খুলনার কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i110656-খুলনার_কয়রা_উপজেলায়_বেড়িবাঁধের_একাংশ_নদীগর্ভে_বিলীন
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চরামুখা এলাকায় নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ইউনিয়নের ১৪টি  গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুলাই ১৭, ২০২২ ০৮:২৪ Asia/Dhaka
  • খুলনার কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন

সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চরামুখা এলাকায় নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ইউনিয়নের ১৪টি  গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছেন।

আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে ভাটার সময় চরামুখা খালের গোড়ার উত্তর পার্শ্ব এলাকায় কপোতাক্ষ নদে হঠাৎ করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ওসমান গনি সরদার জানান, ভোর ৪টার দিকে চরামুখা খালের এক পাশের রাস্তা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে নাজুক অবস্থায় ছিল। প্রায় দুই চেইন রাস্তা কপোতাক্ষ নদে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙতে শুরু করেছে। এখন ভাটা থাকায় ঘেরের পানি নদীতে নামছে। স্বেচ্ছাসেবায় দ্রুত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

এর আগে পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও রামপাল উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্লাবিত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। বেশকিছু মৎস্য ঘেরও তলিয়ে গেছে জোয়ারের পানিতে। 

শুক্রবার (১৫ জুলাই) সকালে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীর পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার কাপুড়পট্টি সড়ক, কাঁচাবাজার, ফেরিঘাট, কালাচাঁদ মাজার এলাকা, সানকিভাঙ্গা প্লাবিত হয়েছে। এর বাইরে উপজেলার ঘষিয়াখালী, জিউধরার পালেরখণ্ড, কাকরাতলী, শনিরজোড়, সোনাতলা, চন্দনতলা, জিউধরা, হোগলাবুনিয়ার ও বারইখালীসহ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে।

অপরদিকে মোংলা- ঘোষিয়াখালি বঙ্গবন্ধু নৌ চ্যানেলসহ দাউদখালি, বগুড়া, তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রামপাল উপজেলার গিলাতলা বাজার, বাঁশতলী, ভোজপাতিয়া, হুড়কা, রাজনগরসহ পেড়িখালি ইউনিয়নের অনেক এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। মোংলা উপজেলারও কয়েক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তের প্রভাবে দিনদিন রামপালের দাউদখালি নদীসহ জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি  ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। এখন জোয়ারের পানিতে রামপালের সদর ইউনিয়নসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। রামপালে জোয়ারের পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বেড়িবাঁধ না দেওয়া হলে আগামীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এর আগে গত ১৩ জুলাই বিকেলে ভৈরব নদীর পানির চাপে বাগেরহাট সদর উপজেলার কেশবপুর এলাকার একটি কালভার্টসহ দুই পাশের প্রায় ২০ ফুট রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ও মাটি দিয়ে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের সময় সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ ওই উপজেলা ও রামপাল উপজেলার বেশকিছু এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মূলত এসব এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে জোয়ারের পানি সহজে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জোয়ারের পানি ঠেকানোর জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ করা হবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭