বিশেষ অভিযান পুলিশকে বাণিজ্য করার সুযোগ করে দিচ্ছে: বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i11764-বিশেষ_অভিযান_পুলিশকে_বাণিজ্য_করার_সুযোগ_করে_দিচ্ছে_বিএনপি
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ক্রসফায়ার। বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশ রাজধানীসহ সারাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১১, ২০১৬ ১৪:৩২ Asia/Dhaka

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ক্রসফায়ার। বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশ রাজধানীসহ সারাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

এই বিশেষ অভিযানের দু’দিনে সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবি জঙ্গিসহ নিহত হয়েছেন ৯ জন।

তবে, চলমান অভিযানে সাধারণ মানুষ ও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অংকের টাকা আদায় করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। এভাবে ঈদের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বখশিশ হিসেবে গ্রেফতার বাণিজ্যের সুযোগ করে দিচ্ছে এই অবৈধ ভোটারবিহীন পুলিশনির্ভর সরকার।

শনিবার দুপুরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। রাজধানীর নয়া পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গুপ্তহত্যা ঠেকাতে যৌথ অভিযানের ঘোষণার শুরু থেকে সারাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দলটি জানিয়েছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযান বলা হলেও সারাদেশ থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছোট-বড় মধ্যম প্রকৃত কোনো জঙ্গিকে আটক করেছে বলে পুলিশ জানাতে পারেনি। এই অভিযানে মাদকসেবীদের মতো কিছু সামাজিক অপরাধীরা থাকলেও ব্যাপক হারে গ্রেফতার করা হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি ‘হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট’ হিসেবে সব তথ্য পেয়ে থাকেন। তাই যদি হয়-তাহলে উনার প্রেস কনফারেন্সের একদিন পরেই পাবনায় আশ্রমের সেবাকেন্দ্রে নিত্য রঞ্জন পান্ডেকে কী করে কুপিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা? আসলে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত জঙ্গিবাদকে দমন করতে চান না। মূলত বিরোধী দল দমনই তাদের আসল উদ্দেশ্য।

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ রেডিও তেহরানকে বলেন, পুলিশের এ বিশেষ অভিযান কোনো দলকে উদ্দেশ্য করে নয়। তবে, কোনো দলের কর্মীরা এ অভিযানে ধরা পরলে সে দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এসব সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবে কীনা ।

হাসান মাহমুদ উল্লেখ করেন- আতীতের সন্ত্রাসী ঘটনায় বা টার্গেট কিলিং-এ জামায়াত ও বিএনপি’র সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গ্রেফতারের নামে পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে যার জন্য সরকারকেই জবাবদিহি করতে হবে।

এ আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরসহঅল্পবয়সী ছেলে, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং সাধিরণ নিরীহ নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গুপ্ত হত্যার ছুতো ধরে বিরোধী ও ভিন্নমত যারা পোষণ করেন, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, আজকে হামলা-মামলা আর নির্যাতনের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এই মহান রমজান মাসেও ঘরে থাকতে পারছেন না। তিনি বলেন, জালিম শাসকদের সামনে হক কথা বলাও হচ্ছে এখন সবচেয়ে বড় জিহাদ। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১