৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: জানাল র‍্যাব
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i101758-৫০_হাজার_টাকা_চাঁদা_না_পেয়ে_কক্সবাজারে_সংঘবদ্ধ_ধর্ষণ_জানাল_র_্যাব
বাংলাদেশের কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. আশিকুল ইসলাম আশিককে গ্রেফতারের পর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, মাত্র ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে ওই নারীকে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ২৭, ২০২১ ১৩:১৯ Asia/Dhaka
  • র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন
    র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন

বাংলাদেশের কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. আশিকুল ইসলাম আশিককে গ্রেফতারের পর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, মাত্র ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে ওই নারীকে।

আজ (সোমবার) সকালে রাজধানীর কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান। 

তিনি জানান, গ্রেফতার আশিক ও তার সহযোগীরা ওই নারীর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে লাবণী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আশিকুল ইসলাম ওই নারীকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আটক করে রেখে তার স্বামীর কাছে আবারও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ভিকটিমকে হোটেলে আটকে রেখে আশিক হোটেল থেকে বের হয়ে যায়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও আরও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে আশিক আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনার দুদিন পর তিনি দাঁড়ি গোঁফ কেটে বেশভুষা পরিবর্তন করে কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাসযোগে ঢাকায় আসেন। এরপর ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, ওই নারী আশিকের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। ঘটনার এক দিন আগে সৈকতে তাঁদের পরিচয় হয়। সন্তানের চিকিৎসার জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে আশিকদের নজরে পড়েন ওই নারী।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, নারীকে অপহরণের পর তাঁর স্বামী র‌্যাব–১৫–এর কাছে উদ্ধারে সহায়তা চান। র‌্যাব তাঁর স্বামীকে নিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর রাতে জিম্মি করার সহযোগিতার অভিযোগে জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

কমান্ডার আল মঈন আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশিক র‌্যাবের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আশিক কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র চালান। এ চক্রের সদস্যসংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫। ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আশিক। তিনি প্রথম ২০১৪ সালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন আশিক। তাঁর নামে কক্সবাজার সদর থানায় অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা আছে। পাঁচবার পুলিশ আশিককে গ্রেপ্তার করেছে। আশিকের নেতৃত্বে চক্রটি পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আশিক বিভিন্ন হোটেলে ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগসাজশে পর্যটকদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করতেন।এক পুলিশ সদস্যকেও ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করেন তিনি।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।