রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবি খালেদার, প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা যা বললেন
সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ‘গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী’ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে বক্তব্য রেখেছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
খালেদা ‘পরিবেশ বিনষ্টকারী নেত্রী’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা কমেডি ছাড়া আর কী হতে পারে! তিনি শুধু মানুষ নয়, গাছ-পালা, পশু-পাখি হত্যা করে ইতিমধ্যে পরিবেশ বিনষ্টকারী নেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। অথচ এখন পরিবেশ রক্ষায় রামপাল বাতিলের দাবি জানান।”
বুধবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের পর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হানিফ এমন মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন নেত্রী আখ্যা দিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘সাম্প্রতিকালে ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি আস্তে আস্তে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন নিজেদের বাঁচানোর জন্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন বলেই আজকে হঠাৎ করেই এই রামপাল ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, জনগণের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার এই বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা এই ধরনের খড়কুটো নিয়ে আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টা সফল হবে না।’
হানিফ বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) সকল প্রকার কৌশলে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে রামপাল-সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে নামতে চাচ্ছেন। ভাবছেন এতে করে তারা জনগণের সুদৃষ্টি পাবেন। তার এই চিন্তা সবার মতো আমার কাছেও হাস্যকর মনে হয়েছে।”
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মানুষের ক্ষতি হবে এমন কাজ আওয়ামী লীগ সরকার করতে পারে না, করবেও না। ইতিমধ্যে আমাদের বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত দিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আবারও আমরা সকল প্রকার তথ্য নিয়ে হাজির হব।
'এরা রামপালের অর্থই বোঝে না'
এদিকে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতাকারীদের আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, “রামপালের অর্থই বোঝে না এরা কেউ। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সুন্দরবন রক্ষা করে পরিবেশ রক্ষা আমি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই ব্যবস্থা করেছি। আজকে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমরা আন্দোলন শুরু করলাম।’ আন্দোলন তো অনেক দেখলাম। ওনার আন্দোলনের কথা শুনলেই দেশের মানুষ মনে করে, আবার আগুন জ্বালানো হবে। আবার হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হবে।”
'রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের স্বার্থেই'
অন্য এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “দেশের স্বার্থকে বিলিয়ে দিয়ে আমরা কোনো প্রকল্প এ যাবৎ গ্রহণ করি নাই। রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্পও দেশের স্বার্থেই নেয়া হয়েছে।”
'ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্টের অপচেষ্টা'
এর আগে বুধবার সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি অভিযোগ করে বলেছেন, “বিএনপি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের নৃশংসতা থেকে নিরীহ জীব-জন্তু এমনকি গাছপালাও রক্ষা পায়নি। আজকে যখন তারা সুন্দরবন ও রামপাল নিয়ে মায়াকান্না করছে, তখন বুঝতে বাকি নেই বিএনপির আসল উদ্দেশ্যটা কি। প্রকৃতপক্ষে রামপাল ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নষ্ট করা বিএনপির মূল উদ্দেশ্য।”
হাছান মাহমুদ বলেন, “সুন্দরবনের জন্য মায়াকান্না দেখিয়ে বিএনপি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্টের অপচেষ্টা করছে।”
ভারতের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে বাগেরহাটের রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য হুমকি হবে দাবি করে এর বিরোধিতা করে আসছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে রামপাল প্রকল্পটি ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ দাবি করে তা সুন্দরবনের কাছ থেকে অন্য এলাকায় সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।#
পার্সটুডে/এআর/২৫