জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে: হাসিনা
জাতীয় সংসদে নির্বাচন কমিশন আইন ২০২২ পাশ; বিএনপি'র প্রত্যাখ্যান
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন আইন ২০২২ পাশ করা হয়েছে উপস্থিত সদস্যদের কন্ঠভোটে ।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে বলেছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ের ব্যাপারে তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল । এ সময় তিনি বলেন, এ আইনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে নির্বাচন সংক্রান্ত এ আইনটি পাশ করার জন্য সংসদের স্পীকার এবং সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ আইনে বিএনপি সহ অপরাপর রাজনৈতিক দলের ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে এ বিলটিকে “বিরোধী দলের তৈরি করা বিল” বলেও উল্লেখ করেন।
ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইন এক অনন্য মাইল ফলক
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জের ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক -সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইন পাস এক অনন্য মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, এই আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তাঁর সরকারী বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সব ব্যাখ্যা দেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানের আলোকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে এই আইন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করণে যা কিছু হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের মনে করেন, বিএনপি মহাসচিব নির্বাচন কমিশন আইনের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য রেখেছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় সংসদের সকল সদস্য ও দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয় ।
এই আইন পাস করার কোনো এখতিয়ার এই সংসদের নেইঃ বিএনপি
এর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, এই আইন পাস করার কোনো এখতিয়ার এই সংসদের নেই। কারণ এটি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সংসদ নয়।”
নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনের প্রশ্নই উঠে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা আরেকবার বাকশালে ঢুকতে চাই না।
মির্জা ফখরুল পুনরাবৃত্তি করে বলেন, “আমরা বলেছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তারা সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এবং তাদের পরিচালনায় সেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন। তারপর তারা ঠিক করবেন কিভাবে দেশ চলবে”#
পার্সটুডে/এআরকে/২৮