মার্চ ২০, ২০২০ ১৭:২৭ Asia/Dhaka

১৭ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আমরা রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কথা বলেছি ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব এ এফ এম গওসোল আযম সরকারের সঙ্গে।

তিনি রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ইরানের সাংস্কৃতিক মিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী। এ মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উৎসাহ যুগিয়েছেন। এজন্য তাঁর অবদানের কথা আমরা সবসময় স্বীকার করি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিরজনক একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। তবে এইসব স্বপ্ন তিনি পূরণ করার মতো সময় পান নি বা তাঁকে সেই সুযোগ দেয়া হয় নি। তবে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

এ কারণে ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ নামে দুটি রোডম্যাপ তিনি দিয়েছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন। আর মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের কমিটমেন্ট হচ্ছে এই দুটি ভিশনের মাধ্যমে বাঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

 সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন নাসির মাহমুদ।

রেডিও তেহরান: এএফএম গওসোল আযম সরকার, বাংলাদেশের সাহিত্য সাংস্কৃতিক ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখব সেখানে ইরানের সাস্কৃতিক প্রভাব বেশ গভীর। এটার রাজনৈতিক ইতিহাসও আছে সেটি আপনি খুব ভালো করেই জানেন। বেশকিছুদিন হলো আপনি ইরানে এসেছেন এবং দেখেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আপনার মেশারও সুযোগ হয়েছে। তো এই যে বাংলাদেশের সাথে ইরানের সাংস্কৃতিক অভিন্নতা এর পেছনে বা এই সম্পর্ক গড়ে তোলার পেছনে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না?

গওসোল আযম সরকার: আপনি ঠিকই বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক মিল সেটি সগভীর এবং সুদূরপ্রসারী। বহু শতাব্দীব্যাপী এই সাস্কৃতিক মেলবন্ধন দুদেশের মধ্যে আছে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ভার গ্রহণ করলেন তখন তাঁর পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হলো সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরীতা নয়। সেই নীতি অনুসরণ করেই সব দেশের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রয়াসী হলেন এবং স্বীকৃতি লাভের প্রচেস্টা চালালেন। এরপর ১৯৭৪ সালে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে যখন স্বীকৃতি আসল সাথে সাথেই তিনি ইরানের সাথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। 

১৯৭৪ সালেই ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সেই থেকে দুদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে সেজন্য তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। তারপর থেকে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সুগভীর হয়েছে। আর সেটি এখনও অব্যাহত আছে।

খুব ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে এই সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আছে:

প্রথমত হচ্ছে-ভাষা। ভাষার ক্ষেত্রে-দুদেশের ভাষার মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। আমাদের বাংলা ভাষায় প্রায় ৭ হাজারের মতো ফার্সি শব্দ আছে, যেসব শব্দ আমরা নিত্য-নৈমিত্তিকভাবে ব্যবহার করছি। এছাড়া আমাদের ধর্মীয় দর্শনের ক্ষেত্রে বা আমরা যেভাবে ইসলামকে গ্রহণ করি বা মেনে চলি সেক্ষেত্রেও ইরানের সংস্কৃতির প্রভাব আছে। সুফিবাদ আমাদের মধ্যে প্রবলভাবে রয়েছে এবং আমাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও এই সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। আমাদের সাহিত্যকর্মে এই মিল আরও গভীর ও ব্যাপক। সাহিত্যের থিম ও দুশের আ্যপ্রোচ অনেকটা একইরকম। সুতরাং এই মিল এবং সম্পর্ক সবসময়ই ছিল এবং এই সম্পর্কে আরও গভীরতর করার জন্য জাতির জনকের অবদানের কথা আমরা স্বীকার করি।

রেডিও তেহরান: শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে এবং দেশকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। এই স্বপ্ন শব্দটা বেশ পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে গবেষণাও করা যেতে পারে। তাঁর এই স্বপ্ন দেখা সম্পর্কে একটু বলবেন?

মুজিব জন্মশতবার্ষিকী

গওসোল আযম সরকার: জাতিরজনক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁদেরকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন। সাধারণ মানুষের আশা-আকঙ্খা, তাদের যন্ত্রণা, কষ্ট এবং তাদের প্রত্যাশা নিজের মধ্যে ধারন করেছেন। তাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন এবং স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন।

 তিনি ৭ মার্চের ভাষণে সেটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ঐ ভাষণে শুধু রাজনৈতিক মুক্তি এবং স্বাধীনতার কথা বলেন নি একইসাথে তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও বলেছেন। সুতরাং তার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নয়নশীল সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ। সোনার বাংলা কথাটাও কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যেও এসেছে। কিন্তু জাতিরজনক যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন সেটি তিনি বৃহত্তর পরিসরে দেখেছেন। কবি গুরু যেখানে বাংলার সৌন্দর্য ও সুন্দরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সেখানে জাতিরজনকের সোনার বাংলার পরিসর আরও বড় ছিল।তিনি বাংলাদেশের প্রাচুর্যকেই শুধু প্রত্যাশা করেন নি তিনি বাংলাদেশের ইনক্লুসিভ উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফোটার স্বপ্ন দেখেছেন। আর সে কারণে তিনি স্বাধীনতার সাথে সাথে মুক্তির কথা বলেছেন। তবে এইসব স্বপ্ন তিনি পূরণ করার মতো সময় পান নি বা তাঁকে সেই সুযোগ দেয়া হয় নি। 

তিনি ১৯৭৫ সালে আততায়ীর হাতে অ্যাসাসিনেশনের শিকার হন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণে ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ নামে দুটি রোডম্যাপ তিনি দিয়েছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন। আর মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের কমিটমেন্ট হচ্ছে  এই দুটি ভিশনের মাধ্যমে বাঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

রেডিও তেহরান: জ্বি, বাংলাদেশ সরকার যে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে সে উপলক্ষে বহু অনুষ্ঠান এবং বহু রকমের আয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিসহ পরিবেশগত কারণে কিছুটা ব্যহত হচ্ছে বলে অনেক মনে করছেন। বাংলাদেশে মুজিববর্ষ উদযাপনের সর্বশেষ পরিস্থিতি আসলে কি?

গওসোল আযম সরকার: দেখুন, মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য জাতীয় কমিটি গঠিত হয় এবং উপযুক্তভাবে আয়োজনের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন করোনা প্যানডেমিকের কারণে বৃহত্তর পরিসরে যেসব অনুষ্ঠান করার কথা ছিল সেগুলো এইমুহূর্তে হচ্ছে না। এখন স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। পরবর্তীতে যখনই এই সমস্যার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে তখন সেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিস্তৃত যে পরিকল্পনা আছে আশা করা যাচ্ছে করোনা সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে গেলে ব্যাপক আকারের অনুষ্ঠানগুলো করা সম্ভব হবে। শুধু বাংলাদেশেই নয় একইসাথে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে, পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোও স্বল্প পরিসরে করা হচ্ছে। পরবর্তীতে অর্থাৎ এই মুজিববর্ষেই তা বড় আকারে করা হবে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২০