বাংলাদেশ এখন আগের মতো নেই, সর্বত্রই ডিজিটাল বিপ্লব: সৈয়দ আশরাফ
পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ১২ মে বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথম আলো অনলাইন: জামায়াত যথাসময়ে নিষিদ্ধ হবে: কামরুল
দৈনিক কালের কন্ঠ অনলাইন: জনসংখ্যা সংকট নয়, সম্পদ : প্রধানমন্ত্রী
নয়া দিগন্ত অনলাইন: বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে মালয়েশিয়া
ভারত:
দৈনিক আনন্দবাজার অনলাইন: ভারতের মেট্রো শহরগুলিতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বলছে সার্ভে
দৈনিক বর্তমান অনলাইন: আচরণবিধি শিথিল হতেই ময়দানে মন্ত্রীরা, নবান্নে মমতা, বৈঠকে সুব্রত
তো শ্রোতাবন্ধুরা! ! শিরোনাম শুনছিলেন, এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি।
মানবতাবিরোধী অপরাধী ও আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় নাক গলানো অব্যাহত রেখে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল হুদাকে তলব করা হয়েছে। প্রতিবাদে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পাল্টা তলব করেছে ঢাকা। দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এ খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেসসচিব মো. ইকবাল হোসেন জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাজমুল হুদাকে তলব করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের এই ধৃষ্টতামূলক আচরণের প্রতিবাদে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীর ফাঁসির রায় কর্যকর করা হয়।
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে গতকাল বুধবার সর্বসম্মতভাবে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত বলে জানায়।
এদিকে কালের কন্ঠের খবরে বলা হয়েছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে তুরস্ক।
......
যুদ্ধাপরাধ যুগের অবসান-এমন শিরোনাম করা হয়েছে দৈনিক বাংলাদিন প্রতিদিনে।
খবরে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর সর্বশেষ মতিউর রহমান নিজামীরও ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর সাজা ভোগ করা অবস্থায় কারাগারে মারা গেছেন গোলাম আযম। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ মাথায় নিয়ে সর্বপ্রথম কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসূফ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এভাবে একের পর এক রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ যুগের অবসান হতে চলেছে। দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করাই এখন সময়ের দাবি। দাবি। হাইকোর্টে দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সংশোধিত আইন মন্ত্রিপরিষদে উঠছে শিগগিরই। এভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধ পর্বের মতো জামায়াত চ্যাপ্টারও ক্লোজ করার সময় এসেছে।
.....
বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সর্বক্ষেত্রেই ডিজিটালের ছোঁয়া। এ দেশ আর আগের মতন নেই। সর্বত্রই এখন ডিজিটালের বিপ্লব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে বদলে গেছে। অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর জিমনেশিয়ামে দুই দিনব্যাপী বিভাগীয় ডিজিটাল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
.....
দৈনিক ইত্তেফাকের খবর-বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত মেগাসিটির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর ৮০ শতাংশ নগরবাসী দূষিত বায়ুতে নিঃশ্বাস গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ সময়ের আগেই মারা যাচ্ছে। বাড়ছে ফুসফুস ক্যান্সার সহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬৭টি দেশের ৭৯৫ টি শহরের ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত দূষণের মাত্রার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর শহরের বাতাসে ব্ল্যাক কার্বন ও সালফেটের মাত্রা কমলেও মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সেটি বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্র দেশের নগরে দূষণের মাত্রা বেশি। প্রায় ৯৮ শতাংশ শহরেই স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে দূষণের মাত্রা বেশি। ধনী দেশগুলোর ক্ষেত্রে সেটি ৫৬ শতাংশ।
সংগৃহীত তথ্যে দূষণের মাত্রার কোনো বৈশ্বিক তালিকা তৈরি করেনি। তবে ১৪ মিলিয়ন বা তার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার শহরের ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে আছে রাজধানী ঢাকা। বাংলাদেশের উপরে রয়েছে কেবল মিশরের রাজধানী কায়রো ও ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।
.....
শ্রোতাবন্ধুরা! বাংলাদেশের পর এবার ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খবরের চুম্বক অংশ তুলে ধরছি।
পুলিশ কি ১৯ মে-র অপেক্ষায়? এ শিরোনামের প্রতিবেদনে দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, আবার একটা মর্মান্তিক ঘটনা। তাকে ঘিরে আবার উত্তাল, উত্তপ্ত দিন।
কালী পুজোয় বলি দেয়ার জন্য মোষ কেনা হয়েছিল। খুঁজে না পেয়েই বলিদানের হোতারা ধরে নিলেন, চুরি গিয়েছে মোষ। চোর খুঁজতে রাস্তায় বেরিয়ে যাকে সামনে পাওয়া গেল, তাকেই বলি দেয়া হল।
ডায়মন্ড হারবারের ঘটনাটা নাড়িয়ে দিয়েছে সংবেদনশীলতার শিকড় পর্যন্ত! অচেনা, অজানা এক তরুণ। নাম, গোত্র, পরিচয় কিছুই জানা নেই। অথচ এক দল উন্মত্তের মনে হল, সে-ই চোর। অতএব, বেদম প্রহার শুরু। অতএব, ছেলের মুক্তি চেয়ে আছাড়িপিছাড়ি কাঁদতে থাকা মাকে চুলের মুঠি ধরে হিড়হিড় করে সরিয়ে দেয়া। অতএব, মৃতপ্রায় হয়ে আসা তরুণকেও ততক্ষণ হাসপাতালে নিয়ে যেতে না দেয়া, যতক্ষণ না মোষ চুরির দায় স্বীকার করে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার মুচলেকায় অশ্রুবিহ্বল মা সই করে দিচ্ছেন। গোটা কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে তৃণমূলের নেতা তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। পুলিশ বলছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মূল অভিযুক্তকে।
জনরোষ আছড়ে পড়েছে অভিযুক্তের বাড়িতে, আশপাশেও। আইন হাতে তুলে নিয়ে আর এক দল মানুষ উন্মত্ত ক্রোধে ভাঙচুর চালিয়েছে, আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
আইনের রক্ষকদের উপর কি ফের ভরসা কমতে শুরু করল? মাত্র ক’দিন আগেই তো হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করেছিল বাংলার পুলিশ! ভোটের বাংলায় পুলিশের ঋজু মেরুদণ্ড তো যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল! পরের কয়েক দিনে গঙ্গা দিয়ে যেটুকু জল গড়াল, তাতেই সব সঙ্কল্প ভেসে গেল নাকি?
নচেৎ এই জনরোষ তৈরি হওয়ার কথা তো ছিল না! অভিযুক্তকে আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া কি খুব শক্ত কাজ ছিল? পুলিশ ব্যর্থ হল? নাকি এ ব্যর্থতা ইচ্ছাকৃত?
পুলিশ ব্যর্থ হলেই আইন হাতে তুলে নিতে পারে জনসাধারণ, এমন কথা মোটেই বলছি না। কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েও অভিযুক্ত আইনের তথাকথিত লম্বা হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে কেন?
দৈনিক বর্তমান অনলাইনের খবর-যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে রাজ্যপালের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করল বামপন্থী অধ্যাপকদের সংগঠন জুটা। নজিরবিহীনভাবে রাজ্যপাল তথা আচার্যের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশৃঙ্খলার আখড়া হিসাবে চিহ্নিত করায় যাদবপুরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। গবেষণা বা পড়াশুনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যথেষ্ট ভালো। অথচ তা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
......
পাঠক ! আজকের কথাবার্তার আসরে এইছিল সর্বশেষ খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন।#
গাজী আবদুর রশীদ/১২