সব নাম প্রকাশের অনুরোধ বিশিষ্টজনদের
ইসি গঠনে ৩২৯ জনের নামের প্রস্তাব পেয়েছে সার্চ কমিটি
বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে জন্য ৩২৯ জনের নামের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার গঠিত অনুসন্ধান কমিটি (সার্চ কমিটি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে প্রস্তাবিত নামের তালিকায় সাবেক সচিবদের নামই বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৩৯টি। বিএনপিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল ইসি গঠনে কোনো নাম জমা দেয়নি।
সার্চ কমিটিতে নাম দেয়নি ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।
যেসব দল অনুসন্ধান কমিটির কাছে নামের তালিকা দিয়েছে, এর বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক কিংবা সমমনা দল হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও কেউ কেউ অনুসন্ধান কমিটির কাছে নাম জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগসহ বেশির ভাগ দল ১০টি করে নাম জমা দিয়েছে। কোনো কোনো দল আরও কমসংখ্যক নাম দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে, নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য প্রার্থীর তালিকা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ করেছিল অনুসন্ধান কমিটি। এরপর ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ঠিকানায় গত বুধবার চিঠি দিয়ে নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে প্রতিটি দলকে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে অনধিক ১০ জনের নাম (প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি) পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য রেগুলেটরি বডি বা রেফারির মতো। খেলায় কোনো দল খারাপ খেললে অনেক ক্ষেত্রে তারা রেফারিকে দোষারোপ করে, বিএনপির অবস্থাও অনেকটা সেরকম।’
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় আজ (শনিবার) দেশের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছে অনুসন্ধান কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আজকের প্রথম দফা বৈঠকে বিশিষ্ট নাগরিকেরা নির্বাচন কমিশনের জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীদের এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী ব্যক্তিদের নাম যাতে প্রস্তাব না করা হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া, সার্চ কমিটির বাছাইকৃত দশজনের নাম আগেই প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রথম দফার বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মুনসুরুল হক চৌধুরী, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এম কে রহমান, শাহদীন মালিক, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, বেসরকারী সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ এবং ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান।
প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, দলীয় সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তি যেন ইসিতে স্থান না পান, এমন দাবি তারা জানিয়েছেন। এই দাবি উপস্থিত আরও অনেকেই সমর্থন করেছেন।
সুবিধাভোগী বলতে কী বুঝিয়েছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন, এমন ব্যক্তি হতে পারেন।
একই দাবি তুলে ধরার কথা জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘যারা অবসরের পরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ বা বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন, তারা যেন কোনোভাবেই ইসিতে না আসতে পারেন। আর যারা আসবেন, তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন করার মানসিকতা ও সাহসিকতা যেন থাকে। ইসি গঠনের জন্য যাদের নাম প্রস্তাব করা হবে, তাদের নাম যেন আগেই প্রকাশ করা হয়, সে জন্য প্রস্তাব করেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগী, এমন কাউকে যেন ইসি হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া হয়, সেই প্রস্তাব করেছি। তবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী কেউ যাতে ইসি হিসেবে নিয়োগ না পান, তা–ও নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব নাম জমা দিয়েছে, নতুন কমিশনের সবাই এসব প্রস্তাব থেকে আসবেন, এমনটা না–ও হতে পারে। তবে, অনুসন্ধান কমিটির বাছাই করা ১০ জনের যে তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে, সেখান থেকে কিছু নাম থাকতে পারে নতুন কমিশনে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।