ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আন্ত:কোন্দলে হতাহত অব্যাহত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i101574-ইউনিয়ন_পরিষদ_নির্বাচনে_আওয়ামী_লীগের_আন্ত_কোন্দলে_হতাহত_অব্যাহত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ এখন তুঙ্গে। চলতি নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মাঠে রয়ে গেছে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগে মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী। আর এ নিয়ে কোন্দলের জের ধরে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হাঙ্গামা, ভাংচুর, রক্তাক্ত সংঘাত, এমনকী খুনোখুনির মত ঘটনা ঘটছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০২১ ১৬:৪১ Asia/Dhaka
  • ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আন্ত:কোন্দলে হতাহত অব্যাহত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ এখন তুঙ্গে। চলতি নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মাঠে রয়ে গেছে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগে মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী। আর এ নিয়ে কোন্দলের জের ধরে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হাঙ্গামা, ভাংচুর, রক্তাক্ত সংঘাত, এমনকী খুনোখুনির মত ঘটনা ঘটছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল কাসেম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ কাইছের সমর্থকদের মধ্যে নয়াহাট এলাকায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কাসেমের নির্বাচনী অফিস এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর ও একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পায়ের হাড্ডি  হাতের  কব্জী ভেঙ্গে দেবার নির্দেশ

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উপকন্ঠে সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের নির্বাচনি সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা নির্দেশ দিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে হবে, তাদের পায়ের হাড্ডি হাতের কবজি ভেঙে দিতে হবে। তাদের আজীবনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে। সাভারের কোন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসিনা দৌলা বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের পায়ের যদি নুলা ভেঙে দেন, আর হাঁটতে পারবে না। সুতরাং আপনারা সাবধান হয়ে যান। আপনাদের পেছনে সরকার এমনিতে লেগে আছে। আমাদের সরকারি সংস্থাগুলো আপনাদের হাঁটতেও দেবে না, আপনাদের ভোট চাইতেও দেবে না। ভোট দিতেও দেবে না। কষ্ট করে কিচ্ছু হবে না। আপনাদের টাকা যদি বেশি হয়, সাভারের এমপি সাহেবকে  দিয়ে আসেন। আমরা একটা আওয়ামী লীগের ভবন বানাব।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র দখলের নির্দেশ

ওদিকে, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র দখলের নির্দেশ দিয়েছেন জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুখ আহম্মেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘নৌকা মার্কাকে যেকোনো মূল্যে বিজয়ী করতে হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে হলেও নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আপনারা ভোটকেন্দ্র দখল করে রাখবেন। নৌকা জননেত্রী শেখ হাসিনার মার্কা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশরাফুল আলমকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করা আপনার-আমার দায়িত্ব।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ জন  ‘বিদ্রোহী” প্রার্থীকে  দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত অনেকেই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বার বার অনুরোধ করেছেন। ওই অনুরোধ সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনকারী স্থানীয় সব দলীয় নেতা-কর্মীদের দল–মনোনীত প্রার্থীর (নৌকা) পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুবা তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হবে। ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টাকা নিয়ে আপস না করায় চেয়ারম্যান প্রার্থী খুন 

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী এরশাদুল হক (৩৫) ও তাঁর সহযোগী বাদল সরকারকে (২৫) গুলি করে হত্যা প্রসঙ্গে রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবী করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলার পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি মামলার অন্যতম আসামি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম ওরফে রাব্বি (৩৭) পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, একটি  হত্যা মামলায় আপস করার কথা বলে ৮০ লাখ টাকা নিয়েও কাজ না  করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

পুলিশ জানায়, ১৭ ডিসেম্বর রাতে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামে এরশাদুল ও বাদলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এরশাদুলের ভাই মো. আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। গত রোববার দিবাগত রাতে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করেছে  জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।