হাসিনার সঙ্গে একত্রে কাজ চালিয়ে যেতে চান মোদি
ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রক্তের: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
ড. এ কে আব্দুল মোমেন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একত্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক মৈত্রী বা বন্ধুত্ব দিবস উপলক্ষে এক টুইট বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আজ আমরা যৌথভাবে আমাদের ৫০ বছরের বন্ধুত্বকে স্মরণ করি এবং উদযাপন করছি। আমাদের সম্পর্ককে আরও প্রসারিত ও গভীর করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি উন্মুখ।
১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত। ভুটানের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ যারা বাংলার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এদিকে, আজ বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ৫০ বছর পূর্তিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা আয়োজন করেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১।
সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের যে রক্তের সম্পর্ক, তা আরও গভীরভাবে উদযাপন করতে চাই। আমি তো সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতসহ প্রতিবেশী দেশে আনাগোনা করতে কোনো ভিসা লাগবে না। তাদের সঙ্গে আমাদের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভারত-পাকিস্তানের লড়াই নয়। এটি মুক্তিবাহিনী, মৈত্রীবাহিনী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ভারত সাহায্য করেছে স্বাধীন বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সঙ্গেও ৫০ বছরের ডিপ্লোম্যাটিক বছর পূর্তি উদযাপন করছি। এর জন্য দেশবাসীকেও ধন্যবাদ দেই। যে দল এ দেশে স্বাধীনতা নিয়ে এসেছিল তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আমাদের এই উদযাপনগুলো করার সুযোগ দিয়েছে।
আব্দুল মোমেন বলেন, শুধু বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা না, তিনি এই এরিয়াগুলোর উন্নয়ন চান। মানুষের উন্নয়ন চান। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেহেতু সলিড, সোনালী অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমাদের যে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আছে, তা আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করা যাবে।
আলোচনা সভায় ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কামালউদ্দিন সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এবং ভূটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুইনসেল। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম।
অনুষ্ঠানে ভুটান ও ভারতের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করে।
এ ছাড়া, ‘মৈত্রী দিবস’ উপলক্ষে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (আইসিডব্লিউএ) নয়াদিল্লিতে সোমবার বিকেলে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ৬ ডিসেম্বরকে ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা ও নয়াদিল্লিসহ বিশ্বের আরও ১৮টি দেশে একসঙ্গে মৈত্রী দিবস পালিত হcche।
অন্যান্য দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।