ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২১ ১৯:২১ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছ ভালো ও সুস্থ আছ। আজকের আসরে তোমাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান।

তোমরা নিশ্চয়ই বাড়িতে বিড়াল পোষো। মানুষের সঙ্গে গভীর সখ্যতার কারণে বিড়াল সারাবিশ্বেই একটি জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বাসা-বাড়ির বিভিন্ন রকম পোকা-মাকড় ও ইঁদুরজাতীয় প্রাণী শিকারের জন্যও বিড়াল জনপ্রিয়।

বিড়াল খুবই আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। তবে বিড়াল শুরু থেকে এত আদুরে বা আরামপ্রিয় ধরণের প্রাণী ছিল না। প্রায় কয়েক হাজার বছর ধরে কৃষক এবং নাবিকদের হয়ে তারা ইঁদুর ধরেছে এবং অনেক অনেক উপকার করে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে বিড়ালই মানুষের সঙ্গ বেছে নিয়েছিল।

বাংলাদেশে একে ‘বাঘের মাসি‘ বলে ডাকা হয়। দুধ, মাছ, মাংস বিড়ালের প্রিয় খাবার। এরা খুবই নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। কারণ এদের পায়ের নীচে খুব নরম মাংসপিণ্ড থাকে।

বন্ধুরা, আজকের আসরে আমরা ইঁদুর-বিড়াল নিয়ে দুটি গল্প শোনাব। এরপর থাকবে একটি গান। আর সবশেষে থাকবে একটি কবিতা। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে প্রথমেই বিড়াল সম্পর্কে প্রচলিত একটি গল্প শোনা যাক। 

এককালে এক গুহায় একদল ইঁদুর বাস করত। একদিন এক হুলো বিড়াল তাদের সন্ধান পেল। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখমুখ চকচক করে ওঠে। মোচ নাড়াতে নাড়াতে হুলো বিড়াল বলে উঠল- 'যাক, অনেক দিন পরে আজ কিছু সুস্বাদু আমিষ ভোজন করা যাবে!'

ওদিকে ইঁদুরগুলো প্রাণ হাতে করে থাকতে থাকতে আধমরা। বারবার খালি মিটিংসিটিং করে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রাণ রক্ষার উপায় খোঁজে। উপায় আর মেলে না। গুহা ছেড়ে যে পালিয়ে যাবে, তারও উপায় নেই। বিড়ালটা যে গুহার মুখেই শুয়ে থাকে! খিদে লাগলে একটা-দুইটা ইঁদুর ধরে মজা করে খায়।

একটা তরুণ ইঁদুর কাঁদতে কাঁদতে বলল: ‘কী যে বিপদে পড়লাম! আমরা কি নির্বংশ হয়ে যাব?’

বিড়ালের হাত থেকে বাঁচতে ইঁদুরগুলো একেকজন একেকটা পরামর্শ দিল। সেসব শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে লাগে না। এসময় মধ্যবয়স্ক এক ইঁদুর বলে উঠল:' পেয়েছি! পেয়েছি, একটা ভালো উপায় পেয়ে গেছি!’

বুদ্ধিমান বলে এই ইঁদুরটার খুব খ্যাতি ছিল। তার কথা শুনে সবার চোখ চকচক করে উঠল। বৃদ্ধ এক ইঁদুর বলল: তা বাপু কী উপায় পেয়েছো বলতো শুনি।

মধ্যবয়স্ক ইঁদুরটি বলল: উপায়টা হচ্ছে ওই বিড়ালটার গলায় একটা ঘণ্টা বেঁধে দিতে হবে।

প্রস্তাবটা শুনে সবাই 'হুররেএএএ' বলে চিল্লিয়ে উঠল। মধ্যবয়স্ক বিড়ালের খ্যাতি বেড়ে গেল আরও অনেক।

সবাইকে থামিয়ে বিড়ালদের নেতা বলল: 'কিন্তু এটা তো করা সম্ভব না। আমাদের অন্য কোনো উপায় খুঁজতে হবে।'

নেতার কথা শুনে সবাই হতাশ। এর-ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগল। একজন শেষ পর্যন্ত বলে উঠল, ‘কেন আমাদের অন্য উপায় খুঁজতে হবে? ঘণ্টা বাঁধলেই তো উত্তম হয়। ঘণ্টার আওয়াজ শুনে আমরা সবাই পলাতে পারব!

তা পারব। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

এ কথা শুনে সবাই চুপসে গেল। নতুন চিন্তা-ভাবনা শুরু করল।

এই গল্পের সারকথা কথা কোনোকিছু বাস্তবায়ন করতে হলে নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে হবে। না জানলে সেটা হবে অবাস্তব চিন্তা।

রাজা ও হুলো বিড়ালের গল্প

তো বন্ধুরা, এবারে রয়েছে এক 'রাজা ও হুলো বিড়ালের গল্প'। এটি লিখেছেন- বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার মির্জাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফুল্লাহ ভূঁইয়া। গল্পটি শোনা যাক:

এক ছিল রাজা আর রানী। রানী সবসময় সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর রাজা ছিলেন ভোজনরসিক মানুষ।

একদিন এক চাপরাশি এসে বলল, হুজুর! রান্নাঘরে ইঁদুরের বড়ো উৎপাত। এর একটা বিহিত করা দরকার।

রাজা হুকুম দিয়ে বললেন, ইঁদুরের বিশেষজ্ঞ ডাকা হোক।

রাজার হুকুমে রাজ্যের নামকরা ইঁদুর বিশেষজ্ঞকে নিয়ে আসা হলো। তিনি রাজদরবার ঘুরে ঘুরে দেখলেন। ইঁদুরের উৎপাত দেখে বিশেষজ্ঞ বললেন, ইঁদুরগুলো ভারি বজ্জাত। ওদের একমাত্র চিকিৎসা হলো বিষটোপ। রাতে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। সকালে দেখবে ওরা ঘুমিয়ে আছে।

এক কথা শুনে রাজা বললেন: বিষটোপে শুধু ইঁদুরই মরবে না, মানুষেরও বিপদ হতে পারে। এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

এরপর আনা হলো একজন বড় বিশেষজ্ঞকে। তিনিও রাজদরবার ঘুরে দেখলেন এবং বললেন, একটি হুলো বিড়াল এনে রান্নাঘরের পাহারায় বসানো যেতে পারে।

তার এ প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলো। সাথে সাথে আনা হলো একটি হুলো বিড়াল। রান্নাঘরের দায়িত্ব দেওয়া হলো বিড়ালকে।

বিড়াল মজার খাবারের গন্ধ পেয়ে খুশিতে আটখানা। সে একচোট খেয়ে নিল। এত বেশি পরিমাণ খেলো যে, শরীরটা ঝিমুচ্ছে তার। ইঁদুরেরা উঁকি দিয়ে দেখল, বিড়াল ঝিমুচ্ছে। তারা রান্নাঘরে ঢুকে ঝটপট খেয়ে নিল আগে।

চাপরাশি এসে দেখে বিড়াল ঝিমুচ্ছে আর ইঁদুরেরা খেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সে বিড়ালকে বলল, বাহ তুমিও খাও আবার ইঁদুরদেরও খাওয়াও, বাহ। তা তোমাকে রেখে লাভ কী লাভ বলো?  

বিড়াল ক্ষমা চেয়ে বলল, আর এমনটি হবে না। আমি সতর্ক পাহাড়া দেব।

কিন্তু অবস্থার খুব একটা উন্নতি হলো না। অলস বিড়াল যখন তখন ঝিমোয়। আর এই ফাঁকে ইঁদুরেরা খাবার খেয়ে চলে যায়।

ইঁদুরের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বিড়াল রাজাকে অনুনয় করে বলল, এই বজ্জাত ইঁদুরদের ধরার জন্য দয়া করে একটা ফাঁদের ব্যবস্থা করুন।

বিড়ালের অনুরোধে ফাঁদ আনা হলো। ফাঁদের ভেতরে রাখা হলো মজার মজার খাবার।

ফাঁদ দেখে ইঁদুরেরা হাসে। ওরা বিড়ালকে শুনিয়ে বলে, এর ভেতরের খাবারগুলো নিশ্চই খুব মজাদার হবে। কিন্তু এর ভেতরে কেমন করে যেতে হয় তা যদি কেউ দেখিয়ে দিত! তাহলে মজার খাবারগুলো খেয়ে আসতে পারতাম!

এসব শুনে বিড়াল মনে মনে হাসে আর বলে, এটা তোমাদের জন্যই আনা হয়েছে। সবুর করো। কিভাবে ঢুকতে হয় আমি এখনই দেখিয়ে দিচ্ছি।

এই বলে বিড়াল খুব বাহাদুরি দেখিয়ে যেই ফাঁদের ভেতরে ঢুকল অমনি খট করে ফাঁদের মুখ গেল আটকে। সঙ্গে সঙ্গে 'বাঁচাও বাঁচাও' বলে চিৎকার করতে লাগল।

 বিড়ালের চিৎকার

বিড়ালের কান্নাকাটি শুনে ইঁদুরেরা হাসতে হাসতে খেয়ে দেয়ে সেখান চলে গেল। বিড়াল অসহায় ভাবে তাকিয়ে সব দেখল।

চাপরাশি এসে খুশিতে চিৎকার করে ডাকাডাকি করতে লাগল। বলল দেখে যাও, বড় ইঁদুর আটকা পড়েছে ফাঁদে।

বিড়াল তখন করুণ সুরে বলল, ইঁদুর নয়গো ইঁদুর নয়। আমি বিড়াল। আমাকে বাঁচাও।

চাপরাশি চুপি দিয়ে বিড়ালকে ফাঁদের ভেতরে দেখে বলল, এটা ইঁদুরের জন্য। তুমি এখানে কী করছ?

বিড়াল বলল, আগে আমাকে বের করো, পরে বলছি।

বিড়ালের ব্যর্থতায় রাজা রাগ করলেন এবং বললেন, রান্নাঘরের জন্য দশজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হোক।

রান্নাঘর পাহারা দিতে দশজন কর্মচারী নিয়োগের কথা রাজ্যে প্রচার হয়ে গেল। বিষয়টি সাধারণ জনতা মেনে নিতে পারল না।

উজির এসে বললেন, রাজা মশাই জনগণ বিদ্রোহ শুরু করেছে। এমনিতে সাধারণ জনগণের অবস্থা ভালো নেই। তার ওপর সামান্য বিষয়ে এতগুলো কর্মচারী নিয়োগ করে বেতনভাতা দিয়ে কোষাগার খালি করার মানে হয় না।

রাজার অলসতার আর বোকামির বিষয়টি জানতে পেরে জনগণ তুমুল আন্দোলন শুরু করে দিল। তারা বলল, রাজা সামান্য রান্নাঘরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেন না, তো এত বড় রাজ্য পরিচালনা করবেন কী করে?

সচেতন জনগণ ব্যর্থ ও খাদক রাজার পরিবর্তে নতুন রাজার নাম ঘোষণা করল। নতুন রাজার শাসনে রাজ্যে ফিরে এলো শান্তি।

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে রয়েছে ইঁদুর ও বিড়াল ছানার বন্ধুত্ব নিয়ে একটি ছড়াগান। এটি গেয়েছে ঐশীকি সান্যাল। 

বন্ধুরা, এবার একটি বিখ্যাত কবিতা। ঢাকার সারেগামা একাডেমির সদস্য সামিনের কণ্ঠে শোনা যাক কবি কুসুমকুমারী দাশের কবিতা 'আদর্শ ছেলে।' 

সামিনের চমৎকার উচ্চারণে কবিতাটি শুনলে। আশা করি ভালো লেগেছে। তো দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে অনুষ্ঠান শোনার জন্য তোমাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

তোমরা ভালো ও সুস্থ থেকো আবারো এ কামনা করে গুটিয়ে নিচ্ছি রংধনুর আজকের আসর।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।