হান্নান শাহ’র প্রতি বিএনপি নেতা কর্মীদের শ্রদ্ধা; শুক্রবার নিজ গ্রামে দাফন
-
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুম হান্নান শাহ\'র নামাজে জানাযা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখা ও শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীসহ তার শুভাকাঙ্ক্ষিরা।
এর আগে, কার্যালয়ের সামনে তার তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক।
জানাজার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে হান্নান শাহ ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। ওয়ান ইলেভেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক নেতা সরকারের চাপে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও, নিজের জীবন বিপন্ন করে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। জেল-জুলুম, হুমকি-ধামকিতেও তিনি অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। তার এই চলে যাওয়া কেবল বিএনপির রাজনীতিতে নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল এক শূন্যতা সৃষ্টি করল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে হান্নান শাহ অনেকবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। তার মতো নেতা দলের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। বড় অসময়ে তিনি চলে গেলেন। তার এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হান্নান শাহ গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক ছিলেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওয়ান ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময় তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। আমি বিশ্বাস করি- হান্নান শাহ যে আদর্শ রেখে গেছেন, সে আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
জানাজার পর বিএনপির পক্ষ থেকে হান্নান শাহ’র মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। এরপর একে একে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে হান্নান শাহ’র মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে সকালে মহাখালী ডিওএইচএস মসজিদে প্রথম জানাজা ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হয় হান্নান শাহ’র মরদেহ।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হান্নান শাহ'র দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, জাতীয় জাতীয় সংসদের পক্ষে প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে বিরোধীদলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর।
জানাজায় অংশ নেন- আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক, মেজর জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), নাজিমুদ্দিন আলম, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শাহ জাফর, আলমগীর কবীরসহ দলীয় নেতারা। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজায় শরীক হন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় মহাখালী ডিওএইচএস জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক, বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলমসহ বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও আত্মীয়-স্বজন।
শুক্রবার সকালে হান্নান শাহ’র মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের মরচুয়ারি থেকে নেয়া হবে নিজ জেলা গাজীপুরে। সেখানে আরও দুই দফা জানাজা শেষে কাপাসিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। মঙ্গলবার ভোরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। হান্নান শাহ হৃদরোগে ভুগছিলেন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৯