মার্চ ২৮, ২০২০ ১২:৩৬ Asia/Dhaka
  • পত্রপত্রিকার পাতার গুরুত্বপূর্ণ খবরের বিশ্লেষণ
    পত্রপত্রিকার পাতার গুরুত্বপূর্ণ খবরের বিশ্লেষণ

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৮ মার্চ শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:-

  • করোনাভাইরাসে নুতন আক্রান্ত নেই, মৃত্যুও নেই-দৈনিক প্রথম আলো
  • করোনা-বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়ালো-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ২০০৯ সালের চেয়েও কঠিন আর্থিক মন্দায় প্রবেশ করেছি-আইএমএফ-দৈনিক মানবজমিন
  • করোনা সংকট : সারা বিশ্বের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ-দৈনিক যুগান্তর
  • করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে  ৩ লাখ ডলার দিচ্ছে এডিবি-দৈনিক সমকাল
  • করোনা বায়ুবাহিত রোগ নয়- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • মিরপুরে মশার কয়েল থেকে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৩ জন নিহত-দৈনিক জনকণ্ঠ

ভারতের শিরোনাম:    

  • দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭৩ জন -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর-দৈনিক আজকাল 
  • সরকারি সাহায্যে আস্থা নেই, হেঁটেই ঘরে ফিরছেন কয়েক হাজার ঠিকা শ্রমিক -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১)করোনাভাইরাস মোকাবেলার অভিযান পরিচালনা কতে গিয়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার  বিসিএস কর্মকর্তা এসিল‍্যান্ড সাইয়েমা হাসান দুই বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস কয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করেছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন? 

২)  করোনাভাইাসের এই মহামারিীর মধ্যেও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কীভাবে দেখেছেন বিষয়টিকে?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি:

করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান খবর করোনাভাইরাস। সর্বত্র আতঙ্ক এবং লাকডাউন চলছে। বাড়ছে প্রতিনিয়ত মৃত্যু আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন দৈনিকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭,৪১৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৬,০০,৮৩৪। সুস্থ হয়েছেন ১,৩৩,৪২৬।বিশ্বের ২০০ দেশে ছড়িয়েছে এ ভাইরাস। মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এ সম্পর্কিত খবরে লেখা হয়েছে,  ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮৬ হাজার ৪৯৮ জন। এই সংখ্যা চীনের চেয়েও বেশি। গত ২৪ ঘন্টায় ৯৬৯জনের মৃত্যু হয়ছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা সেখানে ৯১৩৪ জন। যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। জনস হফকিন্স ইউনিভার্সিটি এ খবর দিয়েছে।

করোনা সংকট: সারা বিশ্বেই সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ-দৈনিক যুগান্তর

করোনা: বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আস্থা হারাচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ

করোনাভাইরাস মোকাবেলার ব্যাপারে সারা বিশ্বেই সরকারগুলোর ওপর আস্থা হারাচ্ছে সিংহভাগ মানুষ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বিশ্বাস হারিয়েছে তারা। দেশে দেশে সরকার ও প্রশাসনগুলো মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম নয় বলে বিশ্বাস তাদের।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ম্যাকক্যান ওয়ার্ল্ড গ্রুপ’স ট্র–থ সেন্ট্রালে’র এক গবেষণা রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, সারা বিশ্বের মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে, করোনা মোকাবেলায় তাদের সরকারগুলো ‘সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি’ নিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ মনে করে, করোনা মোকাবেলায় সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। অর্থাৎ ৮৯ ভাগ মার্কিনীরই বিশ্বাস, তাদের সরকার করোনা মোকাবেলায় সক্ষম নয়। এই সংখ্যাটা যুক্তরাজ্যে আরও কম। মাত্র ৬ শতাংশ ব্রিটিশ মনে করে, তাদের সরকার করোনা মোকাবেলায় ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ মনে করে, করোনা মোকাবেলায় তাদের সরকারগুলো প্রস্তুত। এই দেশ দুটির তুলনায় ভারত ও তুরস্কের বেশি মানুষ তাদের নিজ দেশের সরকারকে বিশ্বাস করে।এই দুই দেশের মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ বলছে, করোনা মোকাবেলায় তাদের সরকার প্রস্তুত। রিপোর্ট মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণ বিশ্বাস কম করেন। এছাড়াও করোনার এই সময়ে মানুষের বাঁচার থেকে বেশি চিন্তা অর্থনীতি নিয়ে।বিশ্বের প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত। তারা মনে করেন, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ধুঁকবে। আর ৪৩ শতাংশ মানুষ চিন্তা করেন মৃত্যু নিয়ে।তারা ভাবেন করোনায় বিশ্বের অনেক মানুষ মারা যাবেন। ১৪ শতাংশ মানুষ উদ্বিগ্ন। কারণ কারোনার কারণে তাদের দেশ আরও বর্ণবাদী হয়ে উঠবে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর মানুষ চিলির মতো দেশগুলোর চেয়ে তাদের অর্থনীতি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও ভালো চোখে দেখছেন না অধিকাংশ জনগণ। সারা বিশ্বের ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করে, গণমাধ্যম অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এই বিষয়টির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন স্পেন ও ইতালির ২৯ শতাংশ মানুষ। করোনার মহামারীর ইউরোপের কেন্দ্র হয়ে উঠছে স্পেন ও ইতালি। করোনায় এই দুটি দেশেই চীনের থেকেও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের শেষ নেই-দৈনিক মানবজমিন

করোনাভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া মানুষরা বড় বিপাকে। তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং তার চেয়ে অনেক বেশি জীবন ধারণের। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিটাও অন্যদের থেকে বেশি। তারা থাকেন অস্বাস্থ্যকর, ঘিঞ্জি ও নোংরা পরিবেশে। সেখানে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে না। ছোট্ট একটি কামরায় অনেক মানুষ গাদাগাদি করে থাকেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে করোনা মহামারীর কারণে নিম্ন আয়ের এ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, তার থেকে বেশি উৎকণ্ঠিত ক্ষুধা নিবারণের জন্য।

তাদের একটাই কথা- কাম না করলে খামু কেমনে? বউ-বাচ্চাকে কী খাওয়ামু?

‘মৃত্যু আসলেও ডাক্তার আসলেন না’-মানবজমিন

‘রাতভর হটলাইনগুলোতে ফোন দিয়ে সারা পায়নি। পাওয়া যায়নি সরকারি হাসপাতালগুলোর এ্যম্বুলেন্স। করোনা হয়েছে সেই আতঙ্কে পরশিরাও কেউ এগিয়ে আসেনি। রাস্তায় কোন গাড়ি ঘোড়াও নাই। কোন ভাবেই একা স্বামীকে হাসপাতালে নিতে পারিনি। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নিস্তেজ হয়ে যায় স্বামীর শরীর। ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে নিথর দেহের পাশে বসে রাত পার করেছি। সে মারা গেছে না বেঁচে আছে বুঝতে পারিনি।

করোনার ভয়ে কেউ কাছেও আসেনি। আল্লাহ তুমি এমন অসহায় করে মৃত্যু দিলে কেন’। এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মৃত্যু ব্যক্তির স্ত্রী।

ওই ব্যক্তি কয়েকদিন আগে গাজীপুর থেকে বাড়িতে ফিরেন। এর পর জ্বর ও সর্দি কাশি দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। অসুস্থ স্বামীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য স্ত্রী প্রথমে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চান। ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। এরপর স্ত্রী অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মোবাইলফোনে যোগাযোগ করেন জেলা ও উপজেলার হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের নম্বরে। ওই রাতে তিনি কারো কাছেই সাড়া পাননি।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি:

দেশে আক্রান্ত ৮৭৩, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ১৪৯-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ বার কেরলে এক ব্যক্তির মৃত্যু হল। সম্প্রতি তিনি দুবাই থেকে ফিরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হয়েছে বটে, কিন্তু, দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাটা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। দেশে এখনও পর্যন্ত মোট ৮৭৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন। তবে ভাবনার বিষয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৯ জন।

নতুন সংক্রমিতদের মধ্যে শুধুমাত্র শুক্রবারেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৪০ জন, যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শনিবার নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৯ জন। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। তবে সুস্থও হয়ে উঠেছেন ৭৯ জন।

সরকারি সাহায্যে আস্থা নেই, হেঁটেই ঘরে ফিরছেন কয়েক হাজার ঠিকা শ্রমিক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এ খবরে লেখা হয়েছে, মহামারির কোপে সর্বস্ব খুইয়েছেন ওঁরা। সম্বল বলতে, বুকের ভিতর ধুকপুক করতে থাকা হৃদপিন্ড আর সচল শরীর। সেটাকে অবলম্বন করেই বাড়ি ফেরার পথ ধরেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা। কেউ থাকেন বিহারের কোনও দেহাতি গ্রামে, কেউ বা ওড়িশার সীমানা লাগোয়া গ্রামে। খুঁজে দেখলে ওই ভিড়ে বাংলার শ্রমিকদেরও দেখা মিলবে। ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা হতেই বাড়ি ফেরার পথ ধরেছেন ওঁরা। কিছুটা পায়ে হেঁটে, কিছুটা রাস্তা পণ্যবাহি ট্রাকে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্য পাড়ি জমাচ্ছেন তাঁরা। পেটে দানাপানি নেই। তেষ্টায় চাঁদি অবধি শুকিয়ে গিয়েছে, কিন্তু জলের দেখা নেই। তবু থামছেন না তাঁরা। দেশজুড়ে চাল লকডাউনের চতুর্থদিনে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ ধরণের খণ্ড খণ্ড ছবি সামনে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে লকডাউনের কঠিন দিকটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে টুইট করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রকেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানিয়েছেন কংগ্রেসের আরেক সাংসদ আহমেদ প্যাটেলও। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী (অন্তর্বর্তীকালীন) সোনিয়া গান্ধীও।

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৮