বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন অর্ধশত মামলায় আসামি প্রায় ২২ হাজার
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মুল্য বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ, দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি, নেতা-কর্মীদের হত্যা ও মামলা দায়ের এবং সভা-সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত তিন সপ্তাহে নতুন করে প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার।
এর মধ্যে এজাহারে ২ হাজার ৭৭৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকিরা অজ্ঞাতনামা। আসামিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। তাদের মধ্যে অসুস্থ, প্রবীণ ও প্রবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরও নাম রয়েছে।
গত ৩১ জুলাই ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপির দুই নেতার মৃত্যুর পর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে যুবদলের কর্মী শাওন প্রধান নিহত হয়।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় দলের ৩ নেতা-কর্মী নিহত ছাড়াও আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। এসব ঘটনায় ২০০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছেন। চার হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার জনকে।
বিএনপি দাবি করেছে, তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রতিহত করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একের পর এক হামলার পাশাপাশি পুলিশও বিভিন্না স্থানে বাধা সৃষ্টি করেছে। এরপর এসব ঘটনায় উল্টো বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে।
এতকিছু মামলা-হামলা-হত্যা করেও বিএনপি’র চলমান আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২২ আগস্ট থেকে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে
বিএনপির ৪৮টি কর্মসূচিতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২৫টি স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, গাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। আর একই স্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমাবেশ থাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে ১৭টি স্থানে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যে ৪৬টি মামলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ২৯টির বাদী পুলিশ। বাকি ১৭টি মামলার বাদী আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষকালে গুলিতে যুবদলের কর্মী শাওন প্রধান নিহতের ঘটনায় দুই মামলায় জ্ঞাত-অজ্ঞাতসহ আসামি ৫ হাজার ৯৭১ জন। এরপর গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নোয়াখালীতে এ পর্যন্ত ১৪টি মামলায় ৪ হাজার ৭২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘গায়েবি মামলায়’ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেফতারের ভয়ে অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।