‘লুটপাটের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে জনগণের রক্ত চুষে নেয়া হচ্ছে’
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে সরকার নীরবে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এজন্য জঙ্গি উৎপাটনের নামে পাইকারি হারে বিচারবর্হিভূত হত্যার বিভীষিকার ডামাডোল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের আসল উদ্দেশ্য উগ্রবাদ-জঙ্গিদের উৎপাত, মানুষের ওপর ক্র্যাকডাউন, বিচারবহির্ভূত হত্যার বিভীষিকার ডামাডোল সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখা। যাতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগলিক ও পরিবেশগত অস্তিত্ব বিপন্ন করে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে সরকার।
সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে বাংলাদেশকে পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন ৩৭টি নদীর পানি প্রবাহের গতিপথ ভারতের উজানে ডাইভার্ট করে ভারতে শুষ্ক অঞ্চলের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন তা প্রায় সম্পন্ন। ভারতের এ আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্বই ভয়ঙ্কর রকমের বিকৃত হয়ে উঠবে। সাগরের লোনা পানি উপরের দিকে উঠে আসবে। লবণাক্ততা ভয়ঙ্কর রূপে বৃদ্ধি পাবে, চাষের জমি নষ্ট হবে। এ নিয়ে প্রতিবাদ না করে উল্টো নামমাত্র ১৯২ টাকায় ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়া হয়েছে।
এ সময়, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহবান জানিয়ে রিজভী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে, তার ওপর গ্যাসের দাম প্রস্তাব অনুযায়ী বৃদ্ধি পেলে জনগণের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা অনুভূত হবে। গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার কথাও জানান তিনি।
তার মতে, সীমাহীন লুটপাটের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে জনগণের রক্ত চুষে নেয়া হচ্ছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এ প্রস্তাব ডোমিনো ইফেক্ট-এ অর্থনীতির সর্বত্র এর প্রভাব পড়বে। দেশের শিল্প ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, আকস্মিক নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে বিভ্রান্ত করার স্বৈরশাসকদের অতীতের সব রেকর্ড ওভারটেক করে গেছেন শেখ হাসিনা।
ক্ষমতার জন্য, দলীয় ও ব্যক্তিগত লাভের জন্য লোভ, প্রবঞ্চনা, অসততা, শঠতা ও বিপুল দুর্নীতি এ ভোটারবিহীন সরকারের রাষ্ট্রনীতি হওয়ায় জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্দশা। কারণ নিজেদের লোকদের অর্থনৈতিক কনসেশন দিতে গিয়েই লুটপাটকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর অত্যুগ্র শোষণ-শাসনের স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৩