বাংলাদেশে বাড়ছে শিশু অপহরণ, ঘটছে অলাইনে বিক্রির মত ভয়ংকর ঘটনা; উদ্বিগ্ন সমাজবিজ্ঞানীরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i123374-বাংলাদেশে_বাড়ছে_শিশু_অপহরণ_ঘটছে_অলাইনে_বিক্রির_মত_ভয়ংকর_ঘটনা_উদ্বিগ্ন_সমাজবিজ্ঞানীরা
বাংলাদেশে শিশু অপহরনের ঘটনা বাড়ছে ক্রমাগত। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্প্রতি অপহরণের পর শিশুহত্যা, বিক্রি কিংবা মুক্তিপন আদায়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১৯, ২০২৩ ১৩:৪১ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে বাড়ছে শিশু অপহরণ, ঘটছে অলাইনে বিক্রির মত ভয়ংকর ঘটনা; উদ্বিগ্ন সমাজবিজ্ঞানীরা

বাংলাদেশে শিশু অপহরনের ঘটনা বাড়ছে ক্রমাগত। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্প্রতি অপহরণের পর শিশুহত্যা, বিক্রি কিংবা মুক্তিপন আদায়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। তাদের মতে, দুর্বলতার জায়গা ও সহজ পন্থা হিসেবে শিশুকেই টার্গেট করা হচ্ছে। এ কারণে তারা অভিভাবকদের নিজেদের কাজের সময় কমিয়ে শিশুসন্তানকে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু এসব পরামর্শ সামাজিক সচেতনতার উদ্যোগের মাঝেও থেমে নেই শিশু অপহরণের ঘটনা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে ‘আম কিনে’ দেয়ার লোভ দে‌খিয়ে এক শিশুকে অপহরণ করে অনলাইনে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়ার ঘটনা তো সবাইকে করেছে বিস্মিত ও হতভম্ব। মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের ঐ শিশুটিকে গোপালগঞ্জে বিক্রি করে দেয় একটি চক্র। তবে আশার খবর হল, শিশুটির ক্রেতা এবং অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা পিযূষ দম্পতিসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বাসার সামনে বড় বোন হুমায়রার (৮) সঙ্গে খেলছিল অপহৃত শিশু  মো. সিদ্দিকসহ (৩) আরও সাত থেকে আটটি শিশু-কিশোর। এ সময় এক অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সবাইকে চকলেট খাওয়ায়। একটু পর হুমায়রাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে ছোট ভাই সিদ্দিককে আম কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দিন শেষে তাদের মা বাসায় এলে হুমায়রা বিষয়টি তাকে জানায়।

এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরবর্তী সময়ে অপহৃত শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। জিডির পরেই ওই এলাকা থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, সাভার থেকে ঢাকা উদ্যান এলাকায় এসে শিশু সিদ্দিককে অপহরণ করে নিয়ে যায় চক্রটি। এরপর নিজেদের সন্তানের ছবি ব্যবহার করে একটি অনলাইন গ্রুপে পোস্ট দেয় পিযূষের স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল। সে লেখে, তার বাসার স্বামী পরিত্যক্ত গৃহপরিচারিকার একটি বাচ্চাকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে দত্তক দেওয়া হবে। এরপর সুজন সুতার তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ২১ এপ্রিল যোগাযোগ করে। ছবি দেখে সুজন সুতার শিশুটিকে পছন্দ করে এবং তাকে টাকার বিনিময়ে দত্তক নেবে বলে জানায়। পরবর্তী সময়ে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় রিদ্ধিতা পাল নিজেকে অপর্ণা দাস ও আসামি পীযূষ কান্তি পাল নিজেকে বিজন বিহারী পাল পরিচয় দিয়ে তার বাসার গৃহপরিচারিকার সন্তান হিসেবে অপহৃত সিদ্দিককে একটি স্ট্যাম্প তৈরি করে হাত বদল করে। এ সময় প্রমাণ হিসেবে তারা নিজের সন্তানের টিকা কার্ড, রিদ্ধিতা পালের জন্ম সনদ এবং বিজন বিহারী পালের আইডি কার্ডের ফটোকপি দেওয়া দেয়।

র‌্যাব অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন আরও জানান, অপহরণকারী চক্রটির মূল হোতা পীযূষ কান্তি পাল পঞ্চগড় জেলার সদর থানার রমেন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে। সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়াকালীন পার্ট টাইম বিউটি পার্লার বা স্পা সেন্টারে কাজ করতো। স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় রিদ্ধিতা পালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২০ সালে বিয়ে করে। মূলত স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় থেকে সে মানবপাচারে জড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালের মে মাসে মানবপাচারের অভিযোগে বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় কিছু দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়।

এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন,এটা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। আর দেশে একের পর এক নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়া আর বিপরীতে যথাযথ বিচার না হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সংবেদনশীলতা কমে যাচ্ছে।’ যার ফলে শিশুরাও এ নির্মমতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলেও মনে করেন তিনি। #

পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।