মুক্তির পর দুঃখ প্রকাশ করলেন মাশরাফির সেই ভক্ত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i21808-মুক্তির_পর_দুঃখ_প্রকাশ_করলেন_মাশরাফির_সেই_ভক্ত
নিরাপত্তাবেষ্টনি ভেঙে মাঠে ঢুকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জড়িয়ে ধরা সেই তরুণ ও তার তিন বন্ধুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অসৎ কোনো উদ্দেশ‌্যের প্রমাণ না পাওয়ায় রোববার রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
অক্টোবর ০২, ২০১৬ ২১:৪৪ Asia/Dhaka
  • মুক্তির পর দুঃখ প্রকাশ করলেন মাশরাফির সেই ভক্ত

নিরাপত্তাবেষ্টনি ভেঙে মাঠে ঢুকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জড়িয়ে ধরা সেই তরুণ ও তার তিন বন্ধুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অসৎ কোনো উদ্দেশ‌্যের প্রমাণ না পাওয়ায় রোববার রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল জানান, মেহেদী হাসান ও তার বন্ধুদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তারা কী তথ্য দিয়েছেন, কোনো অভিযোগ দায়ের হচ্ছে কি না অথবা ছেড়ে দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান নি তিনি।

থানা থেকে বাসায় ফেরার পর মেহেদী হাসান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। সুস্থ এবং নিরাপদে বাসায় ফিরে আসতে পারছি। আমাকে বাসায় ফিরে আসতে যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না আমি।”

খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামে মেহেদী হাসান ও তার বন্ধুরা

আরেক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আমি জানি আমার গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে গিয়ে মাশরাফি ভাইকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরায় মাঠের আইন ভঙ্গ হয়েছে। আর এই ঘটনাটি আমার অতিরিক্ত আবেগবশত ঘটেছে। আমার এই কাজটা করার পর যে BCB আর পুলিশ ভাইদের এমন চরম ভোগান্তি হবে, তা আমার জানা ছিল না।  আমি BCB আর পুলিশ ভাইদের আছে অনেক দুঃখিত।”

স্ট্যাটাসের একাংশে তিনি তার কারণে যেসব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত হয়েছেন তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ চলার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হঠাৎ দৌঁড়ে মাঠে ঢুকে পড়েন মেহেদী হাসান। দৌঁড়ে মাশরাফির কাছে যান ওই ভক্ত। তখন ২৮ দশমিক ২ ওভারের খেলা চলছিল। বল করছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। 

নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে মেহেদীকে বুকে টেনে নিয়েছেন মাশরাফি

নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ঢুকে ভক্তকে আটক করার চেষ্টা করেন। তবে মাশরাফি তাকে জড়িয়ে ধরে নিরাপত্তাকর্মীদের হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই ভক্তকে মাঠ থেকে বাইরে নিয়ে যান। এ সময় খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে মেহেদীকে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা নিয়ে যায়। সে সময়ে বলা হয়েছিল, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মাশরাফির এই ভক্তের পাগলামোর বিষয়টি 'টক অব দ্য কান্ট্রি'তে পরিণত হয়। তবে শনিবার রাতে পাগলামির খেসারত দিতে তাকে রোববার রাত পর্যন্ত মিরপুর মডেল থানা হাজতে থাকতে হয়। শুধু মেহেদী একা নন, তার আরও তিন বন্ধুকেও একই খেসারত দিতে হয়।
 

মেহেদীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

জানা গেছে, মাশরাফি-ভক্ত মেহেদী হাসান ইউনাইডেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সে অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। তার বাড়ি সাভার। মেহেদীর সঙ্গে থানা হাজতে থাকা তিন বন্ধু হলেন- আবীর হোসেন, তানভীর আহমেদ মারুফ ও আয়মান আসিফ রাফি। এর মধ্যে আবীর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আর মারুফ ও রাফি এসএইচসি পাসের পর বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল খেলা শেষে সাংবাদিকদের কাছে মাশরাফি বলেন, "শুরুতে একটু ভড়কে গিয়েছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল ৪-৫ জন ছুটে আসছে। পরে ছেলেটি কাছে এসে বলল, সে আমার ভক্ত। আমি নিরাপত্তারক্ষীদের বলছিলাম, যাতে ছেলেটির সমস্যা নয় হয়। আশা করব, তার কোনো সমস্যা হবে না।"

তবে খেলা চলার সময় মাঠে প্রবেশের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয় বলে জানা গেছে।#

পার্সটুডে/এআর/৩