অবিরাম ক্রসফায়ারের মাধ্যমে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে: রিজভী
-
মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, “সরকার বিএনপি’র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার করে জেলে ঢুকাচ্ছে অপরদিকে সরকারি দলের নেতা হওয়ার সুবাদে পলাতক আসামি হয়েও সর্বত্র বিচরণ করছে। এটা শুধুমাত্র ভোটার বিহীন অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার আছে বলেই সম্ভব হচ্ছে।”
আজ (শুক্রবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, “সরকার গত কয়েক দিনে পাইকারি হারে গ্রেফতার, আর অবিরাম ক্রসফায়ারের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ক্ষমতাসীনেরা ক্রমশ একটি নিপীড়নমূলক দানবে পরিণত করেছে। এই দানব তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক শক্তির রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সোচ্চার উচ্চারণ এবং দাবি আদায়ের মিছিলকে প্রতিরোধ করার জন্য। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অন্যের কাছে বন্ধক দিয়ে আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি আদায়ের ব্যাপারে যেন কেউ কথা না বলে।’
টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা পলাতক আসামি হয়েও সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘রানা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলা চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি। টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং গত ১৭ মে আদালত তার মালামাল বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী সকল তথ্যই তার জানা আছে। এত কিছুর পরে কিভাবে পলাতক আসামি গত ২০ জুন সোমবার পুলিশের সামনে দিয়ে সংসদে ঢুকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বীর দর্পে বেরিয়ে যায়?’
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, সংসদে খুনিরা ঢুকে পড়লে সংসদের নিরাপত্তা কোথায়? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কি কোন জবাব আছে?
গতকাল নোয়াখালী সেনবাগে বিএনপির ইফতার মাহফিলে ছাত্রলীগ হামলা করে মাহফিল পণ্ড করে দেয়। এ ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী।#
পার্সটুডে/এআর/২৫