নেত্রী বললে সাতদিনে সরকারকে পদত্যাগ করানো সম্ভব: হান্নান শাহ
বিএনপির নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার ‘তথাকথিত’ উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে। প্রতিটি মেগা প্রকল্পেই লুটপাট চলছে।
আজ (বুধবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ’- শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হান্নান শাহ বলেন, কেবল লুটপাটের জন্যই ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেনের ব্যয় ৮৮০ কোটি টাকা থেকে থেকে ১৪শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
হান্নান শাহ আরও অভিযোগ করেন, “সরকার দেশের স্বার্থ বিদেশের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ট্রানজিটের নামে দেশের স্বার্থও অন্যদের দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশ চলছে অবৈধ সরকারের অধীনে। যে কারণে জনগণের স্বার্থকে কোনো প্রাধান্য দিচ্ছে না সরকার।”
তিনি বলেন, “এরশাদকে চারদিনে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া গেছে। নেত্রী (খালেদা জিয়া) বললে মিডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সাতদিনে সরকারকে পদত্যাগ করানো সম্ভব। শুধু কথায় চিড়া ভিজবে না। সবাই রাজপথে নামলেই সরকার উৎখাত সম্ভব।”
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সংবাদপত্রের অপর নাম ছিল সন্দেশ। এটা সবার কাছে খেতেই ভালো লাগে। কৈশোরে আজাদ পত্রিকা পড়ার জন্য উন্মুখ থাকতাম। কিন্তু বর্তমানে সেই সন্দেশ আর নেই। জনগণ এখন সত্য সংবাদ পাচ্ছে না। জনগণের মধ্যে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। সত্যিকারের সাংবাদিক শুধু দেশে না, পৃথিবীতে পাওয়া মুশকিল।”
গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করে হান্নান শাহ বলেন, “দেশ সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছে। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা যাচ্ছে না। কেউ বললেই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। তাকে যেতে হয় কারাগারে; না হয় গুম-খুনের শিকার হতে হয়। সাংবাদিক শফিক রেহমান, শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানের কী দোষ ছিল? সরকারের দৃষ্টিতে তাদের একটাই দোষ তারা সত্য কথা বলেন। আমি তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি। কারণ তাদের কোনো দোষ ছিল না।”
বিএনপির সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আছে সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত না হওয়ায় মুখে যা আসে তাই বলে। শেখ হাসিনা মিডিয়া ছাড়া যে সব কথা বলে তা টেপ করে জনগণকে শোনাতে পারলে জনগণ বুঝতো শেখ হাসিনা কী চিজ।”
হান্নান শাহ আরও বলেন, “ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বিএনপির সঙ্গে, না আওয়ামী লীগের সঙ্গে? এ সরকারের কোনো কোনো নেতার সঙ্গে ইসরাইলের যোগসাজশ রয়েছে। আসলাম চৌধুরী ফুলের মালা পরে বৈঠক করলেই বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে হান্নান শাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসন এ তিন ডাকাত মিলে জনগণের ভোট চুরি করেছে। এ নির্বাচন তারা যেভাবে করেছে তাতে ভবিষ্যতে জনগণ ভোটের আগ্রাহ দেখাবে না। ইউপি নির্বাচনের কর্মকর্তারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী ও ইসির স্বাক্ষর করা কাগজ দেখিয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং বলছে আমরা এখন কী করতে পারি। তাদের স্বাক্ষরকে তো সম্মান করতেই হয়। সম্মান না করলে তো চৌদ্দগোষ্ঠী শেষ করে দেবে।”
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামি পার্টির চেয়ারম্যান এম এ তাহের চৌধুরী প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১