রামপাল ইস্যুতে বিএনপির আন্দোলন নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপর: ফখরুল
রামপাল ইস্যুতে বিএনপি রাজপথে নেমে আন্দোলন করবে কিনা তা সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “আমরা জনগণের পক্ষে আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। সরকার কেমন রেসপন্স করে সেটার ওপর ভিত্তি করেই আন্দোলন কর্মসূচির কথা চিন্তা করব আমরা।”
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের কয়েকশ’ নেতাকর্মী।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি সবসময় দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক যে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে, সেটি নিঃসন্দেহে দেশ, জাতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের স্বভাবসুলভ বক্তৃতার মাধ্যমে বিষয়টিকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আছে, কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষতি সাধন করে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ আমরা সমর্থন করতে পারি না।"
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুতের আরো বেশি প্রতিষ্ঠা, আরো বেশি উৎপাদন হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু অবশ্যই সেটা সুন্দরবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। আমাদের অনেক জায়গা আছে, অনেক এলাকা আছে, অনেক বিকল্প পন্থা আছে। কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই।’
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ইস্যুতে বাম দলের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা তাদের কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছি। সরকারের আচরণের ওপর ভিত্তি করে আমরাও পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে চিন্তা করব।”
বুধবার রাজধানীর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক নির্মিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আরো অনেক জায়গা আছে, কিন্তু সুন্দরবন একটাই।
ভারত তার নিজের দেশে এই ধরনের প্রকল্প অনুমোদন না দিলেও ‘সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থে’ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি সুন্দরবনের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী উল্লেখ করে এ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।#
পার্সটুডে/এআর/২৫