নভেম্বর ১৯, ২০২০ ২১:২৪ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ভালো ও সুস্থ আছো। সপ্তাহ ঘুরে রংধনুর আসর সাজিয়ে তোমাদের মাঝে আবারো হাজির হয়েছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান।

বন্ধুরা, আজকের আসরের শুরুতেই থাকছে পাঁচটি শিক্ষণীয় গল্প। বিদেশি গল্প অবলম্বনে এগুলো বাংলায় লিখেছেন বাংলাদেশি গল্পকার আশরাফুল আলম পিনটু। গল্পের পর থাকবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এক নতুন বন্ধুর সাক্ষাৎকার। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমেই গল্পটি শোনা যাক।

বন্ধুরাতোমরা নিশ্চয়ই 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু' এই প্রবাদটি শুনেছ। এই প্রবাদটি মধ্যেই কিন্তু লোভের ফল ও এর পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও অনেক মানুষ লোভ-লালসার কাছে নিজেকে বন্দি করে ফেলে। আজকের আসরের প্রথমেই রয়েছে এক লোভী মানুষের গল্প।

(স্বর্ণমুদ্রা ও লোভী লোক)

অনেক দিন আগের কথা। এক ছিল লোভী লোক। অন্যের জিনিসে ভাগ বসানোর সুযোগ খুঁজত সবসময়। কিন্তু নিজের এক আনাও অন্য কাউকে দিত না। এমনই স্বার্থপর মানুষ সে।

একদিন লোকটি রাস্তায় ত্রিশটি স্বর্ণমুদ্রা হারিয়ে ফেলল। স্বর্ণমুদ্রা হারানোর কথা শুনলেন তার এক বন্ধু। তিনি ছিলেন খুব দয়ালু। ঘটনাক্রমে তার মেয়ে ওই ত্রিশটি স্বর্ণমুদ্রা কুড়িয়ে পেল। বাড়ি ফিরে সেই কথা বাবাকে জানাল মেয়েটি। দয়ালু লোকটি ভাবলেন, এটা নিশ্চয় তার বন্ধুর হারিয়ে যাওয়া সেই স্বর্ণমুদ্রা। তাই মুদ্রাগুলো ফিরিয়ে দিতে তিনি লোকটির কাছে গেলেন।

লোভী-স্বার্থপর বন্ধুটি যখন শুনল তার মেয়ে ওই মুদ্রা কুড়িয়ে পেয়েছে তখন সে বলল, ‘আমার মোট চল্লিশটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। তোমার মেয়ে নিশ্চয় এখান থেকে দশটি সরিয়ে রেখেছে। আমাকে তোমার চল্লিশটি মুদ্রাই দিতে হবে।’

বন্ধুর এ কথা শুনে দয়ালু লোকটি রেগে গেলেন। তবু মুদ্রাগুলো সেখানে রেখে চলে এলেন বাড়িতে। কিন্তু লোভী বন্ধুটি তাকে ছাড়তে চাইল না। আরও দশটি স্বর্ণমুদ্রা আদায় করার ফন্দি আঁটল। সে নালিশ জানাল আদালতে।

বিচারক সেই বাবা ও তার মেয়েকে ডেকে পাঠালেন। তারা এলে বিচারক মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলেন, সত্যি সে কতটি মুদ্রা পেয়েছিল। ত্রিশটি স্বর্ণমুদ্রা পাওয়ার কথা জানাল মেয়েটি। বিচারক আবার লোভী লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কতটি মুদ্রা হারিয়েছিল। লোকটি জবাব দিল, ‘হুজুর, মোট চল্লিশটি স্বর্ণমুদ্রা।’

বিচারক বলেন, ‘তাহলে মেয়েটির কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণমুদ্রাগুলো তোমার নয়। কারণ মেয়েটি পেয়েছে ত্রিশটি মুদ্রা। কিন্তু তুমি হারিয়েছ চল্লিশটি।’

এ রায় দিয়ে বিচারক মুদ্রাগুলো মেয়েটিকে নিয়ে যেতে বললেন। এও জানিয়ে দিলেন, যদি কেউ এই ত্রিশটি হারানো মুদ্রা দাবি করে তবে তাকে আবার ডেকে পাঠাবেন তিনি।

এবার বিচারক লোভী লোকটিকে বললেন, ‘যদি কেউ খবর দেয় সে চল্লিশটি স্বর্ণমুদ্রা কুড়িয়ে পেয়েছে তবে তোমাকে ডেকে পাঠানো হবে।’

লোভী লোকটি বিপদ বুঝতে পারল। দশটি স্বর্ণমুদ্রা আদায় করতে গিয়ে নিজের ত্রিশটিই হারাতে হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে স্বীকার করল, সে মিথ্যা বলেছে। আসলে তার ত্রিশটি স্বর্ণমুদ্রাই হারিয়েছে। তাই তাকে সেগুলো ফিরিয়ে দেয়া হোক। কিন্তু বিচারক তার কোনো কথাই শুনলেন না।

বন্ধুরা, এ গল্প থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, লোভের বশে মিথ্যা বলে অন্যের জিনিস হাতাতে গেলে নিজেরটাই খোয়া যেতে পারে।

(রাজা আর দরবেশ)

বন্ধুরা, লোভ মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। তাই লোভ না করে আমাদের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত।  আসরের এবারের গল্পটি এ সম্পর্কেই।

এক ছিল বিখ্যাত রাজা। তার রাজধানীর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এক দরবেশ। হঠাৎ রাস্তায় একটি মুদ্রা দেখতে পেলেন। মুদ্রাটি তুলে নিলেন তিনি। নিজের সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন। এই মুদ্রা তার কোনো কাজে লাগবে না। তাই ভাবলেন, যার দরকার তেমন কোনো অভাবী গরিবকে এটি দান করবেন।

কিন্তু সারা দিনেও তেমন কোনো লোক খুঁজে পেলেন না। অবশেষে রাত কাটালেন একটি পান্থশালায়। পরদিন সকালে জেগে উঠলেন দরবেশ। দেখলেন, রাজা চলেছেন অন্যদেশ জয় করতে। সঙ্গে চলেছে সৈন্যসামন্ত। দরবেশকে দেখে রাজা সৈন্যদের থামতে আদেশ দিলেন।

দরবেশের কাছে এসে রাজা বললেন, ‘মাননীয় দরবেশ, অন্যদেশ জয় করতে যাচ্ছি। এতে আমার রাজ্য আরও বড় হবে। আমি আরও ধনসম্পদের মালিক হব। আপনি আমাকে আশীর্বাদ করুন, যেন জয়ী হতে পারি।’

দরবেশ একটু চিন্তা করলেন। তারপর সেই মুদ্রাটি দিলেন রাজার হাতে। রাজা তো হতভম্ব! খানিকটা বিরক্তও। এই সামান্য একটি মুদ্রা তার কী এমন কাজে লাগবে! কারণ তিনি একজন সেরা ধনী রাজা। তিনি কৌতূহল নিয়ে দরবেশের কাছে জানতে চাইলেন, ‘হে দরবেশ, এই একটি মুদ্রার কী মানে?’

দরবেশ বললেন, ‘হে মহান রাজা, আমি এ মুদ্রাটি গতকাল কুড়িয়ে পেয়েছি। কিন্তু আমার কোনো মুদ্রার দরকার নেই। তাই যার দরকার সেরকম কোনো লোককে এটি দেব ভেবেছিলাম। আমি সারা দিন আপনার রাজধানীর রাস্তায় ঘুরেছি। কিন্তু তেমন অভাবী কাউকে খুঁজে পাইনি। সবাই খুব সুখেই আছে। তার মানে তাদের যা আছে তা নিয়ে তারা খুশি। আর তাই এ মুদ্রাটি দেয়ার মতো কোনো লোক খুঁজে পাইনি। কিন্তু আজ পেলাম। দেখলাম, রাজ্যের রাজা নিজেই যা আছে তা নিয়ে খুশি নন। তিনি আরও বেশি কিছু পেতে চান। তাই আমার মনে হয়েছে, এই মুদ্রাটি আপনারই বেশি দরকার।

রাজা নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। বাতিল করে দিলেন যুদ্ধযাত্রা।

বন্ধুরা, এ গল্পের শিক্ষা হচ্ছে, আমাদের যার যা আছে তা নিয়েই খুশি থাকা উচিত। অযথা আড়ম্বর কাউকে সুখী করতে পারে না।

(মায়ের ভালোবাসা)

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ মা এই শব্দটির মধ্যে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর সকল সুখ-শান্তি, আনন্দ, ভালোবাসা এবং সকল মায়া এই পৃথিবীতে যদি নিঃস্বার্থ কোনো ভালোবাসা থেকে থাকে তাহলে সেটা মায়ের ভালোবাসা মায়ের ভালোবাসার সাথে আর কোনো কিছুর তুলনা হতে পারে না অনুষ্ঠানের পর্যায়ে রয়েছে মায়ের ভালোবাসা সম্পর্কেই একটি সত্য ঘটনা

বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের ছোটবেলার কথা। একদিন এডিসন স্কুল থেকে বাড়ি এলেন। একটা কাগজ দিলেন মায়ের হাতে। বললেন, ‘আমার শিক্ষক এ কাগজটা দিয়েছেন। এটা দিতে বলেছেন, একমাত্র তোমারই হাতে।’

কাগজটা পড়লেন মা। তার চোখে পানি এলো। ছেলেকে শুনিয়ে তিনি জোরে জোরে পড়লেন, ‘আপনার ছেলে খুবই প্রতিভাবান। আমাদের স্কুল খুবই ছোট। তাকে শিক্ষাদানের মতো কোনো শিক্ষক এখানে নেই। দয়া করে তাকে আপনি নিজেই শিক্ষা দিন।’

অনেক দিন পরের কথা। এরই মধ্যে এডিসনের মা মারা গেছেন। এডিসন শতাব্দীর সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একদিন তিনি তাদের পুরনো ঘরে একটা ভাঁজ করা কাগজ পেলেন। যে কাগজটা বহুদিন আগে, তার ছেলেবেলায় শিক্ষক দিয়েছিলেন তার মাকে দিতে। তিনি কাগজটা খুললেন। সেই চিঠিতে লেখা- ‘আপনার সন্তান মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে আমরা আর কোনোমতেই স্কুলে রাখতে পারছি না। তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হল।’

চিঠি পড়ে এডিসন আবেগে কাতর হয়ে পড়লেন। তারপর তার ডায়েরিতে লিখলেন, ‘টমাস আলভা এডিসন মানসিক অসুস্থ এক শিশু ছিলেন কিন্তু তার মা তাকে শতাব্দীর সেরা প্রতিভাবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।’

ক) এ ঘটনাটি থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, একজন মায়ের ভালোবাসা ও শিক্ষা তার সন্তানকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

(বাবার ভালোবাসা)

বন্ধুরা, মায়ের পর এবার আমরা বাবার ভালোবাসা সম্পর্কে একটি গল্পটি শোনাব।

এক বাবা বসে ছিলেন ড্রয়িংরুমের সোফায়। বয়স আশির কাছাকাছি। তার উচ্চশিক্ষিত ছেলেও ছিল পাশে।

তার বয়স চল্লিশ বছর। হঠাৎ একটা কাক এসে বসল জানালার পাশের গাছে। ছেলের কাছে বাবা জানতে চাইলেন, ‘ওটা কী পাখিরে?’

ছেলে জবাব দিল, ‘একটা কাক, বাবা।’

মিনিটখানেক পর ছেলের কাছে বাবা দ্বিতীয়বার জানতে চাইলেন, ‘ওটা কী পাখি?’

ছেলে বলল, ‘বাবা, এইমাত্র তোমাকে বললাম- এটা একটা কাক।’

সামান্য কিছুক্ষণ পর বুড়ো বাবা আবার জানতে চাইলেন, ‘ওটা কী পাখিরে, বাপ?’

এই নিয়ে তিনবার একই প্রশ্ন শুনে ছেলে খানিকটা বিরক্তির সুরে বলল, ‘এটা একটা কাক, বাবা। একটা কাক! একটা কাক!’

কিছুক্ষণ পর বাবা আবার চতুর্থবারের মতো ছেলের কাছে জানতে চাইলেন, ‘ওটা কী পাখি?’

ছেলে এবার চেঁচিয়ে উঠল, ‘তুমি কেন বারবার একই প্রশ্ন করছ? আমি তোমাকে কয়েকবার বললাম, ওটা একটা কা-ক। তুমি কি বুঝতে পারছ না?’

বাবা কিছু না বলে ঘরে গেলেন। ফিরে এলেন একটা পুরনো জীর্ণ ডায়েরি নিয়ে। এ ডায়েরিতে তিনি তার ছেলের জন্ম থেকে বড় হওয়ার ঘটনাবলী লিখে রেখেছেন। একটি পাতা খুলে তিনি ছেলেকে পড়তে বললেন। ছেলে পড়তে শুরু করল। ওই পাতায় লেখা ছিল-

আজ আমার তিন বছরের ছোট ছেলে আমার সঙ্গে সোফায় বসে ছিল। এমন সময় একটা কাক এসে বসল জানালায়। আমার ছেলে আমাকে তেইশবার জিজ্ঞেস করেছে ওটা কী। আমি তেইশবারই জবাব দিয়েছি, ওটা একটা কাক। যতবার সে জিজ্ঞেস করেছে ততবার তাকে আমি আদর করে চুমু দিয়েছি। বারবার এভাবে তেইশবার। আমার একটুও বিরক্ত লাগেনি। বরং নিষ্পাপ শিশুপুত্রের প্রশ্নে মজা পেয়েছি।

ছোট ছেলে বাবাকে তেইশবার একই প্রশ্ন করছে। বাবা রাগ করেননি। কিন্তু মাত্র চারবার বাবা একই প্রশ্ন করাতে ছেলে বিরক্ত হয়েছে। রেগেও গেছে।

অথচ এমনটি করা ছেলের উচিত হয়নি। বাবা-মাকে সবসময় সুখী করতে হয়। কারণ তারা অনেক যত্ন সন্তানকে বড় করে তোলেন।

(দুই প্রতিবেশী)

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করে তাদেরকে প্রতিবেশী বলা হয়। তবে কখনও কখনও সফর অথবা কাজের সঙ্গীকেও প্রতিবেশী বলা হয়।

প্রতিবেশীই হচ্ছে মানুষের সবচে' নিকটজন, যিনি তার খবরাখবর সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি জানেন। তাই ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং তার অধিকারকে খুব বড় করে দেখা হয়েছে। মহানবী (সা.) এ সম্পর্কে বলেছেন, "যে আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।"  

বন্ধুরা, এ হাদিস থেকে জানলে যে, কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া যাবে না। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে দুই প্রতিবেশীর গল্প শোনা যাক।

এক ছিল জ্ঞানী লোক। শুধু জ্ঞানেই নয়, ধনেও বড়লোক ছিলেন তিনি। একবার বিরাট এক বাগান কিনলেন তিনি। সেই বাগানে ছিল খুব সুন্দর একটি বাড়ি। কিন্তু সব কিছুই তার জন্য সুখের ছিল না। তার বাড়ির পাশেই ছিল একটি পুরানো বাড়ি। সেই বাড়িতে বাস করতেন এক হিংসুটে লোক। প্রতিবেশী হিসেবে মোটেও সুবিধের নন।

সুন্দর বাড়ির লোকটির পেছনে অনবরত লেগে থাকতেন। তার সুখী জীবন দুর্বিষহ করে তোলার চেষ্টা করতেন যতদূর সম্ভব। ময়লা-আবর্জনা তার গেটের ভেতর ফেলতেন। আরও ফেলতেন নানা নোংরা জিনিস।

এক সুন্দর সকাল। জ্ঞানী লোকটি ঘুম থেকে জাগলেন। আজ তার মন খুব ভালো। ফুরফুরে মেজাজে গেলেন বারান্দায়। দেখলেন, সেখানে ঝুড়ি ঝুড়ি আবর্জনা ফেলা রয়েছে। অনেক নোংরা জিনিস ছড়ানো ছিটানো চারদিকে।

জ্ঞানী লোকটি একটি ঝুড়ি নিলেন। পরিষ্কার করলেন বারান্দার ময়লা আবর্জনা। তারপর একটি ঝুড়ি নিয়ে চললেন প্রতিবেশীর বাড়িতে। হিংসুক প্রতিবেশীর দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি।

হিংসুক লোকটি কড়া নাড়ার শব্দ শুনলেন। উৎফুল্ল হয়ে ভাবলেন, ‘শেষ পর্যন্ত লোকটাকে তাহলে জব্দ করতে পেরেছি!’

দরজা খুলতে এগিয়ে এলেন হিংসুক লোকটি। মনে মনে তৈরি হলেন ধনী প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়ার জন্য। কিন্তু তেমন কিছুই হল না। দরজা খুলতেই দেখলেন হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন জ্ঞানী লোকটি। একঝুড়ি টাটকা আপেল বাড়িয়ে ধরে বললেন, ‘নিন, আমার বাগানের আপেল। যার যা আছে তিনি তো তা-ই প্রতিবেশীকে  দেবেন, তাই না!’

জ্ঞানী লোকটির কথা শুনে লজ্জা পেলেন হিংসুক লোকটি। এভাবে নিজেই জব্দ হলেন।

এ গল্পটি থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, অযথা অন্যকে জব্দ করতে গেলে নিজেই লজ্জায় পড়তে হয়।

আফিয়া রহমান ইবনাত রুহী

বন্ধুরা, আসরের এ পর্যায়ে তোমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো ঢাকার এক বন্ধুকে। ওর নাম আফিয়া রহমান ইবনাত রুহী

শিশু-কিশোর বন্ধুরা, তোমরা ভালো ও সুস্থ থেকে এ কামনা করে গুটিয়ে নিচ্ছি রংধনুর আজকের আসর। কথা হবে আবারো পরবর্তী আসরে।

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।