শাসক গোষ্ঠী বিরোধীদলের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
-
বিএনপি\'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, “বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার একদিকে নেতা-কর্মীদের হত্যা, গুম, অপহরণ আর রিমান্ডের নামে নির্যাতন করছে; অন্যদিকে বিরোধীদলের প্রধান নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে নিক্ষেপ করছে।”
গত শনিবার রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাভার পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম নয়নকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ (রোববার) দুপুরে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে দলের মহাসচিব বলেন, “বিএনপি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার দাবিতে যখন দেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তখন বর্তমান শাসক গোষ্ঠী বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি তার ভাষায় বলেন, “দেশে বর্তমানে আইনের শাসন এবং জনগণের নিকট কোনো জবাবদিহিতা নেই বলেই গায়ের জোরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীরা দেশকে বিরোধীদলশূন্য করার জন্য এবং চিরকাল ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে দলীয় সন্ত্রাসীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।”
এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাভার পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলমকে ‘হত্যার’ নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, “বন্দুকযুদ্ধের নামে পৈশাচিকভাবে হত্যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেশা ও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে অব্যাহতভাবে হত্যা করছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দেশের কোনো মানুষই এখন নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না।”
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দুদু জানান, গত নয় মাসে দেশে ১৭৮ জনকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার নেত্রকোণা জেলা বিএনপি'র কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সশস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপি'র এই নেতা অভিযোগ করেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের লেশমাত্র নেই। মৌলিক ও মানবাধিকার আগেই ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। আইন-আদালতও শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে।”
তিনি বলেন, “হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির চর্চা করে সরকার দেশের সব বিরুদ্ধ মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা শুধু বিএনপিই নয়, সরকারের সমালোচনা করার জন্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ নাগরিক সমাজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ। গণমাধ্যমও সরকারি রোষানলের বাইরে নয়। যারাই সরকারের অপশাসন, দুঃশাসন, দুর্নীতির সমালোচনা করছে, সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাদের নাজেহাল করছে।”#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২