ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দেয়ার কারণ সম্পর্কে যা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i105676-ইউক্রেনের_পক্ষে_ভোট_দেয়ার_কারণ_সম্পর্কে_যা_বললেন_বাংলাদেশের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে বাংলাদেশ যে ভোট দিয়েছে তা কোনো চাপের মুখে দেয়নি বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, মানবিক কারণে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের বিপক্ষে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২৫, ২০২২ ১৫:২৬ Asia/Dhaka
  • ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দেয়ার কারণ সম্পর্কে যা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে বাংলাদেশ যে ভোট দিয়েছে তা কোনো চাপের মুখে দেয়নি বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, মানবিক কারণে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের বিপক্ষে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর আগারগাওঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জেনোসাইড ইন ১৯৭১’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

গত ২ মার্চ ইউক্রেনে আগ্রাসন সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকলেও ২৪ মার্চ ইউক্রেন সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই প্রস্তাবে ১৪০টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়, ৩৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং পাঁচটি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়।

সেই প্রস্তাব একতরফা ছিল এবং সেখানে শুধু রাশিয়াকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যুদ্ধতো এক হাতে হয় না, এক হাতে তালি বাজে না। এখানে অন্য পক্ষের নামই আসেনি। সে জন্য আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এটি অত্যন্ত পার্টিজান এবং এটিতে যুদ্ধ থামবে না।’

যুদ্ধ থামাতে হলে উভয় পক্ষকে আন্তরিকতার সঙ্গে সামনে আসতে হবে। কিন্তু আগেরটাতে মনে হয়েছিল এক পক্ষকে দোষারোপ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‌‘যেকোনও যুদ্ধে সাধারণ নাগরিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের রেজুলেশনে বলা হয়েছে, যারা নির্যাতিত এবং আহত হয়েছে তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য। যেহেতু আমরা চাই, যারা নির্যাতিত হয়েছে তারা সব ধরনের সুবিধা পাক, সেই জন্য আমরা এ রেজুলেশনে রাজি হয়েছি।’

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘে পশ্চিমা দেশের পক্ষ থেকে একটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে আরেকটি রেজুলেশন এসেছিল এবং দুটোই মানুষের মঙ্গলের জন্য আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ উভয় রেজুলেশনে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাউথ আফ্রিকার রেজুলেশন পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার কারণে ভোট দেওয়া হয়নি।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শ্রীলঙ্কার একজন প্রতিনিধি সম্প্রতি বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের যুদ্ধতে আমাদের জোর করে অংশীদার করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব তাদের দাবা খেলার রাজনীতিতে আমাদের জোর করে টেনে আনার চেষ্টা করছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি তিনি ভালো কথা বলেছেন। আমরা যুদ্ধ চাই না এবং যুদ্ধে অংশীদার হতে চাই না।’

বর্তমানের যুদ্ধ শুধু সৈন্য দিয়ে হয় না, অর্থনৈতিকভাবেও হয় বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‌আমরা বিভিন্ন ধরনের বিষয় চিন্তা করছি। দেখা যাক কী হয়। কারণ, আমাদের মনে হচ্ছে এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে এবং এটি গোটা বিশ্বের যে আর্কিটেকচার সেটি পরিবর্তন করতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, এটি ভালো হবে না মন্দ হবে সেটি জানি না। তবে যে বিশ্বাসের জায়গার ওপরে অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, সেটিতে একটি বড় ধরনের আঘাত আসবে।

যুদ্ধে সব দেশের ক্ষতি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তেলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসের দাম বাড়বে। বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে যুদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু আমরা যেহেতু আন্তনির্ভরশীল একটি ব্যবস্থার বড় সদস্য, আমাদের উন্নয়ন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বড় প্রভাব আসবে।’

বাংলাদেশের ওপর বিভিন্নমুখী চাপ আছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাপ আমাদের অনেক দিক থেকেই আছে। কিন্তু চাপ আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোনও ভ্রুক্ষেপ করেন না।’ # 

পার্সটুডে/২৫