নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিপরীত অবস্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি
বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে মাত্র কয়েক মাস বাকি রয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনার মাত্রাও বাড়ছে।
ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলে দিয়েছেন, আগেরবার যেভাবে কমিশন হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। তার বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠিত হবে।
এ ব্যাপারে আজ বিএনপি’র পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, 'সার্চ কমিটির নামে যে তামাশা হচ্ছে, সেই তামাশা বন্ধ করতে হবে। সার্চ কমিটি দিয়ে কী হবে, তা আমাদের ভালোই জানা আছে। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মিলিত প্রচেষ্টা, সংলাপ-আলোচনা যা-ই বলি না কেন, তাদেরকে সংকট নিরসনে সংলাপে বসতে হবে। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে আমরা জাতীয় সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।'
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, লোক–দেখানো সার্চ কমিটির মাধ্যমে অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ কোন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব হবে না। আইনের সংশোধন করে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইয়েদ এহসানুল হুদা বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দরকার।
তিনি পরামর্শ দেন, এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করে কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে।
এর আগে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত না করতে বিএনপিসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগর এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ অশরাফ বলেছেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করলে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকবে না।‘
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের সম্পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। নির্বাচন কমিশন গঠন করা নিয়ে আপনারা সরকারের কাছে আলোচনার যে দাবি জানাচ্ছেন তা অমূলক।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ মন্তব্য করেন, পূর্বের ন্যায় এবারো নিশ্চয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দিবেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪