অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করব- সিইসি : নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করি না- বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i104540-অবাধ_ও_সুষ্ঠু_নির্বাচন_করব_সিইসি_নির্বাচন_কমিশনকে_বিশ্বাস_করি_না_বিএনপি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থাটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এরা নির্বাচন করবে কিন্তু মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে তাও নিশ্চিত করবে। অর্থাৎ তারা দেখাবে যে নির্বাচন করেছি কিন্তূ শুধু তাদেরই ক্ষমতায় থাকতে হবে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২ ১৪:৫৭ Asia/Dhaka

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থাটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এরা নির্বাচন করবে কিন্তু মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে তাও নিশ্চিত করবে। অর্থাৎ তারা দেখাবে যে নির্বাচন করেছি কিন্তূ শুধু তাদেরই ক্ষমতায় থাকতে হবে।

আজ (সোমবার) দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সর্বত্র পণ্য সরবরাহের দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন যেটাই হোক আমরা তাতে বিশ্বাস করি না। কারণ আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনের সময় সরকারে থাকে তাহলে কোনো নির্বাচন কমিশনই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একটি প্রতারক দল, মিথ্যাবাদী ও অত্যাচারী দল। নির্বাচন কমিশনের তালবাহানা আর মুলা দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী সরকার আবারো তাদের একান্ত অনুগত ও আওয়ামী ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষিত দলীয় আমলাদের দিয়ে তথাকথিত আরেকটি নির্বাচন কমিশন সাজিয়েছে । 

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট, আওয়ামী জাহেলিয়াতের আমলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসকারী নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। এই মুহূর্তে বিএনপির একমাত্রই এজেন্ডা, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। 

তবে, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, সেজন্য দেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সিইসি বলেন, ‘আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করেন। একটা চুক্তিবদ্ধ হন, যে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন। ওখানে সহিংসতা থাকবে না। কেউ কাউকে বাধা দেবে না।’

গতকাল শপথ নিয়ে আজ (সোমবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইসি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। আমরা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে প্রার্থনা ও প্রত্যাশা করি, সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে করণীয় না করেন, উনারা নিজেদেরকে প্রশ্ন করবেন, নাকি আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবেন? তাহলে আমি সবিনয়ে বলব, আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনাদের কিছু যদি ব্যর্থতা থাকে. তবে সেটাও স্বীকার করুন। সবাই যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রিস্টোর করুন। একটা ভালো সংসদ উপহার দিতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান এবং ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন সহজ হবে না। এবারের নির্বাচন হবে কঠিন লড়াই। এ নির্বাচন সহজভাবে নিলে চলবে না। প্রতিপক্ষ দুর্বল না। আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষের সব ধরনের শক্তি মোকাবিলা করবে। তবে, আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার ক্ষমতা কারও নেই।’

আজ সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপি অলরেডি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিএনপিনেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত। দুজনের একজনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। দুর্নীতির কারণে তাঁরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। #

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।