ফারাক্কা ব্যারেজ বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না: খালেদা জিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i18913-ফারাক্কা_ব্যারেজ_বন্ধুত্বের_নিদর্শন_হতে_পারে_না_খালেদা_জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “ফারাক্কা ব্যারাজ ট্রায়াল হিসেবে (বাংলাদেশের) অনুমতি নিয়ে চালু হয়েছিল সাত দিন না দশ দিনের কথা বলে। অথচ তারা এখন পর্যন্ত বন্ধ করে নি। এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না। এভাবে প্রতিটি পদে পদে আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।”
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৬ ২০:৩৫ Asia/Dhaka
  • ফারাক্কা ব্যারেজ বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “ফারাক্কা ব্যারাজ ট্রায়াল হিসেবে (বাংলাদেশের) অনুমতি নিয়ে চালু হয়েছিল সাত দিন না দশ দিনের কথা বলে। অথচ তারা এখন পর্যন্ত বন্ধ করে নি। এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না। এভাবে প্রতিটি পদে পদে আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “এখনও আমরা আরও যেসব চুক্তি শুনতে পাই বা দেখতে পাই তার একটাও দেশের পক্ষে বা জনগণের স্বার্থে নয়। সমস্ত কিছু করা হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে, দেশের স্বার্থবিরোধী। আর কী সেই চুক্তিগুলো, সবাই তা জানে না। আমরাও জানি না কী করা হচ্ছে।”

বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আজ দেশে বহুবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু নদীতে পানি বণ্টন চুক্তি একমাত্র জিয়াউর রহমানের আমলেই পানির হিস্যা যতটুকু আমাদের পাওয়ার কথা ঠিক ততটুকুই নিয়েছিলেন। এই সম্পর্কটা জিয়াউর রহমান করতে পেরেছিলেন, যা অন্য কেউ পারে নি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে কারো কাছে মাথা নত করে, চুপিসারে কাউকে কিছু দিয়ে, ক্ষমতায় থাকার জন্য আমরা কিছু করি নি, করবও না। আর কেউ করলেও আমরা সমর্থন করতে পারি না।”

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া তার ভাষায় বলেন, “আজকে সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে এই আওয়ামী লীগ। দেশে যদি গণতন্ত্র সচল না থাকে তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে না। আর প্রতিষ্ঠান সচল না থাকলে গণতন্ত্রও থাকতে পারে না। যেখানে ন্যায়বিচার থাকে না, গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে।”

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এই আওয়ামী লীগের সময়ই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল প্রথম। মনে পড়ে আপনাদের, যশোরের উদীচীসহ আরো বিভিন্ন জেলাতে এ রকম ঘটনা আমরা ঘটতে দেখেছি। কিন্তু কোনো অপরাধী ধরা পড়ে নি। কোনো জঙ্গি ধরা পড়ে নি।” জঙ্গিদের ধরে বিচারের মুখোমুখি না করে কেন মেরে ফেলা হয়, তা জানতে চান খালেদা জিয়া।

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আবারো নিজের বিরোধিতার কথা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়া বলেন, "সুন্দরবনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়া উচিত নয়, অনেক ক্ষতি হবে। সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। পৃথিবীর অনেক কম দেশের এমন বন রয়েছে। অনেক দেশে এমন সুন্দর বন আবার নেইও।"

তিনি বলেন, "আমি কখনো বলিনি বিদুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে। যে জায়গায় ক্ষতি হয়, সেখানে না করার কথা বলেছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিবেশ নিয়ে অনেক কনসার্ন (উদ্বিগ্ন), তাই তিনটি সংস্থা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য টাকা দেয় নি।"

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, "একই প্রকল্প ভারতে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু জনগণের প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সে দেশের সরকার। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। কিন্তু বাংলাদেশে এর চেয়েও খারাপ প্রকল্প নিয়ে আসা হচ্ছে। লাভ হলে ভাগ হবে, লোকসান হলে আমাদের ওপর পড়বে। এটা কেমন করে হয়?"

আওয়ামী লীগ সরকার কোনো উন্নয়নই করে নি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেছেন, "তারা যেসব চুক্তি করেছে- করে যাচ্ছে তার সবই দেশের স্বার্থবিরোধী, জনবিরোধী।"

তিনি বলেন, “ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ ফারাক্কা ব্যারেজ করেছে। এটি বন্ধুত্ব নয়। এরপর একের পর এক চুক্তি এই সরকার করে গেছে যার একটিও জনগণের জন্য নয়। এখন রামপাল করছে এটিও দেশের পক্ষে বা জনগণের স্বার্থের জন্য নয়। সমস্ত কিছু দেশের স্বার্থবিরোধী। এসব চুক্তির বোঝা একদিন বহন করতে হবে যুব সমাজকে। তারা একেকটা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়, আর অর্থ বাড়ে। নেতারা কমিশন খায় এবং টাকা চলে যায় দেশের বাইরে।”

জঙ্গিবাদ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, “কিছুদিন পরপর সরকার জঙ্গি ধোঁয়া তোলে। ওখানে জঙ্গি আছে, জঙ্গি পাওয়া গেছে, তারপরে জঙ্গিগুলোকে ধরে। তারা সত্যিকারের জঙ্গি কিনা জানি না।”

তিনি বলেন, “কিছু লোক তাদের ধরা থাকে। এগুলোকে না খাইয়ে দীর্ঘদিন বন্দি করে রেখে-রেখে দাঁড়ি বড় হয়ে যায়, তাদের ভুতুড়ে একটা চেহারা হয়ে যায়। তারপরে তাদের জঙ্গি বলে সামনে (গণমাধ্যম) নিয়ে আসা হয়।”

বিএনপি নেত্রী আরো বলেন, “আমরা এগিয়ে যাব। ইনশাল্লাহ, এর সুফল বাংলাদেশের মানুষ পাবে এবং এই দেশে হারানো গণতন্ত্র আবার ফিরে আসবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।#

পার্সটুডে/এআর/২