পাহাড়ে নতুন জঙ্গি সংগঠনের সন্ধান
জামায়াতুল শারক্বীয়া নিষিদ্ধ, যাত্রা শুরু ইমাম মাহমুদের কাফেলার, বিস্ফোরক সরঞ্জামসহ আটক ১০
মাত্র ক’দিন হলো জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে নতুন এক জঙ্গি সংগঠনের আস্তানার সন্ধান মিলেছে পাহাড়েরর গহীন অরণ্যে।
জানা যায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার দুর্গম এলাকার জঙ্গি আস্তানা থেকে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সিটিটিসি। অভিযান শেষে ইউনিট প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, জঙ্গি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি বিস্ফোরক ও ৫০টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে, যা গ্রেনেডসহ হাই এক্সপ্লোসিভ তৈরিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়।
ইমাম মাহমুদের কাফেলা নামের নতুন এই জঙ্গি সংগঠন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার টাট্টিউলি গ্রামে জমি কিনে আস্তানা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরো জানান, নতুন করে উগ্রবাদের দীক্ষা ছড়াতে একটি চক্র কাজ করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যে অভিযানে নামে সিটিটিসি। চার ঘণ্টার তল্লাসীতে অপারেশন হিলসাইট অভিযান থেকে ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামের নতুন সংগঠনের ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক হওয়াদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। এছাড়া ৩টি শিশুও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও বগুড়ার এলাকার বাসিন্দা।
আটক অভিযুক্তরা হলেন, সাতক্ষীরার তালার উপজেলার নলতা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৪০), তাদের মেয়ে হাবিবা বিনতে শফিকুল (২০), কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার কালনার আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজ উল্লাহ (২৫), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকার রসুলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), তার স্ত্রী মেঘনা (১৮), সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রাফিউল ইসলাম (২২), পাবনার আটঘরিয়ার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী শাপলা বেগম (২২), নাটোরের চাঁদপুর গ্রামের সোহেল তানজীম রানার স্ত্রী মাইশা ইসলাম (২০) ও বগুড়ার সারিয়াকান্দির নিজবলাই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী সানজিদা খাতুন (১৮)। তাদের সঙ্গে তিন শিশু রয়েছে। তাদের বয়স ছয় বছরের নিচে।
ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া এক জঙ্গির তথ্যর সূত্র ধরে এই নতুন সংগঠনের খোঁজ মিলেছে। মূল ব্যক্তির নাম পরিচয়ও পাওয়া গেছে বলে দাবী করেছেন সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। শনিবার মধ্যরাতে পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাসী শুরু করে সকালে অভিযান শেষ করে পুলিশ। মধ্যরাত থেকেই পুরো এলাকায় একটা ভীতিকর অবস্থা ছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুলাউড়া কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, পাহাড়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে কাজ করে আসছিল এমন চক্র। যা আগামীতে বড় কোন দুর্ঘটনার জন্মদিত এ এলাকায়। তবে র্যাবরে অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এ জনপ্রতিনিধি।
ঘটনাস্থল থেকে ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, কমব্যাট বুট, বক্সিন ব্যাগ এবং কয়েক বস্তা জিহাদি বই জব্দ করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।