ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরো প্রাণহানি: পুলিশের ওপর হামলা
চলমান পঞ্চম দফায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও প্রানহানি, ভাংচুর এবং পুলিশের ওপর আক্রমনের খবর পাওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুধসর ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৩০টি বাড়ি-দোকান ভাঙচুর এবং তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ৩৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও তিন রাউন্ড টিয়ারসশেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নৌকা মার্কার বিজয়ী চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন সাবুর চাচা বাবলু ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। নৌকা মার্কায় ভোট না দেওয়ার অভিযোগে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে এসে হামলা করেছে পরাজিত প্রার্থী। আজ শুক্রবার ভোরে যাত্রাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বয়ড়া ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী আসনে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন হাবেজা বেগম। একই এলাকার কলম প্রতীকের প্রার্থী নার্গিস আক্তার অনেক বেশি ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হন।
এদিকে বগুড়ায় ৩০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, ব্যালট পেপার ছিনতাইচেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৩০০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আাসামিদের নাম অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গাবতলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (৫ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে গণনার সময় তিন শতাধিক অজ্ঞাত নারী-পুরুষ কেন্দ্রে ভাঙচুর চালায়। তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের মারধর ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা ৩১ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে এক নারীসহ গ্রামের চার জন নিহত হন।
গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
এদিকে, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা আলগী উত্তর ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত মো. মিজান গাজী (৫৫ )হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মৃত্যুবরণ করেন। ৫ই জানুয়ারি ভোটের দিন ২ নং আলগী উত্তর ইউনিয়ন জামিলায়ে মহিলা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মিজান আহত হন ।
ওদিকে, সরিষাবাড়ীতে পুলিশ তদন্তে কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের হামলা হয়েছে। আওামীলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলকে কেন্দ্র করে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের অনুসারীরা তারাকান্দি পুলিশ তদন্তে কেন্দ্রে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জসহ অন্তত ছয় জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের অনুসারীরা বৃহস্পতিবার রাতভর তারাকান্দি এলাকায় আনন্দে আতশবাজি করেন। শুক্রবার সকালে যমুনা সার কারখানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন।
এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে পুলিশ রফিক গ্রুপের ক্যাডার মোর্শেদকে আটক করে। এতে রফিকুল ইসলামের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা চালান। এসময় তদন্তকেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে তারা ওপর দিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফসহ অন্তত ছয় জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত বাকিদের মধ্যে রয়েছেন, উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম সোহাগ ও সুলতান মাহমুদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান এবং পুলিশ কনস্টেবল খোকনুজ্জামান ও সোলায়মান।
তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ বলেন, একাধিক মামলার আসামী মোর্শেদের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন সকাল থেকে কারখানা এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। মোর্শেদকে আটক করা হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমি নিজে আহত হয়েছি, আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) চাঁপাই নবাগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনি ও আব্দুল কুদ্দুস সেরাতাল ও তাদের সমর্থক শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে বিজয়ী প্রার্থী শরিয়তের বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। এসময় পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে।
হামলায় এসআই উসমানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের গুরুতর অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।