বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা
আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে দেশের ৩২টি জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রক্তে হিমোগ্লোবিন ও প্লাটিলেট রেট কমে গেছে, অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এর আগে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গত ১৩ নভেম্বর থেকে একমাসে চারবার তার বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। ওষুধ দিলে রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হলেও আবার শুরু হয়। এ অবস্থায় দ্রুত বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দিতে না পারলে তাকে বাঁচানো কঠিন হবে।
তিনি বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা বারবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং তারা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার যে অবস্থা, তাকে বিদেশে নিয়ে আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা না দিলে অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়। এ প্রসংগে নতুন কর্মসুচী ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আগামী ২২ তারিখ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সমাবেশ উপলক্ষে আমরা জাতীয় পর্যায়ে কয়েকটি টিম গঠন করেছি। যার তালিকা আমরা গণমাধ্যমকে পরে জানিয়ে দেবো।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথম দিন ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, খুলনা বিভাগের যশোর, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাক্ষণবাড়ীয়ায় সমাবেশ হবে।
এসব সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টাঙ্গাইলের জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। ২২, ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরে প্রতিদিন ৬টি এবং ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন ৭টি করে সমাবেশ হবে।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিতে ইতিমধ্যে সারাদেশে মানববন্ধন, সমাবেশ, গণঅনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি করেছে বিএনপি। আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।