ভরা মৌশুমে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি: নিয়ন্ত্রনে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ
ভরা মৌশুমে বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধভাবে মজুত ঠেকাতে রাজধানীসহ সারাদেশে অভিযান চলছে। অভিযানের খবর পেয়ে চাল ব্যবসায়ীদের অনেকে দোকানপাট ফেলে পালিয়ে যায়।
এ দিকে, দেশের বাজার থেকে চাল কিনে যারা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে, তারা দেশের বাজার থেকে চাল কিনতে পারবেন না- এমর্মে একটি আইন প্রনয়নেরও প্রক্রিয়া চলছে। খাদ্যমন্ত্রী আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান। খাদ্যমন্ত্রী জানান, অবৈধ মজুদের তথ্য জানাতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলচনা হয় এবং এর কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের পর ধান চালের অবৈধ মজুত ঠেকাতেই মাঠে নামে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আটটি টিম। কেউ অবৈধ মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে টিমের সদস্যরা। একই সাথে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তবে বিরোধীদল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আওয়ামীলীগের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারনে ভরা মৌশুমে চালের দাম বড়ানো হচ্ছে। আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপ মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈএমন অভিযোগ তুলে ধরেন।
নিত্যপণ্যের দাম এখনই কমছে না
দেশে নিত্যপণ্যের দাম এখনই কমছে না বলে আজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বুধবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অবস্থার কারণে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে। অপরদিকে দেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ডলারের দাম। ফলে আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ডলারের দাম কমাতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক অবস্থার শিকার বাংলাদেশে পণ্যের দাম কমা নিয়ে নতুন কোনো সুখবর নেই। চালের দাম বাড়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে। এ বিষয়ে কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চাল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে সারাদেশে অভিযান চলছে।
অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে তেলের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে টিপু মুনশী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা এক কোটি পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
টিপু মুনশি আরও বলেন, আমাদের দেশে তেলের লিটার ১৯৮ টাকা হলেও কলকাতায় ২১৫ টাকায় লিটার বিক্রি হচ্ছে। সাংবাদিকরা শুধু দেশে তেলের দাম বাড়ছে জানালে জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ভারতে তেলের দাম কত সেটিও প্রচার করতে হবে।#
পার্সটুডে/ আব্দুুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।