যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানোয় খালেদা জিয়ার বিচার প্রকাশ্যে হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার প্রকাশ্যে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর স্মরণসভা’য় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'খালেদা জিয়া তাদেরকে (যুদ্ধাপরাধী) মন্ত্রীও বানিয়েছে। খালেদা জিয়া যাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসি হয়েছে। যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসি হয়েছে, তাদেরকে যে মন্ত্রী বানিয়েছিল তার কী শাস্তি হবে- সেটাও দেশবাসীকে ভাবতে হবে। তার কী শাস্তি হবে'- প্রশ্ন করেন তিনি।
এসময় দর্শক সারি থেকে স্লোগান উঠে- 'ফাঁসি', 'ফাঁসি'।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকে দেশে মানুষের মাঝে এই সচেতনতাই সৃষ্টি করতে হবে- যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, সেই খালেদা জিয়ার বিচার প্রকাশ্যে জনগণের সামনে হওয়া দরকার।'
‘দেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা একটা করে রায় আসছে, আর সে রায় কার্যকর হচ্ছে। এ রায় কার্যকরের মাধ্যমে (যুদ্ধাপরাধের) বোঝা লাঘব হচ্ছে। দেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে।
‘খুনিদের পুনর্বাসন করেন জিয়া’
জিয়াউর রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'নামে মুক্তিযোদ্ধা ছিল, নানা খেতাবও পেয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজ কী করেছে? মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। যে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল, মার্শাল ল’ অর্ডিনেন্স দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে এই জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে।'
শেখ হাসিনা বলেন, '(বঙ্গবন্ধুর) খুনিদের পুনর্বাসন করেন জিয়াউর রহমান। পঁচাত্তরের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী, তাদের পুনর্বাসন করেছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা বানিয়েছে। সে (জিয়াউর রহমান) কী করে স্বাধীনতা বিশ্বাস করে?'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। অনেকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে চলে যায়। তাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি বিল জারি করে সে বিচার কাজ বন্ধ করেন। যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনেন, শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানান, আবদুল আলীমকেও মন্ত্রী বানান। আর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্টেই তাকে দেশে আনা হয়। পরে খালেদা জিয়া তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেন। তাদের ভোটাধিকার দেয়া হয়, দেয়া হয় রাজনীতি করার অধিকার।’
‘পঁচাত্তরের পর কোনো গণতন্ত্র ছিল না’
শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় কোনো অধিকার ছিল না মানুষের। পঁচাত্তরের পর প্রতিরাতেই কারফিউ জারি ছিল, স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ ছিল না। কোনো গণতন্ত্র ছিল না। যেখানে কারফিউ চলে, সেখানে গণতন্ত্র আসে কীভাবে? এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয় সেজন্যে জিয়া মার্শাল ল জারি করে ইনডেমনিটি বিল আনেন। থানায় মামলা নেয়নি, জিডিও করা যায়নি। ২১ বছর পরে ক্ষমতায় এসে সেসব অর্ডিন্যান্স বাতিল করে বিচার শুরু করি আমরা।’ ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
‘বঙ্গবন্ধু সবই করে দিয়ে গেছেন’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সবই করে দিয়ে গেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায় সে পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৫ আগস্ট তাকে হত্যা করা হয়। সংবিধান থেকে শুরু করে সবই তিনি করে দিয়ে গেছেন। আজ যেখানেই হাত দিই সেখানেই দেখি চিন্তার প্রতিফলন।‘
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা আজ নেই, স্বাধীনতার চেতনা সম্পূর্ণ মুছে ফেলার জন্যেই তাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। জাতির পিতা আমাদের শুধু স্বাধীনতাই এনে দেননি, মানুষের মর্যাদাও এনে দিয়েছেন।’
‘জঙ্গিদের জন্য খালেদা জিয়ার মায়া কান্না কেন?’
দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দূর করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু নিহত জঙ্গিদের জন্য খালেদা জিয়ার এতো মায়া কান্না কেন? তাদের বাঁচিয়ে রেখে কী হবে?
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০