নভেম্বর ২৬, ২০২০ ২০:৩০ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছো ভালো ও সুস্থ আছো। রংধনুর আজকের আসরে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ এবং আমি আকতার জাহান।

বন্ধুরা, আজকের আসরের শুরুতেই থাকছে কয়েকটি শিক্ষণীয় গল্প। বিদেশি গল্প অবলম্বনে গল্পগুলো বাংলায় লিখেছেন বাংলাদেশি গল্পকার আশরাফুল আলম পিনটু। গল্পের পর থাকবে একটি গান। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমেই গল্প শোনা যাক।

(ময়ূর আর কাক)

এক বনে ছিল এক কাক। বেশ সুখেই দিন কাটছিল তার। কিন্তু একদিন সে এক রাজহাঁস দেখল। দেখে ভাবল, ‘আহা, রাজহাঁসের গায়ের রং কত সাদা! আর আমি কত কালো! এই রাজহাঁসই হল দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী পাখি।’

তার ভাবনার কথাটা সে রাজহাঁসকে জানাল। রাজহাঁস বলল, ‘আমি নিজেও সেটাই মনে করতাম। কিন্তু টিয়াপাখি দেখে আমার ধারণা ভেঙে গেছে। তার দুটো রং আরও সুন্দর। এখন আমার মনে হয়, টিয়াই দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী পাখি।’

এ কথা শুনে টিয়াকে খুঁজে বের করল কাক। টিয়া বলল, ‘ময়ূরকে দেখার আগ পর্যন্ত সুখেই ছিলাম আমি। আমার মাত্র দুটো রং। কিন্তু ময়ূরের গায়ে অনেক রং।’

এবার ময়ূর দেখতে কাক গেল চিড়িয়াখানায়। দেখতে পেল প্রচুর লোক ভিড় করে ময়ূর দেখছে। লোকজন একসময় চলে গেল। এই সুযোগে কাক গেল ময়ূরের কাছে। বলল, ‘ভাই ময়ূর, তুমি খুবই সুন্দর। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক তোমাকে দেখতে আসে। আর মানুষ আমাকে দেখলেই দূরছাই করে তাড়িয়ে দেয়। আমার ধারণা, তুমিই হলে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী পাখি।’

ময়ূর জবাব দিল, ‘আমিও সবসময় ভাবতাম, আমি দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর আর সুখী পাখি। কিন্তু আমার সৌন্দর্যের কারণেই আমি চিড়িয়াখানায় বন্দি। আমি চিড়িয়াখানা খুব ভালো করে পরখ করে দেখেছি আর তাতে যা বুঝেছি, কাকই একমাত্র পাখি যাকে খাঁচায় বন্দি করা হয় না। কাজেই কয়েকদিন থেকে ভাবছি, যদি কাক হতাম তাহলে মনের সুখে সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম।’

বন্ধুরা, এ গল্প থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, আমরা অনেকেই নিজেকে সুখী মনে করি না। কিন্তু নিজের অবস্থান নিয়ে যারা সন্তুষ্টু তারাই সবচেয়ে সুখী।

 (কচ্ছপ আর পাখি)

এক কচ্ছপ পানিতে হেলানো গাছের ডালে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সেই গাছের ওপরের ডালে ছিল এক পাখির বাসা।

একদিন পাখিটিকে কাছে পেয়ে কচ্ছপ রসিকতা করে বলল, ‘কী বিচ্ছিরি তোমার বাসা! ভাঙা ডালপালা দিয়ে তৈরি। এর কোনো ছাদ নেই। হিজিবিজি দেখতে। খুবই খারাপ তোমার বাসা! আর আমার খোলের বাসাটা দেখ, কী সুন্দর! আমি মনে করি, আমার পিঠের খোল তোমার তুচ্ছ বাসার চেয়ে অনেক ভালো।’

পাখিটি বলল, ‘হ্যাঁ, আমার বাসা ভাঙা ডালপালা দিয়ে তৈরি। দেখতেও বিচ্ছিরি। ছাদ নেই। বাসাটা হিজিবিজি। তবু এটা আমি তৈরি করেছি। এ বাসা আমার খুব পছন্দের।’

কচ্ছপ: ‘আমার ধারণা, এটা আর দশটা বাসার মতোই। কিন্তু আমার খোলের মতো ভালো নয়। তুমি নিশ্চয় আমার খোলের ঘরকে ঈর্ষা করো!’

পাখি: ‘কখনই নয়। আমার বাসায় আমার পরিবার আর বন্ধুদের জন্য যথেষ্ট জায়গা আছে। তোমার খোলের ভেতর তুমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে জায়গা দিতে পার না। হয়তো তোমার একটি ভালো ঘর আছে। কিন্তু আমার রয়েছে একটি ভালো বাড়ি।’

এ গল্পের নীতি কথা হচ্ছে- জনশূন্য অট্টালিকার চেয়ে লোকজনে ভরা কুঁড়েঘর অনেক ভালো।

(হাঙরের টোপ)

একবার এক সামুদ্রিক প্রাণিবিজ্ঞানী একটি হাঙর নিয়ে পরীক্ষা চালালেন। তিনি হাঙরটিকে রাখলেন একটি বড়সড় পানির ট্যাংকে। তারপর টোপ হিসেবে সেটাতে কিছু ছোট মাছ ছেড়ে দিলেন। যা ঘটার সেটাই ঘটল। হাঙরটি সাঁতরে ছুটে এলো। আক্রমণ করল ছোট মাছগুলোকে। একে একে সব ছোট মাছ খেয়ে ফেলল।

এবার জীববিজ্ঞানী শক্ত স্বচ্ছ কাচের একটি দেয়াল দিয়ে ট্যাংকটিকে দুই ভাগ করলেন। তিনি হাঙরটি রাখলেন এক অংশে। অন্য অংশে রাখলেন নতুন কিছু ছোট মাছ।

হাঙরটি এবারও ছোট মাছগুলোকে আক্রমণ করতে দ্রুত ছুটে এলো। কিন্তু ঠোক্কর খেল শক্ত স্বচ্ছ কাচে। আবারও হাঙরটি চেষ্টা করল। কিন্তু কাচের দেয়ালে ঠোক্কর খেল আবারও। এভাবে বারবার আক্রমণের চেষ্টা চালাল হাঙরটি। ঠোক্কর খেয়ে ফিরে এলেও থামল না।

ট্যাংকের অন্যপাশে ছোট মাছগুলো অক্ষত থাকল। মাছগুলো সাঁতার কাটছিল নির্বিঘ্নে নির্ভাবনায়। বারবার আক্রমণ করে প্রায় একঘণ্টা পর হাঙরটি অবশেষে ক্ষান্ত দিল।

জীববিজ্ঞানী এই পরীক্ষাটি কয়েক সপ্তাহ চালালেন। প্রতি সপ্তাহেই বারো-তেরবার পরীক্ষা চালাতেন। প্রতিবারই হাঙরটি আক্রমণের ইচ্ছে একটু একটু করে হারিয়ে ফেলছিল। এমনকি হাঙরটি একসময় ক্লান্ত হয়ে মাছগুলোকে আক্রমণ করা বন্ধই করে দিল।

জীববিজ্ঞানী এবার শক্ত কাচের দেয়ালটি সরিয়ে ফেললেন। দেখলেন, এরপরও হাঙরটি আক্রমণ করছে না। হাঙরটির মনে বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল, তার ও ছোট মাছগুলোর মধ্যে একটি দেয়াল দেয়া আছে।

এ গল্পের শিক্ষা হচ্ছে- ব্যর্থ হলেই মিথ্যা প্রতিবন্ধকতার কথা ভেবে হাল ছেড়ে দিতে নেই। চেষ্টাই সাফল্যের চাবি।

(খরগোশের জন্য অপেক্ষা)

এক গ্রামে ছিলেন এক কৃষক। খুবই অলস। মাঠের কঠিন কাজ করতে চাইতেন না। একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে দিন পার করে দিতেন। একদিন তিনি এভাবে গাছের নিচে বসে আয়েশ করছিলেন। এমন সময় একটি খরগোশকে তাড়া করে এলো এক শেয়াল।

খরগোশটি খুব জোরে দৌড়াচ্ছিল প্রাণের ভয়ে। শেয়ালটি তাকে ধরার চেষ্টা করছিল। দিগ্বিদিক ভুলে দৌড়াতে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ভীষণ জোরে বাড়ি খেলো খরগোশটি। ধুম করে আওয়াজ হল। বাড়ি খেয়ে মারা গেল খরগোশটি।

লোকটি উঠে দাঁড়ালেন। তাকে দেখে কাছে ঘেঁষার সাহস পেল না শেয়ালটি। পালিয়ে গেল লেজ গুটিয়ে। হতাশ শেয়াল চলে গেলে লোকটি মৃত খরগোশটি তুলে নিয়ে বাড়ি গেলেন। রান্না করে রাতের খাবার সারলেন খরগোশের মাংস দিয়ে।

পরদিন খরগোশের লোমশ চামড়া বিক্রি করলেন বাজারে। তারপর কৃষক ভাবলেন, ‘এভাবে প্রতিদিন যদি আমি একটি করে খরগোশ পাই, তাহলে আমাকে আর কখনই কোনো কাজ করতে হবে না।’

পরদিন আগের সেই গাছটির কাছে গেলেন কৃষক। একইভাবে একটি খরগোশের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি কিছু খরগোশ দেখলেন ঠিকই কিন্তু সেগুলোর একটিও গতকালের মতো গাছটির দিকে দৌড়ে এলো না। আসলে গতকালেরটি ছিল বিরল একটি কাকতালীয় ঘটনা। কিন্তু কৃষক তা বুঝতেই পারলেন না। বরং খুশি মনে চিন্তা করলেন, ‘ঠিক আছে! আজ না হলেও কাল নিশ্চয় ঘটবে।’

সেই থেকে তিনি গাছে বাড়ি খেয়ে খরগোশের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। প্রতিদিন তিনি অপেক্ষায় বসে থাকতেন। মাঠের কাজের দিকে আর কোনো মনোযোগ দিলেন না। তার ধানক্ষেত আগাছায় ভরে গেল। ফলে খাওয়ার জন্য তিনি কোনো ফসল পেলেন না। অন্যদিকে পারলেন না কোনো খরগোশ ধরতেও।

এই গল্পের নীতিকথা হচ্ছে- কোনো কাজ না করে ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে নেই।

(একজন জ্যোতিষী)

অনেক দিন আগের কথা। এক লোক মনে করতেন তিনি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে ভবিষ্যৎ পড়তে পারেন। তিনি নিজেকে একজন জ্যোতিষী বলে প্রচার করতেন। রাত পার করে দিতেন আকাশ দেখে। সব সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। ভাবতেন, গ্রামবাসী তাদের ভবিষ্যৎ জানতে তার কাছে আসবে।

এক সন্ধ্যায় তিনি গ্রামের পথ ধরে হাঁটছিলেন। তার চোখ ছিল আকাশের নক্ষত্রের দিকে। ভাবলেন, তিনি কাছেই পৃথিবীর শেষ দেখতে পাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তায় ডুবে ছিলেন তিনি। আকাশের দিকে চোখ ছিল তার। নিচের দিকে নজর না রেখে হাঁটছিলেন।

হঠাৎ তিনি পড়ে গেলেন একটি নর্দমায়। ময়লা কাদা আর নোংরা পানিতে ভরা নর্দমা। পাগলের মতো হাত-পা ছুড়লেন। শরীরের সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করলেন ওপরে উঠে আসতে। কিন্তু পিচ্ছিল কিনার ধরে কিছুতেই ঊঠে আসতে পারলেন না। সাহায্যের জন্য তিনি চিৎকার করতে লাগলেন।

তার আকুতি শুনে গ্রামের লোকেরা ছুটে এলেন। তারা তাকে বহু কষ্টে টেনে তুললেন নোংরা নর্দমা থেকে।

তাদের একজন বললেন, ‘আপনি গ্রহ-নক্ষত্রে ভবিষৎ দেখতে পান বলে জাহির করেন। অথচ আপনার পায়ের নিচে কী আছে তা দেখতে পান না! এ থেকে শিক্ষা নিন, আপনার সামনে কী আছে সেদিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।’

আরেকজন বললেন, ‘আকাশেন নক্ষত্র দেখে কী লাভ যদি আপনি পৃথিবীতে কী আছে তা না দেখতে পান?’

এ গল্প থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, বর্তমানই ভবিষ্যতের অংশ। ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার জন্য বর্তমান জীবনেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। (অ্যানাউন্স)

(পাখি আর মৌমাছি)

বড় একটা গাছের ডালে ছিল একটা পাখির বাসা। অন্য এক ডালে ছিল একটি মৌচাক। ডালে বসে পাখিটি রোজ মৌমাছিদের দেখে। তারা মধুর খোঁজে উড়ে যায় কাছে-দূরে। ঘুরে ঘুরে ফুল থেকে মধু নিয়ে আসে।

একদিন পাখিটি গাছের ডালে বসে ছিল। সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল একটি মৌমাছি। পাখিটি তাকে ডেকে বলল, ‘ও ভাই, মৌমাছি। একটু শুনে যাও দেখি।’

মৌমাছি কাছে এসে বলল, ‘কী বলবে বল ভাই! আমার আবার সময় কম।’

পাখি: ‘তা তো জানি। অনেক দিন ধরেই তোমাকে একটি কথা বলব ভাবছি।’

মৌমাছি: ‘কী কথা বলবে, পাখিভাই?’

পাখি: ‘কত কষ্ট করে তোমরা মধু জমাও। অথচ মানুষ তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

মৌমাছি: ‘তা তো নেয়ই, ভাই। কী আর করব বল!’

পাখি: ‘এ জন্য তোমার কোনো দুঃখ হয় না?’

মৌমাছি: ‘না, এতে আমার কোনো দুঃখ নেই।’

পাখি: কী বললে- দুঃখ নেই! কিন্তু কেন?’

মৌমাছি: ‘কারণ মানুষ আমাদের মধু নেয় ঠিকই কিন্তু কখনই মধু তৈরির কৌশল ছিনিয়ে নিতে পারবে না।’

এ গল্পের শিক্ষা হচ্ছে- কারও ধনসম্পদ চুরি করা গেলেও তার ভালো গুণ কখনই চুরি করা যায় না।

(ভালো কপাল মন্দ কপাল)

চীনের এক গ্রামে ছিলেন এক বুড়ো কৃষক। তার ছিল এক চাষের ঘোড়া। একদিন সেই ঘোড়াটি পালিয়ে গেল পাহাড়ি এলাকার গভীরে। দুদর্শা দেখে তার প্রতিবেশী সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘কী আর করবে। তোমার কপাল মন্দ!’

কৃষক জবাব দিলেন, ‘কপাল মন্দ না ভালো, তা কেই বা জানে!’

এক সপ্তাহ পর ঘোড়াটি ফিরে এলো। ওর সঙ্গে এলো একপাল বুনো ঘোড়া। বুড়ো কৃষককে এবার অভিবাদন জানিয়ে প্রতিবেশী বললেন, ‘তোমার কপাল আসলেই ভালো।’

কৃষক এবারও জবাব দিলেন, ‘আমার কপাল মন্দ না ভালো, তা কেই বা জানে!’

তারপর তার ছেলে বুনো ঘোড়াগুলোর একটিকে বশে আনার চেষ্টা করতে গেল। কিন্তু ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে পা ভাঙল তার। এতে মন্দ কপালের কথাই ভাবল সবাই। কেবল বুড়ো কৃষকেরই ভাবনা ছিল, ‘কপাল মন্দ না ভালো, তা কেই বা জানে!’

এর কয়েক সপ্তাহ পর সেনাবাহিনী এলো গ্রামে। যুদ্ধে যেতে সবল যুবকদের ধরে নিয়ে গেল। কেবল ছেড়ে দিল বুড়ো কৃষকের পা ভাঙা ছেলেটিকে।

এ গল্প থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, কপালের ভালো-মন্দ সম্পর্কে সঠিক কথা কেউ কখনও বলতে পারে না।

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে তোমাদের জন্য রয়েছে পেন্সিলের ঝগড়াঝাড়ি নিয়ে একটি মজার গান। ‘একটা পেন্সিল’ শিরোনামের গানটির কথা ও সুর: আমিরুল মোমেনিন মানিক। আর গেয়েছে ঢাকার সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদের শিশু শিল্পী হিশাম, স্বাধীন, ইমন, তাহিয়া জান্নাত ও জাঈমা।

বন্ধুরা, তোমরা গানটি শুনতে থাকো আর আমরা বিদায় নিই রংধনুর আজকের আসর থেকে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/ মো.আবুসাঈদ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।