জুলাই ২৯, ২০২০ ১২:৫৪ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা!২৯ জুলাই বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • করোনা বাণিজ্য ঘাটতিতে রেকর্ড-দৈনিক মানবজমিন
  • চীন ‘মাকড়শা’ হলে ভারত তার ‘শিকার’ দৈনিক মানবজমিন
  • বাংলাদেশের করোনা মৃত্যু আরো ৩৫ জন,নতুন শনাক্ত ৩০০৯ জন-ইত্তেফাক
  • বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে ভারতে অস্থিরতা-দৈনিক প্রথম আলো
  • পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
  • আওয়ামী লীগের আয় ৩৫ ভাগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটিতে -দৈনিক কালের কণ্ঠ
  • পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ, বোমা বহনকারীরা ভাড়াটে খুনি-পুলিশ-দৈনিক সমকাল
  • ২০ লাখ টাকায় ছাত্রলীগের থানা সেক্রেটারির পদ বেচাকেনা-বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

রাজস্থানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সক্রিয় ইডি! তলব অশোক গেহলটের ভাইকে-সংবাদ প্রতিদিন

দেশে মোট আক্রান্ত ১৫ লাখ ছাড়াল, আক্রান্তের ৬৪ শতাংশের বেশি সুস্থ -আনন্দবাজার পত্রিকা

ভারতের মাটি ছুঁল রাফায়েল যুদ্ধবিমান-আজকাল

শিরোনামের পর এবার দুটি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। জনাব সিরাজুল ইসলাম..

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১) দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে না এলে বিআরটিসি-কে ঠেকানো যাবে না। একথা বলেছেন সড়ক পরবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার এ বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

২) আমেরিকার সঙ্গে যখন ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে তখন সামরিক মহড়া চালিয়েছে ইরান। এ মহড়ার গুরুত্ব কোথায়?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

বিশ্ব করোনার আপডেট: ওয়ার্ল্ডওমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে   জন। মোট আক্রান্ত    এবং মোট সুস্থ   জন। এদিকে চীনে ফের রেকর্ড আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে শঙ্কা বাড়ছে। আশার খবর- ১০ আগস্টের মধ্যেই অনুমোদন  পাচ্ছে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন!

রাজনীতির খবর:

পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে, চীন উন্নয়নের অংশীদার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন-দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন

১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের সরকারিভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এছাড়া চীন কেবল বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। এক বেসরকারি টেলিভিশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের দেওয়া সাক্ষাতকারে এসব মন্তব্যের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।গত রোববার রাতে আব্দুল মোমেন এই সাক্ষাতকার দেন। সাক্ষাৎকারে আব্দুল মোমেন জানান, তিনি গত ১ জুলাই পাকিস্তান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় দাবি করেছেন, পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায় তাহলে অবশ্যই দেশটি যে গণহত্যা চালিয়েছে তা সরকারিভাবে মেনে নিতে। এছাড়া তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশিদের জন্য এখনো অনেক বেদনাদায়ক।

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন চীনের কথা উল্লেখ করে বলেন দেশটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের অংশীদার। কিন্তু ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক তা 'গভীর ও ঐতিহাসিক'। দ্য ইকোনমিক টাইমস।

সড়কে শৃঙ্খলা না ফেরায় ওবায়দুল কাদেরের ক্ষোভ প্রকাশ-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

সড়কে শৃঙ্খলা না ফেরায় ওবায়দুল কাদেরের ক্ষোভ

সড়ক ও সেতু উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিলেও সড়কে শৃঙ্খলা না ফেরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সড়ক নির্মাণ কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে তবুও এখনও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে। সর্ষের মধ্য থেকে ভূত অবশ্যই তাড়াতে হবে। 

ভারত-চীন সম্পর্ক, উত্তেজনা এবং কৌশল নিয়ে ভারতের দৈনিক বর্তমান পত্রিকার বরাত দিয়ে দৈনিক মানবজমিন একটি লেখা তুলে ধরেছে। আর লেখাটি হচ্ছে ভারতের সংসদ সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর। লেখাটির শিরোনাম এরকম- 

চীন 'মাকড়শা' হলে ভারত তার 'শিকার' । এতে বলা হয়েছে, স্পাইডার্স ওয়েব। মানে মাকড়শার জাল। এ সম্পর্কে তথ্য জানতে যদি ইন্টারনেট সার্চ করেন, তবে আপনি জিনিসটাকে পাবেন—‘সিক্স সারপ্রাইজিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট স্পাইডারওয়েবস’ হিসেবে। মানে মাকড়শার জাল সম্পর্কে ছয়টি অবাক করা সত্য।

১. মাকড়শার ডিজাইন সেন্স বা নকশা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে।

২. মাকড়শার জাল শিকারকে মাঝপথে আটকায় না। তাকে বরং আকর্ষণ বা প্রলুব্ধ করে।

৩. মাকড়শার জালগুলো একটা কারণে চকচকে।

৪. মাকড়শাদের চলাফেরায় একটা গুপ্ত ভাব থাকে।

৫. মাকড়শারা বড় করে ভাবে।

৬. মাকড়াশারা সাধারণভাবে রোজই তার জাল পাল্টায়।

যদি আমার মতো করে ভাবেন তবে আপনি বলবেন যে, ‘ভীষণ ঠিকঠাক’! ভারত-চীন সীমান্তের ভয়ানক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে তাদেরকেই যথাযথ বা ঠিকঠাক (অ্যাপ্রোপ্রিয়েট) বলে মনে হয়। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী যুদ্ধে আমাদের পরাজয়ের সামনে তাদেরকেই যথাযথ বলে মনে হয়। দ্রুত তলিয়ে যেতে থাকা অর্থনীতি এবং বেকারত্বের মোকাবিলা করতে নেমে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশার জন্ম হয়েছে, মাকড়শাদের যথাযথ বলে মনে হয় সেখানেও। রাজস্থানে যে অনাবশ্যক লড়াইয়ের মধ্যে (লাক্সারি টাসল) প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আটকে রইল সেখানেও এদেরকে যথাযথ বলে মনে হয়।

রাজস্থান:শচীন পাইলট একজন ইয়ং ম্যান

রাজস্থানের রাজনীতি: সচিন পাইলট

তাঁর বিরাট উচ্চাশা। এর মধ্যে কোনও দোষ নেই। কিন্তু যে সময়টাতে তিনি এমন পদক্ষেপ করলেন তাতে সবটাই ভুলে ভরা হয়ে গেল। রাজস্থান-সহ পুরো জাতি আজ এমন তিনটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ব্যস্ত যা অতীতে কখনও করতে হয়নি। অর্থনীতি এবং মহামারীর বিষয়ে, দল এবং সরকার—উভয় দিক থেকেই বিজেপি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। চীনা হুমকির সামনে সরকার কিছু হাস্যকর কাণ্ড করে চলেছে, কিন্তু সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতিটা খোলাসা করছে না। অস্বীকার বা প্রতিবাদের ব্যাখ্যা দেওয়াটাই সরকারের মুখপাত্রদের নতুন একটা কাজ হয়েছে। অনুরাগ শ্রীবাস্তব যা বলেন সেটা লব আগরওয়াল যদি বুঝতে পারেন আমি অবাক হব। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার যে লক্ষণ (গ্রিন শুটস) অর্থমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে একবার করে দেখতে পান, ওই দু’জনের মধ্যে কোনও একজনের নজরে তা যদি ধরা পড়ে তাহলেও আমি অবাক হব।

অর্থনীতি

অর্থনীতির দিকে অথবা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকান। আর্থিক মন্দার ব্যাপারে গোড়ার দিকে যা আশঙ্কা করা হয়েছিল আজকের বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে অনেক খারাপ, অনেক বেশি উদ্বেগজনক। অর্থনীতি বাস্তবিকই ধসে পড়েছে। এসময় অর্থনীতির পুনর্গঠনের কৌশল সম্পর্কে শাসকদের পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। আর সেটা যদি অনুপস্থিত হয় তবে দৃঢ়তাশূন্য প্রতিটি ব্যবস্থাই নিষ্ফলা হবে।

করোনা ভাইরাস

মাকড়শার, সবটা না হলেও, কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের মিল রয়েছে। ভাইরাসটা চুপিসারে সব দেশে ঢুকেছে। এটা অনুপ্রবেশ করেছে ভারতের মতো বিরাট দেশেও। ভারতের সবক’টা রাজ্যে। সবক’টা জেলাতেও। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনবিন্যাস (ডেমোগ্রাফি), আবহাওয়া, মানুষের অভ্যাস, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, আয়ের শ্রেণীবিন্যাস, প্রস্তুতি, সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা-ক্ষমতা প্রভৃতি আলাদা। প্রতিটা দেশের এই বিপুল বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দিব্য মানিয়ে নিয়েছে এই ভাইরাস। মহাভারতের যুদ্ধটা ছিল আঠারো দিনের।

সেই অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্ব ভারতবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়টা হাসিল হবে মাত্র ২১ দিনে! ফলে, মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করেছিল। কেউ বুঝতে পারেনি যে এটা ছিল অসত্য, স্তোকবাক্য। না চিকিৎসা বিজ্ঞান, না মধ্যযুগীয় বিশ্বাস—কোনও কিছুরই উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না এই আশ্বাস। আমরা এখন জেনে গেছি যে যতক্ষণ না ভ্যাকসিন আবিষ্কার, প্রমাণিত ও বণ্টন হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা নিরস্ত্রই। কী কেন্দ্র, কী রাজ্য—সরকারগুলির উপর মানুষের বিশ্বাস, আস্থা আর নেই। 

চীন

চীন-ভারত উত্তেজনার পারদ চড়ল

চীন হল একেবারে বিদঘুটে ধরনের মাকড়শা। একটা মাকড়শার ‘সব’ ধরনের বৈশিষ্ট্যই এর মধ্যে রয়েছে। সর্বোপরি, দেশটার চিন্তাভাবনা বড় এবং এর শিকারদেরকে আকৃষ্ট করে। ছ’বছরে চীনের নেতার সঙ্গে ১৮টা মিটিং। তার মধ্যে একটা রাষ্ট্রীয় সফর এবং তিনটে শীর্ষ সম্মেলন। এমন চোখ ধাঁধানো খতিয়ান যে-কোনও কঠোর তপস্বীকেও ‘ফ্ল্যাটার’ করার পক্ষে যথেষ্ট। নরেন্দ্র মোদি কোনও তপস্বী নন। তাঁর ভয়ানক ইগো (সব প্রধানমন্ত্রীরই থাকে) এবং তাঁর দলের জন্য আরও বেশি অহংবোধ। মোদিজির মাপটা একেবারে নিখুঁত নিয়েছিলেন জি জিনপিং। উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মোদিজিকে চটুল প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। পারস্পরিক লগ্নিতে উৎসাহ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জিনপিং আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ২০২০-কে ‘ভারত-চীন সংস্কৃতি এবং মানুষে মানুষে ভাব বিনিময়ের বর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের জন্য বিশ্বমানের মঞ্চ বানাবেন।

কিন্তু, ২০২০-র জানুয়ারিতে কী কাণ্ডটা করলেন তিনি? চীনের লাল ফৌজকে (পিএলএ) এগিয়ে দিলেন ভারতে হানা দেওয়ার জন্য! চীনের জন্য ভারত হচ্ছে আর একটা আগুন নিয়ে খেলা। যেমন আগুনে-খেলা জিনপিং শুরু করেছেন হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, বেল্ট-অ্যান্ড-রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান, তুর্কি ও ইরানকে নিয়ে তাঁদের চার দেশের নয়া ঘোঁট (কোয়াড)। এই আগুন যদি কিছুটা ঝলসে দেয় তবে, এটা হবেও, চীন বীরদর্পে এগিয়ে যাবে। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া আর কোনও বিশ্বনেতা কি ভারতের বিরুদ্ধে চীনের আগ্রাসনের নিন্দা করেছেন? চীন যদি ‘মাকড়শা’ হয় তো ভারত হল তার ‘শিকার’—যাকে তার জালে প্রলুব্ধ করেছিল। মাকড়শারা চিরকাল বিরামহীন।

বাংলাদেশের কুটনীতি নিয়ে ভারতের অস্থিরতা

বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে ভারতে অস্থিরতা-সাংবাদিক কামাল আহমেদের নিবন্ধটি পরিবেশিত হয়েছে-দৈনিক প্রথম আলোতে। নিবন্ধে বলা হয়েছে,পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক হঠাৎ করেই আবার আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে তা যতটা না বাংলাদেশে হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটছে ভারতে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এখন একধরনের অস্থিরতা ও উদ্বেগ স্পষ্ট। দ্য হিন্দু পত্রিকা (বিস্ময়কর ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামে) জানিয়েছে যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার চার মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চেয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি (শেখ হাসিনা ফেইলড টু মিট ইন্ডিয়ান এনভয় ডেসপাইট রিকোয়েস্টস: ঢাকা ডেইলি, হিন্দু অনলাইন, ২৫ জুলাই, ২০২০)।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের টেলিফোনের পরই ভারতীয় বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বিষয়টিকে ভারতের জন্য দুঃসংবাদ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, ভারত-চীন সামরিক সংঘাতের পটভূমিতে দিল্লি তার প্রতিবেশীদের ওপর থেকে মনোযোগ হারানোর কারণে পাকিস্তান সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন স্বাধীনতা-উত্তরকালে সেরা অবস্থায় বলে আমরা শুনে আসছি, তখন ভারতের এ রকম উদ্বেগে মনে হয় বাস্তবে বন্ধুত্বের এই ভিত্তিটা হয় তত জোরালো নয় অথবা কোথাও কোথাও সমস্যা রয়েছে।

করোনা মহামারির কালে প্রায় সব দেশেই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কারণে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদি বন্ধ রয়েছে অথবা সীমিত আকারে চলছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী কোনো বিদেশি অতিথি বা কূটনীতিককে সাক্ষাৎ না দিলে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কী আছে, তা বোঝা মুশকিল। বরং এ ধরনের উদ্বেগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতারই ইঙ্গিত দেয়। 

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল তার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা এবং দণ্ডিতদের পক্ষসমর্থন। সেই টানাপোড়েনের কারণে কূটনৈতিক যোগাযোগে অবনমন ঘটলেও বাংলাদেশ কিন্তু তার সঙ্গে কখনো সম্পর্ক ছিন্ন করেনি।

ভারতীয় কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা এর আগে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি নিয়েও নানা রকম বক্তব্য দিয়েছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শোভন ছিল না। চীনের সঙ্গে বৈরিতা তীব্রতর হওয়া এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ার পটভূমিতে একটি ধারণা চালু আছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। তবে বাস্তবতা একেবারেই আলাদা।

ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তা প্রায় নজিরবিহীন। কিন্তু এর বিপরীতে বাণিজ্যিক লেনদেনে ন্যায্যতার প্রশ্নও উপেক্ষিত থেকেছে। এরপরও বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের দিক থেকে ভারত চীনের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। চীনের তুলনায় ভারতের সামর্থ্যগত সীমাবদ্ধতাই হচ্ছে এর কারণ।

করোনা মোকাবিলায় সহায়তার ক্ষেত্রেও ভারতের থেকে চীন অনেক এগিয়ে আছে। 

মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন এক বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি, তখন রপ্তানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি। এ রকম পরিস্থিতিতে চীন তার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে বাংলাদেশকে উৎকোচ প্রদানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। করোনার প্রতিষেধক টিকার পরীক্ষায় যুক্ত হওয়ার জন্য চীনের আহ্বানে বাংলাদেশের ইতিবাচক সাড়া দেওয়াকেও নেতিবাচক দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের তরফে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না। কয়েক বছর ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন দল, বিজেপি কথিত অনুপ্রবেশকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাংলাদেশবিরোধী যে প্রচার চালিয়ে আসছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। দলটির সভাপতি অমিত শাহ কথিত অনুপ্রবেশকারীদের উইপোকা অভিহিত করে বহিষ্কারের অঙ্গীকার করেছেন। গত বছরে সীমান্ত দিয়ে ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের কাউকে কাউকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনীতিতে কথিত অনুপ্রবেশকারী ইস্যুটি কতটা প্রাধান্য পাচ্ছে, তার একটা দৃষ্টান্ত হচ্ছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন এবং নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্ট্রার বা এনআরসি। আসামে এই এনআরসিতে ১৯ লাখ বাংলাভাষী নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে। এখন পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতেই এনআরসির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বভাবতই বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়। কিন্তু, সেই উদ্বেগ নিরসনে ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের ন্যূনতম আগ্রহ নেই।

গত বছরের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দিল্লি সফরের সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর যৌথ বিবৃতিতে যে তাঁরা সম্মত হতে পারলেন না, আলাদা বিবৃতি প্রকাশিত হলো, তা ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনেকেই বিস্মৃত হয়েছেন।

তারপরও অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। তিস্তার পানিবণ্টন অনিষ্পন্ন থাকলেও ফেনী নদীর পানি প্রশ্নে ছাড় দিয়েছেন। ওই সব সমঝোতার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলে নজরদারির জন্য ভারতীয় রাডার স্থাপনের বিষয়ও রয়েছে। কিন্তু ভারত তার যথার্থ স্বীকৃতি দিতে এখনো কার্পণ্য করে চলেছে। একমাত্র যে সীমান্তে বেসামরিক মানুষজন ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে নিহত হচ্ছেন, সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্ত।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর বাতিল করেছিলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে তাঁর সফর বাতিল করেছিলেন। কিন্তু গত ছয় মাসে ভারতের তরফে এমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যাতে আস্থার সংকট দূর হয়েছে বলে প্রমাণ মিলবে। প্রতিবেশীর প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্পর্কে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্যদের প্রতি দোষারোপের কোনো সমাধান নেই।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে জাতিগত স্বাধিকারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই ইতিহাস সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ জম্মু-কাশ্মীর প্রশ্নে একেবারে নিশ্চুপ রয়েছে। বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ককে জোরদার ও টেকসই করার উদ্দেশ্যে তার নিরাপত্তাগত চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু দৃশ্যমান সুসম্পর্কের নিচে যে অদৃশ্য ফাটল তৈরি হয়েছে, তার স্বীকারোক্তি মেলে ভারতের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের বক্তব্যে।

মেনন আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআরসি প্রসঙ্গে ২১ জুলাই বলেছেন, ‘যেভাবে এই গোটা বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এই নিয়ে বিতর্কের সময়ে এবং সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় যা যা বলা এবং করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। ভারতের বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ এবং গঠনমূলক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করেছে, তা যদি প্রভাবশালী ভারতীয় নেতাদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক লাভের জন্য দেওয়া বিবৃতিতে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা লজ্জার।’

শিবশঙ্কর মেনন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি যে সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সরকারও সহযোগিতাকাঠামোর দুর্বলতার জায়গাগুলো অনুসন্ধান করেনি। বিজেপি সরকারের সেটা করার সম্ভাবনা যে নেই, তা মোটামুটি এত দিনে স্পষ্ট হয়েছে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উগ্র রাজনৈতিক ধারায় সেটা যে সম্ভব নয়, ভারতের নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা সেটুকু অন্তত উপলব্ধি করবেন, সেটাই প্রত্যাশা। মেননের উপলব্ধিকে তাই স্বাগত জানাতেই হয়।

দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনামা- ভারতকে ‘চাপে’ রাখতে জোর তৎপরতা চীনের। বিশ্ব মিডিয়ার খবরে দেখা যাচ্ছে-বর্তমান সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।

করোনা: বাণিজ্য ঘাটতিতেও রেকর্ড-দৈনিক মানবজমিন

করোনাকালে বাণিজ্য ঘাটতিতেও রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় দুটোই কমেছে। এর আগের বছরগুলোতে কখনও কখনও রপ্তানি আয় হোঁচট খেলেও আমদানি ব্যয় বরাবরই বেড়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে পণ্য বাণিজ্যে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছে গত অর্থবছর।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হজার ৭৮৬ কো‌টি ১০ লাখ (১৭৮৬.১ মিলিয়ন) ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি বাণিজ্যে বড় বড় হোঁচট খাওয়ায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশে থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বছরের শুরু থেকে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী আঘাত হানে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পুরো দুনিয়া।

বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক কার্যক্রম। অচল হয়ে পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্য। এতে করে নেতিবাচক ধারায় থাকা দেশের রপ্তানি আয় ফেব্রুয়ারির পর থেকে ব্যাপক হারে কমতে থাকে। অন্যদিকে অর্থনীতির চাঙ্গা রাখার প্রধান সূচক রেমিট্যান্স আয়ও চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে অনেক কমে যায়। এসব কারণে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়ের বৈদেশিক লেনদেনে চলতি হিসাবে ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশি ক্রেতা নেই, কলকাতার ঈদবাজারে হতাশা-দৈনিক প্রথম আলো

কলকাতা নিউ মার্কেটের নামী কাপড়ের দোকান ‘মিলন’। এর মালিক চুনীভাই উমরানিয়া বলছিলেন, ‘আমাদের এই দোকান বাংলাদেশিদের কাছে খুব জনপ্রিয়। আমাদের ক্রেতার ৮০ শতাংশই বাংলাদেশি। করোনার কারণে লকডাউন শুরু হওয়ার পর কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটক আসা বন্ধ হয়েছে। এখন স্থানীয় কিছু মানুষ আসছে। কিন্তু বিক্রিবাট্টা নেই বললে চলে।’চুনীভাই বলেন, ‘আমাদের দোকান তো বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য ১২ মাসই জমজমাট থাকে। আর দুই ঈদে তো প্রচণ্ড ভিড় লেগে থাকে। এবার তা নেই। করোনায় আতঙ্কিত মানুষ।’

দোকানিদের কথা, এই এলাকার ঈদের বাজার জমত বাংলাদেশের ক্রেতাদের নিয়ে। এখন বাংলাদেশি ক্রেতা নেই। হোটেল ফাঁকা। বাংলাদেশিরাও আসছেন না। ফলে তাঁরা হতাশ।

করোনা পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো কেড়ে নিয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দও। তাই এ বার ঈদুল আজহা এলেও ক্রেতাহীন ঈদবাজারের ছবি ভেসে উঠেছে কলকাতার সর্বত্র। গতকাল নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মানুষের ভিড় নেই। যা আছে সামান্য স্থানীয় লোকজন।শুধু বাংলাদেশি নয়, ঈদের বাজার করতে আসতেন অন্যান্য রাজ্যের মানুষও। তাঁরাও আসছেন না এবার।

নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মো. আশরাফি বললেন, ‘সত্যিই আমাদের এই নিউমার্কেট এলাকার দোকানপাট টিকে আছে বাংলাদেশের ক্রেতাদের আগমনে। তারাই আমাদের মূল ক্রেতা। এখন বাংলাদেশি ক্রেতা নেই। আমরা হতাশ।’

শুধু কাপড়চোপড়ের দোকানিরাই নন, এ হতাশা অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। নিউ মার্কেট প্রায় ফাঁকা। নিউ মার্কেটের ফলের দোকানদার ইফতেখার আসলাম বলেছেন, ‘আমার ফলের ক্রেতাদের অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশি পর্যটকেরা। তারা আজ নেই; তাই আমাদের বেচাকেনাও নেই।’

মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেল ম্যানেজার জালাল উদ্দিন আকবরের মুখেও এ কথা। বললেন, ‘বাংলাদেশি পর্যটক নেই। হোটেল ফাঁকা। আমাদের ব্যবসাও নেই। 

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

অবশেষে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভারতের মাটি ছুঁল

প্রতীক্ষার অবসান: ভারতের মাটি ছুঁল রাফায়েল যুদ্ধবিমান-দৈনিক আজকাল, আনন্দবাজার সংবাদপ্রতিদিনসহ সব দৈনিকের খবরে লেখা হয়েছে,অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বিতর্কের রেশ কাটিয়ে ৭০০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আজ, বুধবার দুপুরেই ভারতের হরিয়ানার আম্বালার বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে 'বিউটি অ্যান্ড বিস্ট' ৫টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান। রাফায়েল যুদ্ধবিমানকে সাদরে অভ্যর্থনা জানান বায়ুসেনা প্রধান আরকেএস ভাদৌরিয়া। বুধবার সকাল থেকেই আম্বালায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।পাক সীমান্ত থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিতি আম্বালা বিমানঘাঁটি। ঘাঁটি সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ কোনও রকম ছবি তোলা, ভিডিও করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ফ্রান্স থেকে রওনা দেয় ৫টি রাফায়েল বিমান। বায়ুসেনার ‘‌গোল্ডেন অ্যারো ‌স্কোয়াড্রনে যোগ দেবে এই পাঁচটি রাফায়েল।চীনের সঙ্গে সংঘর্ষের আবহে ভারতীয় বায়ুসেনায় রাফায়েলের অর্ন্তভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের হাতে আছে জে ২০,জে-১৬, জে ১১ এর মতো একাধিক ফিফথ জেনারেশন যুদ্ধবিমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে এবার টক্কর দিতে পারবে রাফায়েল ফাইটার জেট। পরীক্ষিত রাফায়েল যুদ্ধবিমান-পাকিস্তান ও চীনকে জবাব দিতে কোমর বেঁধে তৈরি। আগামী সাতদিনের মধ্যেই রণসজ্জায় সেজে উঠবে ফ্রান্সের বিউটি অ্যান্ড বিস্ট-রাফায়েল।

ভারতে করোনার আপডেট খবর: দেশে মোট আক্রান্ত ১৫ লাখ ছাড়াল, আক্রান্তের ৬৪ শতাংশের বেশি সুস্থ-আনন্দবাজার পত্রিকা ও সংবাদ প্রতিদিনের এ খবরে লেখা হয়েছে, বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় ১৫ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গেল ভারত। একদিনে মারা গেছেন-৭৬৮ জন। ফলে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৩৪ হাজার ১৯৩ জন।আনলক শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই ধারা এখনও অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় ফের ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৬৯ জন। সংক্রমণের নিরিখে এখনও বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকলেও প্রতিদিন এই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

মুম্বইয়ের বস্তিগুলোয় ৫৭ শতাংশেরই অজান্তে কোভিড হয়ে গেছে, বলছে সমীক্ষা-দৈনিক আজকাল পত্রিকার এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে,৭,০০০ মুম্বইবাসীর ওপর একটি চিকিৎসামূলক সমীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বাণিজ্যনগরীতে ১৬ শতাংশই ইতিমধ্যে করোনা সংক্রামিত হয়ে গেছেন।  তাঁরা নিজেরা বুঝতেও পারেননি। বস্তিগুলোতেও এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেই ফল দেখে তাজ্জব গবেষকরা। 

সমীক্ষায় এও দেখা গেছে, বেশিরভাগ করোনা আক্রান্তের মধ্যে কোনও লক্ষণই ছিল না। মুম্বইয়ে এখন পর্যন্ত আক্তান হয়েছেন এক লক্ষ ১০ হাজার ৮৪৬ জন। মারা গেছেন ৬,১৮৪ জন। দিল্লিতেও এই রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি দেখা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে ২৩.‌৪৮ শতাংশ বাসিন্দা অজান্তেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অতীতে।

দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম-রাজস্থানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সক্রিয় ইডি! তলব অশোক গেহলটের ভাইকে। বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে,রাজস্থানে রাজনৈতিক ডামাডোল চরম আকার নিয়েছে। শচীন পাইলট ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করার পর সরকার বাঁচাতেই একপ্রকার নাজেহাল দশা মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের । একদিকে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে রাজ্যপালের অনড় মনোভাব। একসঙ্গে দু’দিকের চাপ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার। এসবের মধ্যেই আবার ‘হঠাত’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি  এবং আয়কর বিভাগ। গত দু’সপ্তাহে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ীর ঠিকানায় হানা দেওয়ার পর, এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইকে তলব করল ইডি।

পাঠ্যবই থেকে টিপু সুলতানের অধ্যায় বাদ দেওয়ায় তুমুল বিতর্ক কর্ণাটকে-সংবাদ প্রতিদিন

কিছুদিন আগেই CBSE’র সিলেবাস থেকে নাগরিকত্ব-ধর্মনিরপেক্ষতা-গণতান্ত্রিক অধিকারের মতো বিষয়গুলি বাদ পড়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নয়া বিতর্ক কর্ণাটকে। করোনা মহামারীর জেরে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যক্রম কমানোর অজুহাতে এবার সমাজ বিজ্ঞানের পাঠ্যবই থেকে টিপু সুলতানের (Tipu Sultan) অধ্যায়টাই বাদ দিয়ে দিল কর্ণাটকের শিক্ষাদপ্তর। যা নিয়ে তুমুল হইচই দক্ষিণী রাজ্যে। #

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯