ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২১ ১৪:৫১ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের শিশু-কিশোর শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? আশা যে যেখানে আছো ভালো ও সুস্থ আছো। আজকের আসরে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’ প্রচলিত এই বাক্যটি তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছো। হেরে যাওয়ার ভয় থাকার পরও অনেকেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেগে যান। এতে ঘটনা যায় নানা দুর্ঘটনা। রাগ হলো বারুদের গুদামের মতো। আগুনের স্ফূলিঙ্গের ছোয়ায় সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে এই রাগ। রাগের কারণে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়, পারিবারিকসহ নানাভাবে অশান্তির সৃষ্টি হয় এমনকি শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। রাগের মাথায় একটা কিছু বলে বা করে ফেলে পরবর্তী সময়ে আক্ষেপও করে অনেকে। কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

গাজী আবদুর রশিদ: রাগ নিয়ন্ত্রণ মানে এমন নয় যে নিজের ভেতর রাগ চেপে রাখবে। আবেগ চেপে রাখা মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকর। তাই যে বিষয়টি রাগের কারণ, তা নিয়ে সম্পৃক্ত ব্যক্তির সাথে আলাপ করে সমাধান করা যেতে পারে। তবে এই আলাপ-আলোচনার সঠিক সময় তখনই, যখন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় থাকেন।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, তোমরা কিন্তু রাগান্বিত অবস্থায় হুট করে কিছু বলে বসবে না। যখন ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলতে না পারার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন চুপ করে থাকাই ভালো। এমন কথা কখনোই বলবে না, যার কারণে পরে অনুতপ্ত হতে পারেন। তাই ভেবেচিন্তে কথা বলবে- কেমন!।

গাজী আবদুর রশিদ: বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো যে, কর্মক্ষেত্রে, বাজারে, গণপরিবহনে অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটে পারে। এসব ক্ষেত্রে নানান ধরনের চাপে মাথা গরম থাকে অনেকের। তাই জবাব যতটা কম দেওয়া যায়, ততই ভালো। অপরপক্ষ উল্টোপাল্টা কথা বললেও সে কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার তাঁকে পাল্টা মন্দ কথা বলাও ঠিক নয়। প্রয়োজনে রাগান্বিত ব্যক্তিকে এড়িয়ে যেতে হবে। যখন তার রাগ কমবে কখন বিষয়ে নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, রাগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব কথা বলার উদ্দেশ্য তোমরা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছো। হ্যাঁ, আজ আমরা এ বিষয়েই একটি গল্প শোনাব। গল্পের পর থাকবে একটি দেশের গান। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান।

গাজী আবদুর রশিদ: বন্ধুরা, আজকের আসরে আমরা কোনো গল্প শোনাব না। গল্প শোনাবে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. ফাতিন হাসনাত। রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে শিক্ষণীয় গল্পটি শোনা যাক। 

আকতার জাহান: ফাতিন হাসনাতের কাছ থেকে চমৎকার একটি শিক্ষণীয় গল্প শুনলে। আশা করি তোমরা রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবে বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি যদি প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকার পরও প্রতিশোধ না নেয় এবং ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তার এ কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়

গাজী আবদুর রশিদ: বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে রয়েছে একটি দেশের গান। গানটির গীতিকার : নাঈম আল ইসলাম মাহিন এবং সুরকার : ওবায়দুল্লাহ তারেক।  জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর পরিবেশিত গানটিতে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। গানটি গেয়েছে- তাওফিক ইসলাম, সালভী নওয়ার জারিফ, ফারহান সাদিক, হাসান আবিদ ও মাহদী হাসান।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, তোমরা গানটি শুনতে থাকো আর আমরা বিদায় নিই রংধনুর আজকের আসর থেকে।

গাজী আবদুর রশিদ: কথা হবে  আবারো আগামী পর্বে।# 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।