহামারি-সংক্রান্ত যেসব প্রতিবেদন দেখিয়েছে, তা উদ্বেগজনক। দেখা যাচ্ছে, চীনের চিকিৎসকেরাই হিমশিম খাচ্ছেন।

রোগজীবাণু ও ভাইরাস ব্যাংকের টাকার মতোই অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ। দলনিরপেক্ষ তো বটেই। তারা স্বাচিপ বা ড্যাব বোঝে না। এ ধরনের সম্ভাব্য দুর্যোগ প্রতিরোধ করা শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে সম্ভব নয়। বিভিন্ন এজেন্সির সমন্বিত শক্তিশালী টাস্কফোর্স দরকার। বেশি দরকার যোগ্য-দক্ষ মানুষের। যোগ্যতা বিশেষ দলীয় লোকদের গায়ে লেখা থাকে না। রোগবালাই-মৃত্যু কোনো দলীয় বিষয় নয়, সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিষয় তো নয়ই। সাবধানতার বিকল্প নেই। অবিলম্বে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সেটাই প্রত্যাশা।

আতিকের ভোট চাওয়ার জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ভোট চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ডিএনসিসি) আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি নেতারা বেরিয়ে আসার সময় সেখানে তাদের কাছে ভোট চান আতিকুল।

এ সময় আতিকুল ইসলামকে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি ঢাকা সিটির ভোটার নই। ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটার। তবে সব প্রার্থীর জন্যই দোয়া থাকবে, যাতে একটা সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আতিকুল ইসলাম এ সময় বিএনপির অন্যান্য নেতার কাছেও ভোট চান এবং তাদের সঙ্গে হাত মেলান।

ঘরের কথা বাইরে কেন? –দৈনিক মানবজমিন

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইদানীং বিএনপি’র সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইলেকশন কমিশনের ইন্টারন্যাল ম্যাটার, সেখানে একজন কমিশনার ভিন্নমত পোষন করতেই পারেন। কিন্তু তিনি কথায় কথায় যেভাবে তাদের ঘরের বিষয়, ইন্টারনাল প্রসিডিং, বাইরে নিয়ে আসছেন, সেটা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। রোববার নির্বাচন কমিশনে মাহবুব তালুকদার অভিযোগ করেছিলেন, ইসিতেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে ইসির সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে এজেন্ডা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

নিজের সন্তানকে এ ভাবে কেন খুন করলেন মা? কী বলছেন বিশেষজ্ঞেরা-দৈনিক আনন্দবাজার

আর্তনাদ রুখতে দু’মাসের শিশুকন্যার মুখে-গলায় সেলোটেপ পেঁচিয়ে দিয়েছিলেন মা। তার পর নৃশংস ভাবে খুন করে শিশুকে ম্যানহোলে ফেলেও দিয়ে এসেছিলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। সন্দেহ ঘোরাতে মা সন্ধ্যা মালো ফেঁদেছিলেন অপহরণের গল্প! বেলেঘাটার এই হাড় হিম করা শিশুখুনের ঘটনায় তদন্তকারীরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন অপরাধীর মনস্তত্ত্বের উপর। আপাতত এই ঘটনায় উঠে আসছে ‘পোস্টন্যাটাল ডিপ্রেশন’ তত্ত্ব।

মনের কোন অবস্থা থেকে এক জন সদ্য হওয়া মা এমন নৃশংস হতে পারেন? কী ভাবে এতটা অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারেন এক জন মা, যাঁর আগে তেমন কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই? এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে, পোস্টন্যাটাল তত্ত্বে সায় দিচ্ছেন মনোবিদরা। তাঁদের মতে, পোস্টন্যাটাল ডিপ্রেশন কোনও নতুন ঘটনা নয়। সকলেরই হবে, এমনটাও নয়। তবে অনেকেরই হয়। কিন্তু, তার প্রভাবে এত বড় অপরাধ করে ফেলার নজির খুব কমই রয়েছে।

এই ধরনের অপরাধপ্রবণতায় পোস্টন্যাটাল ডিপ্রেশনের চেয়েও আর একটু এগিয়ে পোস্টপার্টাম ব্লু-কেই দায়ী করছেন মনোবিদ অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ‘‘পোস্টপার্টাম ব্লু বা পোস্টন্যাটাল ডিপ্রেশন যাই বলি না কেন, এগুলো সবই হয় মস্তিষ্কে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য। সাধারণত প্রসবের এক মাস পর থেকেই এই পোস্টপার্টাম ব্লু দানা বাঁধে মনে। অনেকেই এর প্রভাবে প্রসবের পর নিজের পাশাপাশি সন্তানের যত্ন করা ছেড়ে দেন। ভাবতে থাকেন, এই পৃথিবীতে সন্তান ও তাঁর বেঁচে থাকা অর্থহীন। তখন সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরাতে এতটাই বদ্ধপরিকর হন মা যে, তার জন্য যে কোনও নৃশংস পথ তিনি বেছে নিতে পারেন। অপরাধ ঢাকতেও উদ্যোগ নেন। বেলেঘাটার ঘটনাটিও এই প্রবণতার প্রমাণ। তবে এক জনের এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে কি না তা জানতে, তাঁর সঙ্গে চিকিৎসকের মাধ্যমে নিবিড় ভাবে বার বার কথা বলা দরকার।

‘শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা ধর্ষক, খুনি’, কুকথা আরেক বিজেপি সাংসদের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীদের নিয়ে কুকথার পাহাড় তৈরি করছেন বিজেপি নেতারা। কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুরের গুলি মারার নিদানের পর এবার বিক্ষোভকারী নাগরিকদের ধর্ষক ও খুনি বলে বসলেন আরেক বিজেপি সাংসদ। শুধু তাই নয়, পশ্চিম দিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রবেশ কুমার সিং বর্মা (Parvesh Sahib Singh Verma) বলছেন, দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক ঘণ্টার মধ্যে শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীদের ফাঁকা করে দেব।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই রাজধানীর বুকে অরাজনৈতিক এবং অহিংস আন্দোলন চলছে। শাহিনবাগের এই আন্দোলনের মুখ মূলত মহিলারা। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এই বিক্ষোভই এখন টার্গেট বিজেপির।ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের দুই নেতা শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীদের গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এই বিক্ষোভের সমর্থনকারীদের দেশদ্রোহী বলে কটাক্ষ করেছেন।

সংখ্যালঘুদের কথাও শুনতে হবে, বললেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ-দৈনিক আজকাল

সংখ্যালঘুরা সংখ্যালঘু দু’দেশেই। আমেরিকা ও ভারতে। তাদের‌ ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিত। তাদের কথা শোনা উচিত। এমনটাই মনে করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় আফ্রিকা বা মেক্সিকোর মানুষ যেমন অর্থনৈতিক, সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে আছেন। ট্রাম্প বোঝাতে পেরেছেন, বাইরের লোকেরা তোমাকে আঘাত করছে। ঠিক এই জায়গা থেকে ট্রাম্প আমেরিকানদের ভাষায় কথা বলতে পেরেছেন। তিনি নিজের খেলা নিখুঁতভাবেই খেলেছেন!‌ রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে কর কমিয়েছেন, কিন্তু সে অর্থে সামাজিক অসাম্য তৈরি করেছেন। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমেরিকায় এখন শিবির বিভাজিত। যে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে, তা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোয়নি। পৃথিবীতে একটা ক্রোধের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

সোমবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে কলকাতার লিটারারি মিট অনুষ্ঠানে এক আলাপচারিতায় বলেছেন অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি।

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, ‘অনুপ্রবেশ বিষয়টি এরকম নয় যে, তা মহামারীর আকার নিয়েছে। গ্রিসের সমস্যা আমরা দেখতে পেয়েছি। বহু মানুষ জার্মানিতে  আশ্রয় নিয়েছেন। সংখ্যাটা ৬০ হাজারের কাছাকাছি। এদিক থেকে দেখতে গেলে ইরাক, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা থেকেও মানুষ চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এই দেশগুলি সে অর্থে গরিব দেশ নয়। মধ্য আয়ের দেশ। কিন্তু সমস্যা হল, এই দেশগুলিতে সমাজকল্যাণমূলক কাজ প্রায় বন্ধ। তাই ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ লোক বেকার।’ ভারতের প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেছেন, ‘এরকম ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই যে, মুসলিমরা এদেশের দখল নেবে।’#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৮