নির্বাচন এবং গণতন্ত্র নিয়ে যা বললেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i100030-নির্বাচন_এবং_গণতন্ত্র_নিয়ে_যা_বললেন_নির্বাচন_কমিশনার_মাহবুব_তালুকদার
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, প্রকৃত পক্ষে নির্বাচন এখন আইসিইউতে। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে। দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব গণতন্ত্রকে অন্তিম অবস্থায় নিয়ে গেছে। এই সংকট নিরসনে সকল দলের সমঝোতা অপরিহার্য।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৫, ২০২১ ১৪:০২ Asia/Dhaka

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, প্রকৃত পক্ষে নির্বাচন এখন আইসিইউতে। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে। দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব গণতন্ত্রকে অন্তিম অবস্থায় নিয়ে গেছে। এই সংকট নিরসনে সকল দলের সমঝোতা অপরিহার্য।

বোরবার বিকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ‘দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রক্তাক্ত নির্বাচন বললে অত্যুক্তি হবে না। নির্বাচনের সময় ও তার আগে-পরে এ পর্যন্ত ৩৯ জন নিহত হন। জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয় এই বার্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছাতে সম্ভবত ব্যর্থ হয়েছি। গত ১১ই নভেম্বর ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮০ জন চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। একে আক্ষরিক অর্থে নির্বাচন বলা যায় না। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, সেখানে নির্বাচন নেই। ইউপি নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে না হয়ে পূর্বের ন্যায় সবার জন্য উন্মুক্ত হলে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত’ হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মাহবুব তালুকদার পরামর্শ দেন, স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য পৃথক একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে।  তিনি বলেন , যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন ঠিক করে না, তার দায় কমিশন কেন নেবে? তবে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

ওদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত সহিংসতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গনমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশে এখন নির্বাচন এরকমই হবে। বিরোধী দল থাকুক বা না থাকুক, সরকারি দলের মধ্যেই মারামারি হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে মাত্র দ্বিতীয় ধাপ শেষ হয়েছে। এরপর যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, এমপিরা যখন নমিনেশন পাবে তখন আরও মারামারি হবে। আমাদের ইলেকশন কমিশন কিছু করতে পারবে না। করার কোনো মুরোদ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল না থাকলে দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য থাকে না। এটা বিরোধী দলের দোষ, তারা কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে মাঠ ছেড়ে দিয়ে ‘ফ্রি ফর অল’ করতে দেয়। তারাও এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির জন্য দায়ী।

এ প্রসঙ্গে, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, নির্বাচনে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার তার অভাব রয়েছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যারা নির্বাচন করছেন তারা যদি না চায় যে নির্বাচনকে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু করবো তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্নভাবে পক্ষপাতিত্ব।

এদিকে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১৩১টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এসব ইউনিয়নের নির্বাচনে মূলত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অন্তত চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জামানত রক্ষা করার মতো ভোটও পাননি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১৩১টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা ভোটের ফলে দ্বিতীয় স্থানেও ছিলেন না। এ গুলোর বেশীরভাগই হচ্ছে  রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান আছে বলে ধরা হয়। জেলার ৩০টি ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপে ভোটে ১০টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাকি ২০টি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১২টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় স্থানও  ধরে রাখতে  পারেনি ।

২০১৬ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরু হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। তবে অনেক জায়গায় বিএনপির প্রার্থী ছিল না। ওই নির্বাচনে মোট ২০৭টি ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন মোট ইউপির ৫ শতাংশে চেয়ারম্যান পদে ভোট দরকার হয়নি। এবার বিএনপি ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী প্রার্থী বাড়ছে। প্রথম দুই ধাপেই ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। শতকরা হিসাবে এবার এখন পর্যন্ত ১৪ শতাংশ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।#

 

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান / বাবুল আখতার/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।