খুব দ্রুত অভিযান চালালে হয়ত অনেক জীবন রক্ষা পেত: গুলশান প্রসঙ্গে রিজভী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i13831-খুব_দ্রুত_অভিযান_চালালে_হয়ত_অনেক_জীবন_রক্ষা_পেত_গুলশান_প্রসঙ্গে_রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, “ঈদের প্রাক্কালে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা ছিল-একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমূখর ঈদ উদযাপন। সারা রমজান মাসটি কেটেছে ভয়ে, আশংকায় আর গা ছমছম করা সাবধানে। কারণ গোটা মাসই রক্তঝরা সংঘাত-সংঘর্ষে কেটেছে। বছরব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু, ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার, বিদেশি নাগরিকসহ নানা মতের মানুষকে হত্যার ধারাবাহিকতায় গুলশানের হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় দেশে দেখা গেল উগ্রবাদের এক নতুন বীভৎস রূপ।”
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ০৬, ২০১৬ ০৯:৫৯ Asia/Dhaka
  • বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, “ঈদের প্রাক্কালে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা ছিল-একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমূখর ঈদ উদযাপন। সারা রমজান মাসটি কেটেছে ভয়ে, আশংকায় আর গা ছমছম করা সাবধানে। কারণ গোটা মাসই রক্তঝরা সংঘাত-সংঘর্ষে কেটেছে। বছরব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু, ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার, বিদেশি নাগরিকসহ নানা মতের মানুষকে হত্যার ধারাবাহিকতায় গুলশানের হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় দেশে দেখা গেল উগ্রবাদের এক নতুন বীভৎস রূপ।”

আজ (বুধবার) সকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, “বৈশ্বিক সন্ত্রাসের নেটওয়ার্কের আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করার আলামত ফুটে উঠল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিরল দ‍ুর্ঘটনা। এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে গোটা জাতির ওপর। বিশ্বসমাজে আমাদের রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সর্বত্রই নেতিবাচক পরিচিতি লাভ করতে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের অর্থনীতি গভীর খাদে পতিত হবে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ায় আশঙ্কা রয়েছে।”

রিজভী বলেন, “এরকম সহিংস জীবনসংহারী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা নির্মূল করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কথা বারবার ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বর্তমানে সর্বমহলে তার বক্তব্য অভিনন্দিত হয়েছে। সুতরাং এই মুহূর্তে দোষারোপ ও বিভাজনের পুরনো পথে হাঁটলে দেশের সংকট আরো ঘনীভূত হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনায় উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের নির্মূল করতে কোনো পর্দা ঝুলিয়ে রাখলে সংকটের মর্মমূলে পৌঁছানো যাবে না। তাই সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “গত শুক্রবার রাতভর গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় বিদেশী নাগরিকসহ দেশের মানুষ জিম্মি হওয়ার ঘটনা মোকাবেলা করতে সরকারি সিদ্ধান্তের দোদুল্যমানতার কারনে দীর্ঘসূত্রিতায় এতগুলো মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে বলে এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে। জনগণ এও মনে করে-খুব দ্রুত দেশের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে হয়ত অনেক জীবন রক্ষা পেত। কিন্তু গোটা জাতি যখন উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রুদ্ধশ্বাসে জিম্মি ঘটনা অবলোকন করছে, যখন এতজন দেশী-বিদেশী মানুষের প্রাণহানিতে দেশ-বিদেশে আহাজারী উঠেছে, দেশ-বিদেশের মানুষ যখন এই মর্মন্তুদ ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন ঠিক সেই মুহূর্তে শনিবার সকালে অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় অভিযান পরিচালনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ঘটা করে চারলেনের সড়ক উদ্বোধন না করলেই পারতেন।“

রিজভী অভিযোগ করেন, “ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যার কোন কমতি দেখা যাচ্ছে না। ঈদের দু’তিন দিন আগেও চলছে নির্বিচারে হত্যালীলা। সভ্য দুনিয়ার বিধানই হচ্ছে-যত বড়ই অপরাধী হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তদন্ত ও আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিস্তৃত জাল বেরিয়ে আসা সম্ভব। অথচ ক্রসফায়ার নিয়ে নানা সংগঠন থেকে প্রতিবাদের পরও ক্রসফায়ারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন অভিযুক্তদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। একটি বেআইনী ভয়াবহ অপরাধ মোকাবেলা করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরেকটি বেআইনী অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধের মাত্রা কখনোই কমে না বরং অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে আরো কদর্য রুপ লাভ করে। আতঙ্কের অনুভূতি সমাজে বিস্তার লাভ করবে। ইতিহাস জ্ঞানের অভাব রাজনীতির অঙ্গ হওয়ার কারণে ক্রসফায়ারের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাই যদি রাষ্ট্রের বিধানে পরিণত হয়, তাহলে বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনের প্রয়োজন কী?”

সবশেষে তিনি দেশবাসীকে তিনি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।#

পার্সটুডে/এআর/৬