সাকিব-তামিমের রেকর্ডের দিনে আফগানিস্তানকে ৭ রানে হারাল বাংলাদেশ
-
ম্যাচ শেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সাত রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সিরিজে ১-০ তে লিড নিল টাইগাররা।
রোববার ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিবের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। টাইগারদের করা ২৬৫ রান থেকে ৭ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন। এছাড়া, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬২, সাকিব আল হাসান ৪৮ ও ইমরুল কায়েস ৩৭ রান করেন।
২৬৬ রানের টার্গেটে খেলতে নামা আফগানিস্তান ভালোই শুরু করে। তাদের ৪৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মাশরাফি। তাসকিনের প্রথম ওভারে জীবন পাওয়া মোহাম্মদ শেহজাদকে সাজঘরে ফেরান তিনি। শেহজাদ ২০ বলে ৩১ রান করে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন। পরের ওভারেই আফগান শিবিরে আঘাত হানেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাব্বির নূরিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।এরপর দলের হাল ধরেন রহমত শাহ ও হাসমত উল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৪ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন তারা। তবে ৪১তম ওভারে এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন সাকিব। ৭১ রান করে সাজঘরে ফেরেন রহমত শাহ। দুই ওভার পরে শাহিদিকেও (৭২) আউট করেছিলেন তাইজুল। কিন্তু তখনো হারের শঙ্কা কাটেনি বাংলাদেশের।
শেষ চার ওভারে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। ব্যাট হাতে মাঠে ছিলেন অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও আসগর স্টানিকজাই। আফগানিস্তানের জয়টা মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার।৪৭তম ওভারে বোলিং করতে এসে সাকিব দিয়েছিলেন মাত্র ১ রান। পরের ওভারে তাসকিন তুলে নেন নবী ও স্টানিকজাইয়ের উইকেট। জয়ের পথ থেকে অনেকটাই সরে যায় আফগানিস্তান।
ইনিংসের ৪৯তম ওভারে রুবেল হোসেন বোল্ড করেন রশিদ খানকে। শেষ ওভারে আফগানদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৩ রান। তবে, তাসকিনের করা সেই ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিলেও দ্বিতীয় বলে এলবির ফাঁদে পড়েন মিরওয়াইস আশরাফ। তৃতীয় বলে এক রান নেয় সফরকারীরা। চতুর্থ বলে আরও দুই রান তুলে নেয় সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। পঞ্চম বলে লাইন মিস করে কোনো রান তুলে নিতে পারেননি দৌলত জাদরান। আর শেষ বলে জাদরানকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন।
সব মিলিয়ে ৮ ওভার বোলিং করে ৫৯ রানের বিনিময়ে তাসকিন নিয়েছেন চারটি উইকেট। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটাও স্মরণীয় করে রেখেছেন ডানহাতি এই পেসার।
ব্যাট হাতে ৪০ বলে ৪৮ আর বল হাতে ১০ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।
বাজে শটকেই হারার কারণ: আফগান দলপতি
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আফগান দলপতি আসগার স্টানিকজাই বলেন, “আমরা ভালোই খেলে যাচ্ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশ দল ভালো বোলিং করেছে। তাদের অভিজ্ঞতার কাছে আমরা হার মেনেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরাও মাঠে বেশ কিছু ভুল করেছি। আমাদের দুই সেট ব্যাটসম্যান বাজে শট খেলে আউট হয়েছে, আমরা শেষের দিকে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমরা সব বলেই মারমুখী হয়ে পড়েছিলাম। আশা করি সামনের ম্যাচে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেব।”
ক্যাচ মিসকে দুষলেন মাশরাফি
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আফগানিস্তান অসাধারণ খেলেছে। আমরা বেশ কয়েক মাস পর মাঠে নেমেছি। আমি আমাদের ক্যাচ মিসকেই দুষব। অনেক সহজ সুযোগ ছিল প্রথম থেকেই কিন্তু সেগুলো আমরা লুফে নিতে পারিনি। ফিল্ডিংয়ের শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে একটু জড়তা ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সাকিব এবং তাসকিন বল হাতে বেশ ভালোই করেছে। আমাদের ব্যাটিংও ভালো হয়েছে কিন্তু আমরা সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে পারিনি। অসময় সেট ব্যাটসম্যান আউট হওয়ায় আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। এই উইকেটে খুব সহজেই আমরা ২৮০ রান করতে পারতাম। আশা করা যায় সামনের ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।”
তাসকিন ও রুবেল প্রসঙ্গে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, “আমি তাদের বোলিংয়ে সন্তুষ্ট। তাসকিন দুই দিন আগেই বল করার ছাড়পত্র পেয়েছে, তাকে একটু সময় দিতে হবে। রুবেলও ইনজুরি থেকে ফিরেছে, তারও একটু সময় লাগবে মানিয়ে নিতে।”
রেকর্ড গড়ার ম্যাচ
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য ছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার ম্যাচ। বাংলাদেশি হিসেবে তামিম ছুঁয়ে ফেলেছেন ৯০০০ হাজার আন্তর্জাতিক রান।
ব্যাট হাতে তামিম এই মাইলফলক স্পর্শ করার পর বল হাতে বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছুঁয়েছেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিরল রেকর্ড। ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো দেশের পক্ষে সব ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন সাকিব আল হাসান। সাকিবের পূর্বে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ১৫৩ ওয়ানডে ম্যাচে রাজ্জাক ২০৭ উইকেট শিকার করেন।
তবে ম্যাচ শেষে আফগানদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে নতুন রেকর্ড গড়লেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক এখন মাশরাফি। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট ৩১টি ম্যাচে জয় লাভ করেছে (২১ ওয়ানডে, ৯ টি-টোয়েন্টি, ১ টেস্ট)। মাশরাফির পূর্বে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩০টি ম্যাচ।
পার্সটুডে/এআর/২৬